আমদানির পরও কমছে না চালের দাম
jugantor
আমদানির পরও কমছে না চালের দাম
ভারত থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে আরও ২৯ হাজার মেট্রিক টন

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

০৩ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানির পরও কমছে না দাম। চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মিলাররা কারসাজি করে মজুত করছে চাল। কমিয়ে দিয়েছে সরবরাহ। এ কারণে দাম কমছে না। এদিকে সরকার ভারত থেকে আরও ২৯ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করেছে। শনিবার ভারত থেকে আসা চালবাহী জাহাজটি রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল। খাদ্য বিভাগ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। চট্টগ্রামে চালের পাইকারি বাজার খ্যাত চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলীর ব্যবসায়ীরা জানান, চালের বাজার এখনো অস্থির। দাম এক দফা কমে তো দুই দফা বাড়ে। গত কয়েক দিন ধরে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। নতুন করে সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দাম বাড়ায় বরাবরের মতো খুচরা আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা দুষছেন মিলারদের। আর মিলাররা ভারতের চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক বাড়ানোকে অজুহাত হিসাবে দাঁড় করিয়েছেন। জানা গেছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বৃদ্ধি করতে ভাঙা চাল (খুদ) রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে বাসমতি ও সেদ্ধ চাল ছাড়া অন্য চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে দেশটি। মূলত আতপ চাল রপ্তানিতে এই শুল্ক বসিয়েছে ভারত। অথচ দেশের বাজারে সব চালের দামই বাড়ানো হয়েছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী পাইকারি চালের বাজারে বস্তাপ্রতি চালে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে মিনিকেট তিন হাজার ৬০০ টাকা, বিআর-২৮ জাতের চাল ২০০ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৮০০ টাকা, স্বর্ণা প্রতি বস্তায় ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৭০০ টাকা, ১০০ টাকা বেড়ে নাজিরশাইল তিন হাজার ৭০০ টাকা, ১০০ টাকার বেশি বেড়ে পাইজাম দুই হাজার ৯০০ ও মোটা আতপ দুই হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে খুচরা বাজারে মোটা চালের কেজি (স্বর্ণা ও লতা) তিন টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, কেজিতে দুই টাকা বেড়ে বিআর-২৮ জাতের চাল ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং চিকন চাল (মিনিকেট) ৭৪ টাকা থেকে ৭৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া নাজিরশাইল কেজিতে তিন টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দরে। যদিও কিছু দিন আগে চালের দাম সামান্য কমতির দিকে ছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চালের বাজার এখন চড়া হওয়ার কথা নয়, কিন্তু মিলারদের কারসাজির কারণে তাই হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে জিরাশাইল সিদ্ধ, নাজিরশাইল সিদ্ধ, স্বর্ণা সিদ্ধ, পাইজাম সিদ্ধ, মিনিকেট সিদ্ধ, মিনিকেট আতপ, কাটারিভোগ সিদ্ধ, কাটারিভোগ আতপ, বেতি আতপ ও মোটা সিদ্ধের দাম বস্তায় সর্বোচ্চ ১৫০ টাকার বেশি বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির আশায় মিলাররা বাজারে চাল বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে বাজারে চালের কিছুটা কৃত্রিম সংকট হচ্ছে। এ কারণে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

জিটুজি-এর আওতায় সরকার ভারত থকে আবারও ২৯ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করেছে। শনিবার চালবাহী জাহাজ ‘এমভি ভিয়েট থিয়ান‘ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য বিভাগ এখনো কাস্টমসের কাগজপত্র প্রস্তুত করতে পারেনি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কাগজপত্র প্রস্তুত করা হবে। তাছাড়া সাগরে লঘুচাপ থাকায় এই জাহাজ থেকে চালের নমুনা সংগ্রহে যেতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে সাগরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। নমুনার প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই জাহাজ থেকে খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে। চট্টগ্রাম চলাচল ও সংরক্ষণ কার্যালয়ের উপ-নিয়ন্ত্রক সুনীল দত্ত যুগান্তরকে জানান, ভারত থেকে চাল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসেছে। সব প্রক্রিয়া শেষে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে চাল খালাস শুরু হবে।

আমদানির পরও কমছে না চালের দাম

ভারত থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে আরও ২৯ হাজার মেট্রিক টন
 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
০৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানির পরও কমছে না দাম। চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মিলাররা কারসাজি করে মজুত করছে চাল। কমিয়ে দিয়েছে সরবরাহ। এ কারণে দাম কমছে না। এদিকে সরকার ভারত থেকে আরও ২৯ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করেছে। শনিবার ভারত থেকে আসা চালবাহী জাহাজটি রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল। খাদ্য বিভাগ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। চট্টগ্রামে চালের পাইকারি বাজার খ্যাত চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলীর ব্যবসায়ীরা জানান, চালের বাজার এখনো অস্থির। দাম এক দফা কমে তো দুই দফা বাড়ে। গত কয়েক দিন ধরে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। নতুন করে সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দাম বাড়ায় বরাবরের মতো খুচরা আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা দুষছেন মিলারদের। আর মিলাররা ভারতের চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক বাড়ানোকে অজুহাত হিসাবে দাঁড় করিয়েছেন। জানা গেছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বৃদ্ধি করতে ভাঙা চাল (খুদ) রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে বাসমতি ও সেদ্ধ চাল ছাড়া অন্য চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে দেশটি। মূলত আতপ চাল রপ্তানিতে এই শুল্ক বসিয়েছে ভারত। অথচ দেশের বাজারে সব চালের দামই বাড়ানো হয়েছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী পাইকারি চালের বাজারে বস্তাপ্রতি চালে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে মিনিকেট তিন হাজার ৬০০ টাকা, বিআর-২৮ জাতের চাল ২০০ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৮০০ টাকা, স্বর্ণা প্রতি বস্তায় ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৭০০ টাকা, ১০০ টাকা বেড়ে নাজিরশাইল তিন হাজার ৭০০ টাকা, ১০০ টাকার বেশি বেড়ে পাইজাম দুই হাজার ৯০০ ও মোটা আতপ দুই হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে খুচরা বাজারে মোটা চালের কেজি (স্বর্ণা ও লতা) তিন টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, কেজিতে দুই টাকা বেড়ে বিআর-২৮ জাতের চাল ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং চিকন চাল (মিনিকেট) ৭৪ টাকা থেকে ৭৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া নাজিরশাইল কেজিতে তিন টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দরে। যদিও কিছু দিন আগে চালের দাম সামান্য কমতির দিকে ছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চালের বাজার এখন চড়া হওয়ার কথা নয়, কিন্তু মিলারদের কারসাজির কারণে তাই হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে জিরাশাইল সিদ্ধ, নাজিরশাইল সিদ্ধ, স্বর্ণা সিদ্ধ, পাইজাম সিদ্ধ, মিনিকেট সিদ্ধ, মিনিকেট আতপ, কাটারিভোগ সিদ্ধ, কাটারিভোগ আতপ, বেতি আতপ ও মোটা সিদ্ধের দাম বস্তায় সর্বোচ্চ ১৫০ টাকার বেশি বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির আশায় মিলাররা বাজারে চাল বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে বাজারে চালের কিছুটা কৃত্রিম সংকট হচ্ছে। এ কারণে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

জিটুজি-এর আওতায় সরকার ভারত থকে আবারও ২৯ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করেছে। শনিবার চালবাহী জাহাজ ‘এমভি ভিয়েট থিয়ান‘ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য বিভাগ এখনো কাস্টমসের কাগজপত্র প্রস্তুত করতে পারেনি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কাগজপত্র প্রস্তুত করা হবে। তাছাড়া সাগরে লঘুচাপ থাকায় এই জাহাজ থেকে চালের নমুনা সংগ্রহে যেতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে সাগরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। নমুনার প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই জাহাজ থেকে খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে। চট্টগ্রাম চলাচল ও সংরক্ষণ কার্যালয়ের উপ-নিয়ন্ত্রক সুনীল দত্ত যুগান্তরকে জানান, ভারত থেকে চাল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসেছে। সব প্রক্রিয়া শেষে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে চাল খালাস শুরু হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন