পীরগঞ্জে গ্যাস পাইপ স্থাপন কাজ আটকে দিয়েছে কৃষক
jugantor
ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ক্ষুব্ধ
পীরগঞ্জে গ্যাস পাইপ স্থাপন কাজ আটকে দিয়েছে কৃষক

  পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি  

০৩ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পীরগঞ্জে ফসলের ক্ষতিপূরণ এবং জমির ভাড়ার টাকা না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা গ্যাসের পাইপলাইন স্থাপন কাজ আটকে দিয়েছেন। উপজেলার চেরাগপুর গ্রামে ওই ঘটনায় শনিবার বিকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ গেলে এলাকাবাসী আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আজ চেরাগপুরে গ্রামবাসীদের প্রতিবাদসভা হবে।

জানা যায়, সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পে দেড়শ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন কাজ কয়েকটি প্যাকেজে চলছে। পীরগঞ্জের কাবিলপুর, রামনাথপুর, রায়পুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে জমি খনন করে গ্যাস পাইপ বসানো হয়েছে। এতে পাইপ স্থাপনে ২৬ ফুট জমি অধিগ্রহণ, খনন করা মাটি রাখার জন্য উভয় পাশে ২৫ ফুট করে ৫০ ফুট জমি ভাড়া এবং ফসলের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার কথা। শুরু থেকেই কৃষক তাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একাধিক বৈঠক করলেও বছরখানেক পরও কেউই টাকা পাননি। টাকা পেতে দেড় শতাধিক মানুষ গণস্বাক্ষর দিয়ে একটি আবেদন জেলা প্রশাসককে দিয়েছেন। এদিকে সমস্যা নিরসনে ব্যর্থ হওয়ায় পীরগঞ্জ এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাউন্ড্রি লিমিটেড কৃষকদের বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছে।

ভুক্তভোগীদের একজন জমির মালিক আব্দুল মন্ডল বলেন, পুলিশ দিয়ে আমাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। টাকা ছাড়া আমরা জমিতে কাজ করতে দেব না। সেই সঙ্গে গত ইরি ধান, পটোল, আলু, পেঁপেসহ অন্যান্য ফসল, গাছপালা, বাড়ি-অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের টাকা চাই। পাশাপাশি জমির ভাড়ার টাকা পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েক মাস আগে গণস্বাক্ষর দিয়েছি, আবেদন দিয়েছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

রামনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রেজাউল করিম, জমি মালিক আব্দুর রশিদ, হাফিজার রহমান, রাশেদুল ইসলাম, জুয়েল মিয়া বলেন, গ্যাস লাইনের পাইপ স্থাপনে সরকার প্রস্থে ২৬ ফুট জমি অধিগ্রহণে নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু মাটি রাখার জন্য উভয় পাশে ৫০ ফুট জমির ফসলের ক্ষতিপূরণ এবং ভাড়ার টাকা না দিয়েই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করায় আমরা বাধা দিয়েছি। সেই সঙ্গে আমাদেরকে পুলিশ দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোয় আমরা সোমবার গ্রামে প্রতিবাদসভা করব।

ফাউন্ড্রি লিমিটেডের ম্যানেজার শাহরিয়ার হোসেন বলেন, সরকারের বিটিসিএল-এর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ এবং ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কিন্তু জমির মালিকরা আমাদের কাজ করতে দিচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা কৃষি বিভাগের কাছ থেকে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ জেনে সেই মূল্য কৃষকদের দেব। সেটি পর্যায়ক্রমে হবে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল বলেন, চেরাগপুরের ঘটনাটি দেখার জন্য পুলিশ পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ বা মামলা করেনি।

ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ক্ষুব্ধ

পীরগঞ্জে গ্যাস পাইপ স্থাপন কাজ আটকে দিয়েছে কৃষক

 পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 
০৩ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পীরগঞ্জে ফসলের ক্ষতিপূরণ এবং জমির ভাড়ার টাকা না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা গ্যাসের পাইপলাইন স্থাপন কাজ আটকে দিয়েছেন। উপজেলার চেরাগপুর গ্রামে ওই ঘটনায় শনিবার বিকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ গেলে এলাকাবাসী আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আজ চেরাগপুরে গ্রামবাসীদের প্রতিবাদসভা হবে।

জানা যায়, সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পে দেড়শ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন কাজ কয়েকটি প্যাকেজে চলছে। পীরগঞ্জের কাবিলপুর, রামনাথপুর, রায়পুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে জমি খনন করে গ্যাস পাইপ বসানো হয়েছে। এতে পাইপ স্থাপনে ২৬ ফুট জমি অধিগ্রহণ, খনন করা মাটি রাখার জন্য উভয় পাশে ২৫ ফুট করে ৫০ ফুট জমি ভাড়া এবং ফসলের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার কথা। শুরু থেকেই কৃষক তাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একাধিক বৈঠক করলেও বছরখানেক পরও কেউই টাকা পাননি। টাকা পেতে দেড় শতাধিক মানুষ গণস্বাক্ষর দিয়ে একটি আবেদন জেলা প্রশাসককে দিয়েছেন। এদিকে সমস্যা নিরসনে ব্যর্থ হওয়ায় পীরগঞ্জ এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাউন্ড্রি লিমিটেড কৃষকদের বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছে।

ভুক্তভোগীদের একজন জমির মালিক আব্দুল মন্ডল বলেন, পুলিশ দিয়ে আমাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। টাকা ছাড়া আমরা জমিতে কাজ করতে দেব না। সেই সঙ্গে গত ইরি ধান, পটোল, আলু, পেঁপেসহ অন্যান্য ফসল, গাছপালা, বাড়ি-অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের টাকা চাই। পাশাপাশি জমির ভাড়ার টাকা পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েক মাস আগে গণস্বাক্ষর দিয়েছি, আবেদন দিয়েছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

রামনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রেজাউল করিম, জমি মালিক আব্দুর রশিদ, হাফিজার রহমান, রাশেদুল ইসলাম, জুয়েল মিয়া বলেন, গ্যাস লাইনের পাইপ স্থাপনে সরকার প্রস্থে ২৬ ফুট জমি অধিগ্রহণে নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু মাটি রাখার জন্য উভয় পাশে ৫০ ফুট জমির ফসলের ক্ষতিপূরণ এবং ভাড়ার টাকা না দিয়েই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করায় আমরা বাধা দিয়েছি। সেই সঙ্গে আমাদেরকে পুলিশ দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোয় আমরা সোমবার গ্রামে প্রতিবাদসভা করব।

ফাউন্ড্রি লিমিটেডের ম্যানেজার শাহরিয়ার হোসেন বলেন, সরকারের বিটিসিএল-এর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ এবং ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কিন্তু জমির মালিকরা আমাদের কাজ করতে দিচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা কৃষি বিভাগের কাছ থেকে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ জেনে সেই মূল্য কৃষকদের দেব। সেটি পর্যায়ক্রমে হবে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল বলেন, চেরাগপুরের ঘটনাটি দেখার জন্য পুলিশ পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ বা মামলা করেনি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন