বিকৃত রুচির কারণে স্ত্রী-সাবেক স্বামী ও মেয়ের হাতে খুন
jugantor
কামরাঙ্গীরচরে পুরুষাঙ্গ কাটা অর্ধগলিত লাশ
বিকৃত রুচির কারণে স্ত্রী-সাবেক স্বামী ও মেয়ের হাতে খুন

  পুরান ঢাকা প্রতিনিধি  

০৪ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের একটি বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ভিক্ষুক ফজল মিয়ার অর্ধগলিত লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার স্ত্রী ফাতেমা খাতুনও তার প্রথম স্বামী গাজী রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা জানায়, পালিত কন্যাকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে জবরদস্তি, হুমকি ও মারধর করায় ক্ষুব্ধ স্ত্রী, সাবেক স্বামী ও পালিত কন্যা মিলে ঘুমের ওষুধ সেবন ও বালিশচাপায় হত্যার পর পুরুষাঙ্গ কেটে জানালা দিয়ে ফেলে দেয়। সোমবার বিকালে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার জাফর আলম নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে কামরাঙ্গীরচরের হাসাননগর ৯ নম্বর গলির ফেরদৌসী ভিলা থেকে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া ফজল মিয়ার (৫০) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। লাশের সুরতহাল করতে গিয়ে দেখা যায়, অজ্ঞাতনামা আসামিরা ভিকটিমের গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে এবং পুরুষাঙ্গ কেটে জানালা দিয়ে ফেলে দেয়। পরে নিহত ব্যক্তির স্বজনদের খবর দিলে তার ছোট ভাই সাজু মিয়া বাদী হয়ে হত্যা মামলা করে। মামলা রুজুর পরপরই ফজল মিয়ার পলাতক স্ত্রী ফাতেমা খাতুনকে খোঁজা শুরু হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানা এলাকা থেকে ফাতেমাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফজল মিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করে স্ত্রী ফাতেমা।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফজল মিয়ার পঞ্চম স্ত্রী ফাতেমা আর তিনি ফাতেমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী। ফজল মিয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরে ভিক্ষাবৃত্তি করত। গ্রেফতার ফাতেমার সাবেক স্বামী গাজী রহমান ও ফজল মিয়া একসঙ্গে মোহাম্মদপুর এলাকায় ভিক্ষা করত। সেই পরিচয়ের সূত্রে তারা দুই বছর আগে বিয়ে করে। বিয়ের পর ফাতেমা তার আগের পক্ষের দুই মেয়েকে নিয়ে ফজলের সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরের ওই বাসায় থাকত। ওই সময় ফজল ফাতেমার প্রথম পক্ষের মেয়ে মিতুকে (১৩) যৌন হয়রানি করত। এ বিষয়ে তাকে বারবার নিষেধ করা হলেও সে কর্ণপাত না করে অনৈতিক কামনা চরিতার্থ করতে চেষ্টা চালাতে থাকে। ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় ফাতেমা বাসার বাইরে গেলে ফজল মিয়া পালক কন্যা মিতুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে জবরদস্তি করলে ফাতেমা তা দেখতে পেয়ে স্বামীকে ভর্ৎসনা করে। এতে ফজল মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ফাতেমা খাতুন ও তার মেয়েকে মারধর করে। এ সময় সৎমেয়ে মিতুকে ধর্ষণের হুমকি দেয়। এর প্রেক্ষিতে ফাতেমা খাতুন মামলা করার কথা বললে ফজল মিয়া বলে, সে প্রতিবন্ধী, ধর্ষণের বিষয় কোর্ট এবং পুলিশ তার কিছুই করবে না। এরপর ফাতেমা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দুধের সঙ্গে ৪-৫টা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ফজল মিয়াকে খেতে দেয়। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ঘুমিয়ে পড়লে ফাতেমা খাতুন তার প্রথম স্বামী গাজী রহমানকে ফোন করে ডেকে আনেন। এরপর ঘুমন্ত স্বামীর হাত-পা গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে সে। গাজী তার বুক চেপে ধরে এবং মেয়ে মিতু ফজলের মুখে বালিশচাপা দিলে তার মৃত্যু হয়। পরে ফাতেমা ব্লেড দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে জানালা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর তারা ঘরের দরজা তালাবদ্ধ করে সেখান থেকে চলে যায়।

কামরাঙ্গীরচরে পুরুষাঙ্গ কাটা অর্ধগলিত লাশ

বিকৃত রুচির কারণে স্ত্রী-সাবেক স্বামী ও মেয়ের হাতে খুন

 পুরান ঢাকা প্রতিনিধি 
০৪ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের একটি বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ভিক্ষুক ফজল মিয়ার অর্ধগলিত লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার স্ত্রী ফাতেমা খাতুনও তার প্রথম স্বামী গাজী রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা জানায়, পালিত কন্যাকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে জবরদস্তি, হুমকি ও মারধর করায় ক্ষুব্ধ স্ত্রী, সাবেক স্বামী ও পালিত কন্যা মিলে ঘুমের ওষুধ সেবন ও বালিশচাপায় হত্যার পর পুরুষাঙ্গ কেটে জানালা দিয়ে ফেলে দেয়। সোমবার বিকালে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার জাফর আলম নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে কামরাঙ্গীরচরের হাসাননগর ৯ নম্বর গলির ফেরদৌসী ভিলা থেকে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া ফজল মিয়ার (৫০) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। লাশের সুরতহাল করতে গিয়ে দেখা যায়, অজ্ঞাতনামা আসামিরা ভিকটিমের গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে এবং পুরুষাঙ্গ কেটে জানালা দিয়ে ফেলে দেয়। পরে নিহত ব্যক্তির স্বজনদের খবর দিলে তার ছোট ভাই সাজু মিয়া বাদী হয়ে হত্যা মামলা করে। মামলা রুজুর পরপরই ফজল মিয়ার পলাতক স্ত্রী ফাতেমা খাতুনকে খোঁজা শুরু হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানা এলাকা থেকে ফাতেমাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফজল মিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করে স্ত্রী ফাতেমা।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফজল মিয়ার পঞ্চম স্ত্রী ফাতেমা আর তিনি ফাতেমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী। ফজল মিয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরে ভিক্ষাবৃত্তি করত। গ্রেফতার ফাতেমার সাবেক স্বামী গাজী রহমান ও ফজল মিয়া একসঙ্গে মোহাম্মদপুর এলাকায় ভিক্ষা করত। সেই পরিচয়ের সূত্রে তারা দুই বছর আগে বিয়ে করে। বিয়ের পর ফাতেমা তার আগের পক্ষের দুই মেয়েকে নিয়ে ফজলের সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরের ওই বাসায় থাকত। ওই সময় ফজল ফাতেমার প্রথম পক্ষের মেয়ে মিতুকে (১৩) যৌন হয়রানি করত। এ বিষয়ে তাকে বারবার নিষেধ করা হলেও সে কর্ণপাত না করে অনৈতিক কামনা চরিতার্থ করতে চেষ্টা চালাতে থাকে। ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় ফাতেমা বাসার বাইরে গেলে ফজল মিয়া পালক কন্যা মিতুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে জবরদস্তি করলে ফাতেমা তা দেখতে পেয়ে স্বামীকে ভর্ৎসনা করে। এতে ফজল মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ফাতেমা খাতুন ও তার মেয়েকে মারধর করে। এ সময় সৎমেয়ে মিতুকে ধর্ষণের হুমকি দেয়। এর প্রেক্ষিতে ফাতেমা খাতুন মামলা করার কথা বললে ফজল মিয়া বলে, সে প্রতিবন্ধী, ধর্ষণের বিষয় কোর্ট এবং পুলিশ তার কিছুই করবে না। এরপর ফাতেমা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দুধের সঙ্গে ৪-৫টা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ফজল মিয়াকে খেতে দেয়। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ঘুমিয়ে পড়লে ফাতেমা খাতুন তার প্রথম স্বামী গাজী রহমানকে ফোন করে ডেকে আনেন। এরপর ঘুমন্ত স্বামীর হাত-পা গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে সে। গাজী তার বুক চেপে ধরে এবং মেয়ে মিতু ফজলের মুখে বালিশচাপা দিলে তার মৃত্যু হয়। পরে ফাতেমা ব্লেড দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে জানালা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর তারা ঘরের দরজা তালাবদ্ধ করে সেখান থেকে চলে যায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন