আলোচনার কেন্দ্রে সাদিক

আ’লীগের মনোনয়নের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো ১৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। ফাইল ছবি

সিটি নির্বাচন প্রশ্নে বরিশালে এখন আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী দলের মহানগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

কেবল আওয়ামী লীগ-বিএনপিই নয়, সাধারণ মানুষেরও অপেক্ষা ২২ জুনের। কেননা ওইদিন ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার কথা ক্ষমতাসীন দলের।

ভোটারদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সাদিকের মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। সাদিক আবদুল্লাহ মনোনয়ন পেলে বিএনপির জায়ান্ট নেতা সাবেক মেয়র ও হুইপ দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার মেয়র পদে প্রার্থী হবেন না এমন গুঞ্জন শুরু থেকেই। আর তেমন হলে বিএনপির ভোটের ঘাঁটি বরিশালে বিজয় প্রশ্নে সাদিককে ঠেকানো হবে মুশকিল। অ

পরদিকে সাদিক মনোনয়ন না পেলে এখানে হয়তো প্রার্থী হবেন সরোয়ার। সেক্ষেত্রে অনেকটা নির্বিঘ্নে জয় পেয়ে যাবে বিএনপি। এদিকে সোমবার বরিশালে বর্ধিত সভা করে সাদিক আবদুল্লাহকে দলীয় মেয়র প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ। পরে মহানগরের এই সিদ্ধান্তের প্রতি একাত্মতা ও পূর্ণ সমর্থন দেয় আওয়ামী লীগের জেলা কমিটি।

মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল জানান, ‘জেলা ও মহানগরের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রস্তাবাকারে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে দাবি জানানো হবে সাদিক আবদুল্লাহকে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার।’

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী আগামী ২৮ জুনের মধ্যে মনোনয়ন দাখিল করতে হবে প্রার্থীদের। নির্বাচনী এই তফসিল অনুযায়ী দলীয় মনোনয়ন প্রার্থীদের আবেদন জমা নেয়া, সাক্ষাৎ এবং প্রার্থী ঘোষণার জন্য ২২ জুনের ডেডলাইন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি অবশ্য এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেয়নি।

মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেন, ‘খুলনা সিটি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি এবং ভোট ডাকাতির বিষয়টি সামনে রেখে সাবধানে এগুচ্ছে বিএনপি। এখানে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কে পায় মূলত সেটির দিকেই নজর এখন নেতাদের। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। বরিশালে সাদিক আবদুল্লাহর পাশাপাশি কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামিম নামে আরও একজন দলীয় মনোনয়ন চাইলেও এখানে নেতা-কর্মীদের মধ্যে তার তেমন কোনো অবস্থান নেই। দল এবং সমর্থন সবকিছুই একচেটিয়াভাবে সাদিকের নিয়ন্ত্রণে।’

বিএনপি নেতাদের মতে, ‘সাদিক মনোনয়ন পেলে কেবল মহানগরই নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের নেতা-কর্মীরা এসে ভিড় জমাবে বরিশালে। সাদিক তথা তার বাবা সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর জন্য হলেও নির্বাচনী মাঠে জানপ্রাণ দিয়ে খাটবে তারা। কেননা বরিশালের ৬ জেলা আর ৪২ উপজেলার প্রায় সর্বত্রই রয়েছে হাসানাত আবদুল্লাহর অগণিত অনুসারী। আর সাদিক মনোনয়ন না পেলে সেক্ষেত্রে বাইরের জেলা উপজেলা তো দূরের কথা, নগরীর নেতা-কর্মীরাও মাঠে নামবে কিনা সন্দেহ। কেননা তখন একদিকে থাকবে পছন্দের নেতার মনোনয়ন না পাওয়ার কষ্ট তেমনি সেরনিয়াবাত পরিবারের বিরুদ্ধে না যাওয়ার বিশ্বস্ততা। সেরকম পরিস্থিতিতে এখানে হয়তো খুব সহজেই জিতে যাবে বিএনপি। আর সেজন্যই বিলম্বিত হচ্ছে এই সিটিতে বিএনপির মনোনয়ন দেয়ার প্রক্রিয়া।’

চলমান বাস্তবতায় যেন সাদিকের মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়ার ওপরই নির্ভর করছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের অনেক কিছু। ভোটের ঘাঁটি বরিশালে বিএনপির প্রায় হাফ ডজন নেতা মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও তারাও যেন অপেক্ষায় আছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণার।

পরিচয় না প্রকাশের শর্তে এরকম একজন প্রার্থী যুগান্তরকে বলেন, ‘সাদিক আবদুল্লাহ মনোনয়ন না পেলে বরিশালে সিটি নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিতভাবে যাবে বিএনপির ঘরে। আর সাদিক পেলে হবে কঠিন লড়াই। যদিও বরিশালে সিটি নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপির ভোটের পাল্লা আওয়ামী লীগের তুলনায় প্রায় ৩০-৩৫ হাজার বেশি কিন্তু তারপরও সাদিকের নির্বাচনে নামা মানে লড়াইটা জটিল হয়ে যাওয়া। কেননা দল ক্ষমতায় থাকার সুবিধাটুকু পাওয়ার পাশাপাশি সাদিক যেহেতু বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য ও আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পুত্র তাই বিষয়টি হয়ে দাঁড়াবে চরম মর্যাদার। সেই মর্যাদা কোনোভাবেই হারাতে চাইবে না আওয়ামী লীগ।’

মনোনয়ন প্রশ্নে চলমান এসব বিচার-বিশ্লেষণ প্রশ্নে জানতে যোগাযোগ করা হলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএমএ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘নির্বাচন বরিশাল মহানগরীর। এখানে কে প্রার্থী হবেন বা না হবেন তা পছন্দ করার অধিকারও মহানগরের। নগরীর ৩০ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ তথা দলের যে কোনো উইংয়ের একজন নেতা-কর্মীও যদি সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়নের বিরোধিতা করে তাহলে দায়িত্ব নিয়ে বলছি আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। হ্যাঁ, বিরোধিতা আছে তবে তা সাদিকের নয়, ’৭৫-এর কালরাতের পর যারা বঙ্গবন্ধু পরিবার তথা হাসানাত আবদুল্লাহর বিরোধিতা করেছে, ওয়ান ইলেভেনের সময় যারা মাইনাস টু ফর্মুলায় গিয়ে জননেত্রী তথা তার পরিবারের বিরোধিতায় নেমেছিল তারাই মূলত ভেতরে ভেতরে সাদিকের বিরোধিতায় নেমেছে। সবচেয়ে বড় কথা বরিশালের পরিস্থিতি খুব ভালো করেই জানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বুঝে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন।’

নির্বাচনের মনোনয়ন এবং সমর্থন প্রশ্নে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘কে মনোনয়ন পাবেন বা না পাবেন তার সিদ্ধান্ত নেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে তা আমি মাথা পেতে নেব। যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে আমি তার পক্ষেই কাজ করব।’

সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়ন নিয়ে চলমান এসব আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘কাকে মনোনয়ন দেবে না দেবে সেটা আওয়ামী লীগের দলীয় ব্যাপার। এটা নিয়ে আমরা কেন মাথা ঘামাব? আমরা কেবল জানি যে ঐতিহাসিকভাবে এই সিটি কর্পোরেশন তথা বরিশাল সদর আসনে ৩০ থেকে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে সবসময় জয়ী হয়েছে বিএনপি। যদি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তাহলে এখানে জয়ী হব আমরা।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter