আলোচনায় আরিফ-কামরান

আওয়ামী লীগের কামরানসহ কেন্দ্রে যাচ্ছে ৫ নাম

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আবদুর রশিদ রেনু, সিলেট ব্যুরো

আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। গত নির্বাচনে নগর ভবনের হারানো সিংহাসন ফিরে পেতে দলীয় নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধ। জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করে শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চান তারা।

৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫ নেতার নাম কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ। সোমবার মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠক চলাকালে সিটি নির্বাচনের জন্য মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থিতার ঘোষণা দেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ার, অধ্যাপক জাকির হোসেন এবং শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ। এ প্রার্থিতা ঘোষণা করার পর প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলীয় মনোনয়ন চাওয়ায় বাকিদের তাদের সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন।

মিসবাহ সিরাজের আহ্বানে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন সরে গেলেও বাকি ২ জন সরেননি। শেষ পর্যন্ত সভায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫ নেতার নামই কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। যদিও কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক চিঠিতে মেয়র পদে মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে ৩ জনের নাম পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে আরও বেশি প্রার্থী মনোনয়ন চাইলে তাদের নামও পাঠানোর সুযোগ থাকায় ৫ জনের নামই যাচ্ছে কেন্দ্রে।

সভায় একই সঙ্গে সিলেট সিটি নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর এবং ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদে একক দলীয় প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মহানগর আওয়ামী লীগ। মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতেই সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ। যেসব ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে ইচ্ছুক তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী দেয়া হবে।

এছাড়া যেসব ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই সেখানেও প্রার্থী দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। কাউন্সিলর পদের জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে আজ সকাল ১০টার মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের দফতরে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নামের তালিকা পাঠানোরও নির্দেশ দেয়া হয়। কেউ চাইলে ব্যক্তিগতভাবেও মনোনয়ন চাইতে পারবেন।

আলোচনায় আরিফ-কামরান : এদিকে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নগরজুড়ে ফের আলোচনায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। গত নির্বাচনের মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী এবারও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামছেন কিনা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরান।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তবে এখনও দলীয় প্রার্থী ঘোষণা না করায় কারও মনোনয়ন নিশ্চিত নয়। এবারই প্রথম সিলেট সিটি নির্বাচন হবে দলীয় প্রতীকে। দীর্ঘ ১০ বছর পর নগরবাসী নৌকা বা ধানের শীষে ভোট দেবেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫ জন হলেও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এগিয়ে রয়েছেন। তবে বিএনপির মনোনয়ন লড়াইয়ে পিছিয়ে রয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তাকে চ্যালেঞ্জ করে মাঠে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম।

ঈদগাহে নির্বাচনী আমেজ : এবারের ঈদে সিলেটের শাহী ঈদগাহ ময়দানে ছিল নির্বাচনী আমেজ। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছিলেন ব্যস্ত। ঈদগাহের চারপাশে ছিল সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন। গণমাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রতিক্রিয়া জানাতেও ভুল করেননি সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

সিলেটের শাহী ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান। তারা ঈদগাহে উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

আসন্ন সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আগামী সিটি নির্বাচনে যেন কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং না হয়। এ পবিত্র মাটিতে কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করেন বা অপকর্ম করতে চান তাদের ওপর আল্লাহর গজব আসবে। অলি-আউলিয়ার মাটিতে কোনো অন্যায় সহ্য হবে না।

তিনি আশা করেন, সিলেটে অতীতে যে সম্প্রীতি ছিল এবারও তা বজায় থাকবে এবং সেই সম্প্রীতির মাধ্যমেই জনগণের ভোটরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক মেয়র, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল, দলে আরও প্রার্থী রয়েছেন। ২২ জুন দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে।

তিনি মনে করেন, আগের চেয়ে এখন অনেক শক্তিশালী আওয়ামী লীগ, সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এবার নৌকার বিজয় নিশ্চিত করা হবে।