আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস

বিশ্বে ছয় কোটি ৮৫ লাখ মানুষ বাস্তুহারা

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ছয় কোটি ৮৫ লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। মিয়ানমার ও সিরিয়ার লাখ লাখ মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে।

এমন অবস্থার মধ্যে দেশে দেশে আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালিত হবে। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হতে যাচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোয় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

নয়াপাড়া ক্যাম্পে সকাল ১০টায় সমাবেশ, নাটক, রন্ধন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে সামাজিক গোষ্ঠী। বেলা ১১টায় বিভিন্ন শিবিরের মধ্যে ভলিবল খেলার আয়োজন করা হয়েছে।

আর কুতুপালংয়ে দুপুর ১টায় সংগীত, সামাজিক নাটকসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, এক দশক আগে বিশ্বজুড়ে বাস্তুহারার সংখ্যা ছিল প্রায় চার কোটি ২৭ লাখ, যা থেকে এখন প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে বাস্তুহারার বর্তমান সংখ্যা থাইল্যান্ডের পুরো জনসংখ্যার সমান। জাতিসংঘের হাইকমিশনার (শরণার্থী) ফিলিপো গ্রান্দি বলেন, তারা চরম মুহূর্তের মধ্যে আছেন।

বাস্তুহারার ব্যাপারটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। এ জন্য অনেক নজর দেয়া প্রয়োজন। যাতে এই ধরনের আচরণ আর না করা হয়। জেনেভায় এই রিপোর্টটি প্রকাশের আগে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত যারা বাস্তুহারা হয়েছেন তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষই হচ্ছেন ১০টি দেশের। তিনি আরও বলেন, ১০টি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পাবে। আমরা সেটা করতেই পারি।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সিরিয়া শরণার্থীদের একটি ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ও অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জলি।

রোববার শরণার্থীদের সঙ্গে তিনি দেখা করেন। কয়েক বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন গৃহযুদ্ধের শিকার এই শরণার্থীরা। এ ক্যাম্পে প্রায় ৩৩ হাজার সিরীয় শরণার্থী রয়েছে।

ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে এক বিবৃতিতে জলি জানান, শরণার্থীরা সবকিছু হারিয়েছেন। তারা নিঃস্ব। শিশুদের জন্য কোনো ওষুধ নেই। সেখানে সুপেয় পানি নেই। মানবেতর জীবনযাপন করা শরণার্থীদের সহযোগিতায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান অভিনেত্রী জলি।

মিয়ানমার সরকারের নির্যাতন ও অত্যাচারের মুখে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে। এছাড়া কক্সবাজারের পাহাড়গুলোতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা পাহাড় ধসসহ নানা ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।

স্বদেশে ফিরে যেতে মরিয়া রোহিঙ্গারা : উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, ঈদুল ফিতরে বাংলাদেশ সরকার পোশাক-পরিচ্ছদ ও ত্রাণসামগ্রী দিয়ে রোহিঙ্গাদের ঈদ উৎসব পালন করার সুযোগ করে দিয়েছে।

কিন্তু রোহিঙ্গারা শরণার্থী জীবন থেকে পরিত্রাণ পেতে চান। নিজ দেশের সরকার, দাতা সংস্থা ও বিশ্ববাসীর কাছে তাদের আকুল আবেদন তারা যেন দ্রুত দেশে ফিরে যেতে পারেন। মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে এসব জানা গেছে।

থাইংখালী তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি মোহাম্মদ আলী আক্ষেপ করে বলেন, সরকার সবকিছু দিলেও তাদের মন ভরছে না। কারণ নাড়ির টানে স্বদেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গারা ব্যাকুল হয়ে পড়েছে।

বালুখালী ক্যাম্পের এ ব্লকের মাঝি লালু মিয়া জানান, জাতিসংঘ ও নেপিদোর মধ্যকার চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আনন্দ উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক পরিবার স্বদেশে ফিরে যাওয়ার দিনক্ষণ গুনছিল।

কিন্তু চুক্তির রূপরেখা বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা পরিষদে মঙ্গলবার ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের মানবিক মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা নিয়ে উখিয়া-টেকনাফে নাগরিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এখানকার গাছপালা, পাহাড়-পর্বত, ফসলি জমি, নদীনালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

অভয়াশ্রম হারিয়েছে প্রাণীকুল। বন্যহাতি তাদের আবাসস্থল হারিয়ে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের সেবা দিতে প্রায় দেড় শতাধিক এনজিওর কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিনিয়ত যানবাহন ব্যবহার করছেন। এতে উখিয়া-টেকনাফে যানবাহনের চাপ বাড়ছে।

এ কারণে তিন মাসে প্রায় ২০ জন পথচারী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী, পাল্স কক্সবাজারের চেয়ারম্যান আবু মোরর্শেদ খোকা, অধিকার বাংলাদেশের সমন্বয়ক আবু মুছা, কোস্টট্রাস্টের পরিচালক সনদ কুমার ভূমি, কোস্টট্রাস্টের কক্সবাজারের টিম লিডার জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন, সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার, সেমিনার পরিচালনা করেন কোস্টট্রাস্টের প্রকল্প সমন্বয়কারী সাদেকুর ইসলাম।