ঐতিহ্যবাহী মার্কেটের নাম পরিবর্তন নিয়ে বরিশালে তোলপাড়
jugantor
ঐতিহ্যবাহী মার্কেটের নাম পরিবর্তন নিয়ে বরিশালে তোলপাড়

  বরিশাল ব্যুরো  

০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী হাজী মুহাম্মদ মহসিন হকার্স মার্কেটের নাম পরিবর্তন নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যদিও এই নামের সঙ্গে ৩৯ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। মঙ্গলবার এই মার্কেটের নাম পরিবর্তন করে নামকরণ করা হয় ‘ডিসি মার্কেট’, যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় মুখর বরিশাল। তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, এই জায়গাটি খাস খতিয়ানে রয়েছে। কিন্তু খাসজমি হওয়ার পরও এখানকার দোকানগুলো ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেউ কেউ এই দোকান দেখিয়ে ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা লোন নিচ্ছে। কিন্তু খাস খতিয়ান জমি ব্যবহার করে এভাবে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার এখতিয়ার নেই। তাই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

মার্কেট ব্যবসায়ীরা বলেন, ১৯৮৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বরিশালের (বাকেরগঞ্জ) জেলা প্রশাসক এমএ বারী বরিশাল নদীবন্দরের পশ্চিমদিকের বর্তমান স্থানে ভাসমান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরিশালের ‘হাজী মুহাম্মদ মহসিন হকার্স মার্কেট’-এর উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে মার্কেটটি সুনামের সঙ্গে ৪০ বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এখানে ২ শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান নিয়ে। কিন্তু ২৯ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই দেখতে পাই মার্কেটের নাম পরিবর্তন করে ‘ডিসি মার্কেট’ লেখা সংবলিত সাইনবোর্ড লাগানো হচ্ছে। যারা সাইনবোর্ড সাঁটানোর কাজ করছিলেন তারা জানিয়েছেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা এটি লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, এই এসি ল্যান্ড হাজী মুহাম্মদ মহসিন হকার্স মার্কেট বা হাজী মুহাম্মদ মহসিন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাই যা ইচ্ছা তাই করছেন। জনপ্রিয় মার্কেটের নাম বহাল থাকার দাবি করেছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

হাজী মুহাম্মদ মহসিন হকার্স মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাস বলেন, এত বছর পর হঠাৎ মার্কেটের নাম পরিবর্তন করা হলো। আমরা মার্কেটের নাম পরিবর্তন চাই না। এর আগে একবার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আমাদের ডেকেছিলেন আরডিসি। তখন আমরা এই নামের বিরোধিতা করে এসেছি। কিন্তু তারপরও হঠাৎ নাম পরিবর্তন করে ফলা হয়েছে।

এদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এ ধরনের কাজ করার আগে বরিশালের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে গণশুনানি কিংবা আলোচনা করা যেত। কারণ ‘হাজী মুহাম্মদ মহসিন হকার্স মার্কেট’ বরিশালের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। এখানে অনেকের আবেগও কাজ করে। বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিকুল ইসলাম বলেন, মার্কেটের জায়গাটি খাস খতিয়ানের জায়গায় রয়েছে। এটির জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে যারা ব্যবসা করছেন, তারা কেউ ৯৯ বছর লিজ নিয়ে আছেন। কেউ একসনা, আবার কেউবা চান্দিনা ভিটা নিয়ে আছেন। তারা এই দোকান দেখিয়ে ব্যাংক লোন নিচ্ছেন, যা প্রতারণার শামিল। তাই জেলা প্রশাসনের নামে এই মার্কেট করার সিদ্ধান্ত হয়। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, এটা যে সরকারি জমিতে আছে, সেটা দেখাতেই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে আমরা এই মার্কেটের নাম হাজী মুহাম্মদ মহসিন ডিসি মার্কেট করেছি। তবে ভুলে হয়তোবা ডিসি মার্কেট লেখা হয়েছে। সেটা আমরা পরিবর্তন করে দেব।

ঐতিহ্যবাহী মার্কেটের নাম পরিবর্তন নিয়ে বরিশালে তোলপাড়

 বরিশাল ব্যুরো 
০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী হাজী মুহাম্মদ মহসিন হকার্স মার্কেটের নাম পরিবর্তন নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যদিও এই নামের সঙ্গে ৩৯ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। মঙ্গলবার এই মার্কেটের নাম পরিবর্তন করে নামকরণ করা হয় ‘ডিসি মার্কেট’, যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় মুখর বরিশাল। তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, এই জায়গাটি খাস খতিয়ানে রয়েছে। কিন্তু খাসজমি হওয়ার পরও এখানকার দোকানগুলো ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেউ কেউ এই দোকান দেখিয়ে ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা লোন নিচ্ছে। কিন্তু খাস খতিয়ান জমি ব্যবহার করে এভাবে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার এখতিয়ার নেই। তাই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

মার্কেট ব্যবসায়ীরা বলেন, ১৯৮৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বরিশালের (বাকেরগঞ্জ) জেলা প্রশাসক এমএ বারী বরিশাল নদীবন্দরের পশ্চিমদিকের বর্তমান স্থানে ভাসমান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরিশালের ‘হাজী মুহাম্মদ মহসিন হকার্স মার্কেট’-এর উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে মার্কেটটি সুনামের সঙ্গে ৪০ বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এখানে ২ শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান নিয়ে। কিন্তু ২৯ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই দেখতে পাই মার্কেটের নাম পরিবর্তন করে ‘ডিসি মার্কেট’ লেখা সংবলিত সাইনবোর্ড লাগানো হচ্ছে। যারা সাইনবোর্ড সাঁটানোর কাজ করছিলেন তারা জানিয়েছেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা এটি লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, এই এসি ল্যান্ড হাজী মুহাম্মদ মহসিন হকার্স মার্কেট বা হাজী মুহাম্মদ মহসিন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাই যা ইচ্ছা তাই করছেন। জনপ্রিয় মার্কেটের নাম বহাল থাকার দাবি করেছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

হাজী মুহাম্মদ মহসিন হকার্স মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাস বলেন, এত বছর পর হঠাৎ মার্কেটের নাম পরিবর্তন করা হলো। আমরা মার্কেটের নাম পরিবর্তন চাই না। এর আগে একবার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আমাদের ডেকেছিলেন আরডিসি। তখন আমরা এই নামের বিরোধিতা করে এসেছি। কিন্তু তারপরও হঠাৎ নাম পরিবর্তন করে ফলা হয়েছে।

এদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এ ধরনের কাজ করার আগে বরিশালের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে গণশুনানি কিংবা আলোচনা করা যেত। কারণ ‘হাজী মুহাম্মদ মহসিন হকার্স মার্কেট’ বরিশালের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। এখানে অনেকের আবেগও কাজ করে। বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিকুল ইসলাম বলেন, মার্কেটের জায়গাটি খাস খতিয়ানের জায়গায় রয়েছে। এটির জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে যারা ব্যবসা করছেন, তারা কেউ ৯৯ বছর লিজ নিয়ে আছেন। কেউ একসনা, আবার কেউবা চান্দিনা ভিটা নিয়ে আছেন। তারা এই দোকান দেখিয়ে ব্যাংক লোন নিচ্ছেন, যা প্রতারণার শামিল। তাই জেলা প্রশাসনের নামে এই মার্কেট করার সিদ্ধান্ত হয়। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, এটা যে সরকারি জমিতে আছে, সেটা দেখাতেই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে আমরা এই মার্কেটের নাম হাজী মুহাম্মদ মহসিন ডিসি মার্কেট করেছি। তবে ভুলে হয়তোবা ডিসি মার্কেট লেখা হয়েছে। সেটা আমরা পরিবর্তন করে দেব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন