ইচ্ছেমতো কাজ না করতে পেরেই যৌন হয়রানির অভিযোগ
jugantor
হোসেনপুরের পূর্ব চর পুমদী স্কুল
ইচ্ছেমতো কাজ না করতে পেরেই যৌন হয়রানির অভিযোগ

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো  

০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হোসেনপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষকের মধ্যে চারজনই নারী। তাদের মধ্যে তিন শিক্ষক কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করেছিলেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তদন্তে গঠিত পাঁচটি কমিটির সবগুলো প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তদন্তে উঠে আসে- যখন খুশি তখন স্কুলে আসা-যাওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষককে শায়েস্তা করতেই ওই তিন নারী শিক্ষক মিথ্যার আশ্রয় নেন।

পুমদী ইউনিয়নের পূর্ব চর পুমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান এমন গুরুতর অভিযোগে মানসিক যন্ত্রণা পেয়েছেন। দুই বছর পর সত্য বেরিয়ে আসায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি চেয়েছেন। জানা গেছে, ২০১৭ সালের এপ্রিলে পূর্ব চর পুমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে মজিবুর রহমান যোগ দেন। তিন শিক্ষক নাজনীন সুলতানা, শারমিন আক্তার ও তাজরিনা খানমের স্কুলে আসা-যাওয়ায় অনিয়ম দেখতে পেয়ে তিনি তাদের সতর্ক করেন। এতে তিন শিক্ষক ক্ষুব্ধ হন। প্রধান শিক্ষক মজিবুরকে শায়েস্তা করতেই তারা একযোগে ২০২০ সালের ১৬ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগ তখন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। উপপরিচালক (অর্থ) নবুয়াত হোসেন সরকার ও গবেষণা কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমাকে নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। এছাড়া করিমগঞ্জ ও নিকলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পৃথকভাবে তদন্তের নির্দেশ দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। সব কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) তাপস কুমার আচার্য অভিযোগকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। এমন নির্দেশ পেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযোগকারী শিক্ষককে তিরস্কার করেন। প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান জানান, বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু তিরস্কার করে এমন গুরুতর অপরাধকে মাটিচাপা দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ। তিনি আরও জানান, মানহানিকর মামলা করতে ২০ নভেম্বর হোসেনপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কাছে তিনি আবেদন করেছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক যুগান্তরকে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থায় প্রধান শিক্ষক সন্তুষ্ট না হলে আমাদের কাছেই তো আপিল করতে পারতেন।

হোসেনপুরের পূর্ব চর পুমদী স্কুল

ইচ্ছেমতো কাজ না করতে পেরেই যৌন হয়রানির অভিযোগ

 কিশোরগঞ্জ ব্যুরো 
০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হোসেনপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষকের মধ্যে চারজনই নারী। তাদের মধ্যে তিন শিক্ষক কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করেছিলেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তদন্তে গঠিত পাঁচটি কমিটির সবগুলো প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তদন্তে উঠে আসে- যখন খুশি তখন স্কুলে আসা-যাওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষককে শায়েস্তা করতেই ওই তিন নারী শিক্ষক মিথ্যার আশ্রয় নেন।

পুমদী ইউনিয়নের পূর্ব চর পুমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান এমন গুরুতর অভিযোগে মানসিক যন্ত্রণা পেয়েছেন। দুই বছর পর সত্য বেরিয়ে আসায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি চেয়েছেন। জানা গেছে, ২০১৭ সালের এপ্রিলে পূর্ব চর পুমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে মজিবুর রহমান যোগ দেন। তিন শিক্ষক নাজনীন সুলতানা, শারমিন আক্তার ও তাজরিনা খানমের স্কুলে আসা-যাওয়ায় অনিয়ম দেখতে পেয়ে তিনি তাদের সতর্ক করেন। এতে তিন শিক্ষক ক্ষুব্ধ হন। প্রধান শিক্ষক মজিবুরকে শায়েস্তা করতেই তারা একযোগে ২০২০ সালের ১৬ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগ তখন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। উপপরিচালক (অর্থ) নবুয়াত হোসেন সরকার ও গবেষণা কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমাকে নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। এছাড়া করিমগঞ্জ ও নিকলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পৃথকভাবে তদন্তের নির্দেশ দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। সব কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) তাপস কুমার আচার্য অভিযোগকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। এমন নির্দেশ পেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযোগকারী শিক্ষককে তিরস্কার করেন। প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান জানান, বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু তিরস্কার করে এমন গুরুতর অপরাধকে মাটিচাপা দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ। তিনি আরও জানান, মানহানিকর মামলা করতে ২০ নভেম্বর হোসেনপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কাছে তিনি আবেদন করেছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক যুগান্তরকে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থায় প্রধান শিক্ষক সন্তুষ্ট না হলে আমাদের কাছেই তো আপিল করতে পারতেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন