চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন পণ্ড
jugantor
মঞ্চে বসা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন পণ্ড

  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি  

০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন পণ্ড হয়ে গেছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সমীর চন্দ্রের উপস্থিতিতেই সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আহত হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর পার্কে সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওদুদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ-কৃষকলীগ নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়। ৫টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে জেলা কৃষক লীগ নেতা খায়রুল আলম জেম ও পৌর যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিনহাজসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহত মিনহাজকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্মেলন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা অতিথিদের নিয়ে সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন।

সম্মেলন স্থলে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাড়াও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আবদুল ওদুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমানসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পথচারী এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বড় ইন্দারা মোড়ে পরপর ৫টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দোকানদার, পথচারী ও যানবাহন চালকরা আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল সড়কটি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ জানান, পৌর মেয়র মুখলেসুর রহমান তার দলবল নিয়ে স্টেজে উঠে সিন ক্রিয়েট করেন। একপর্যায়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রকাশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ করে। এখন সব দোষ অন্যের ঘাড়ের চাপাচ্ছেন। তিনি বলেন, পুলিশ তার পক্ষে। পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

জেলা কৃষক লীগ নেতা মুসফিকুর রহমান টিটো বলেন, দীর্ঘ আট বছর পর সম্মেলনকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। কেন্দ্রের নির্দেশনা ছিল মঞ্চে কৃষক লীগের দায়িত্বশীল নেতা ও কার্ডধারীরা বসবেন। সেখানে একজন জনপ্রতিনিধি তার লোকজনকে মঞ্চে উঠিয়ে সম্মেলন বানচালের চেষ্টা করেন। কৃষক লীগের দায়িত্বশীল নেতা ও পুলিশ বাধা দিতে গেলে গণ্ডগোল বাধে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সার্কিট হাউজে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বৈঠক শেষে জেলা কৃষক লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে অ্যাডভোকেট আবদুস সামাদ বুকল সভাপতি; মুসফিকুর রহমান টিটো সহ-সভাপতি; আল কামাল ইব্রাহিম রতন সাধারণ সম্পাদক এবং মেসবাহুল হক টুটুল সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দের আহ্বানে বিকালে সার্কিট হাউজে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান আরমান। পুলিশের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

সার্কিট হাউজে তিনি সাংবাদিকদের জানান, অনুপ্রবেশকারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একেএম আলমগীর জাহান বলেন, সম্মেলনে একটু বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। তবে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

মঞ্চে বসা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন পণ্ড

 চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 
০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন পণ্ড হয়ে গেছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সমীর চন্দ্রের উপস্থিতিতেই সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আহত হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর পার্কে সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওদুদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ-কৃষকলীগ নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়। ৫টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে জেলা কৃষক লীগ নেতা খায়রুল আলম জেম ও পৌর যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিনহাজসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহত মিনহাজকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্মেলন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা অতিথিদের নিয়ে সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন।

সম্মেলন স্থলে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাড়াও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আবদুল ওদুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমানসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পথচারী এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বড় ইন্দারা মোড়ে পরপর ৫টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দোকানদার, পথচারী ও যানবাহন চালকরা আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল সড়কটি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ জানান, পৌর মেয়র মুখলেসুর রহমান তার দলবল নিয়ে স্টেজে উঠে সিন ক্রিয়েট করেন। একপর্যায়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রকাশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ করে। এখন সব দোষ অন্যের ঘাড়ের চাপাচ্ছেন। তিনি বলেন, পুলিশ তার পক্ষে। পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

জেলা কৃষক লীগ নেতা মুসফিকুর রহমান টিটো বলেন, দীর্ঘ আট বছর পর সম্মেলনকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। কেন্দ্রের নির্দেশনা ছিল মঞ্চে কৃষক লীগের দায়িত্বশীল নেতা ও কার্ডধারীরা বসবেন। সেখানে একজন জনপ্রতিনিধি তার লোকজনকে মঞ্চে উঠিয়ে সম্মেলন বানচালের চেষ্টা করেন। কৃষক লীগের দায়িত্বশীল নেতা ও পুলিশ বাধা দিতে গেলে গণ্ডগোল বাধে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সার্কিট হাউজে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বৈঠক শেষে জেলা কৃষক লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে অ্যাডভোকেট আবদুস সামাদ বুকল সভাপতি; মুসফিকুর রহমান টিটো সহ-সভাপতি; আল কামাল ইব্রাহিম রতন সাধারণ সম্পাদক এবং মেসবাহুল হক টুটুল সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দের আহ্বানে বিকালে সার্কিট হাউজে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান আরমান। পুলিশের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

সার্কিট হাউজে তিনি সাংবাদিকদের জানান, অনুপ্রবেশকারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একেএম আলমগীর জাহান বলেন, সম্মেলনে একটু বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। তবে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন