বিএনপি সোহরাওয়ার্দীতে আসুক নয়তো কালশী মাঠে যাক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
jugantor
বিএনপি সোহরাওয়ার্দীতে আসুক নয়তো কালশী মাঠে যাক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, একগুঁয়েমি ছেড়ে বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসুক, নয়তো কালশী মাঠে যাক। বিরাট সমাবেশ করুক, আমরাও দেখি, দেশবাসীও দেখবে। এরপরও আলোচনা হতে পারে। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। তারা আসুক, ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বসুক। রাজধানীর নয়াপল্টনের সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল থেকে ফেরার সময় তিনি বৃহস্পতিবার বিকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ে হামলা করেছে, ভাঙচুর করেছে-এমন ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে-এ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ছবি আমরাও দেখেছি। পুলিশ হামলা করেনি, তল্লাশি করেছে। ভাঙচুর হতে পারে-বিএনপির সমর্থকরা নিশ্চয় ধাক্কাধাক্কি করেছে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি হয়তো সেরকম হতে পারে।’

বিএনপি অভিযোগ করেছে, পুলিশ ব্যাগে করে বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল নিয়ে গেছে-এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের যেসব পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তাদের দেখে আসুন। তারা কি নিজেরা নিজেরা ককটেলে আহত হয়েছেন? তারা তো মার খেয়েছেন, ককটেল হামলার শিকার হয়েছেন।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি নাজুক হয়েছে, সেটা আমরা মনে করি না। পরিস্থিতি সব সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে। শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কাজ করুন। আপনারা মিছিল করুন, মিটিং করুন তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আপনারা ভাঙচুর করবেন, জানমালের ক্ষতি করবেন, আহত করবেন, তখন তো নিরাপত্তা বাহিনী বসে থাকবে না। তাদের কাজই তো প্রটেকশন দেওয়া।

এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন-তারা (বিএনপি) কীভাবে বসবেন? সবাই তো গ্রেফতার, রিমান্ডে। এটার রাজনৈতিক সমাধান হওয়ার দরকার ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাহলে আপনারা কি রাজনৈতিক সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন? এজন্যই কি পুলিশ অ্যাকশনে যাচ্ছে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কেন, মির্জা ফখরুল সাহেব তো আছেন। আর আপনার কী মনে হয়? এছাড়া কি উপায় ছিল নাকি? পুলিশ যেভাবে মার খাচ্ছিল, তাতে কোনো উপায় ছিল কি?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হঠাৎ গতকাল শুনলাম পুলিশের ওপরে ইটপাটকেল, ককটেল মেরে আক্রমণ করেছে। পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। ৪৯ জন আহত হয়ে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজন ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি। এখানে (রাজারবাগ হাসপাতালে) একজনের ৪২টা সেলাই দিতে হয়েছে। অনেকের শরীরে মারধর, আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বেশিরভাগই হাতবোমার স্প্লিন্টারে আহত। এভাবেই তারা পুলিশ বাহিনীকে আহত করেছেন।

ককটেলের মতো ছোট বিস্ফোরকে এত পুলিশ সদস্য আহত হলেন কীভাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুলিশ সব সময় মনে করে আসছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে ককটেল মারতে হবে। পুলিশের ওপর হামলা করতে হবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ সব সময় জনগণের পাশে থাকে, জানমালের নিরাপত্তায় কাজ করে আসছে। পুলিশ প্রত্যাশাই করেনি হামলা হতে পারে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি বিভিন্ন বিভাগে সমাবেশ করেছে, নানা কথা বলেছে, সমালোচনা করেছে, আমরা কিছুই বলিনি। কোথাও বাধা দিইনি। বড় বড় সমাবেশ করেই তারা মন খুলে কথা বলেছেন। ঢাকায় এসেই তারা বলছেন বিশাল সমাবেশ করবেন। নানাভাবে খবর আসছিল-২৫ লাখ লোকের সমাবেশ করবেন। তারা প্রথম চেয়েছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, নয়াপল্টনে পার্টি অফিসের সামনে ও সংসদ ভবনের সামনে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তখন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না ছাত্রলীগের সমাবেশের কারণে। সংসদ ভবনের সামনে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয় না। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে ছাত্রলীগের সমাবেশ ৮ ডিসেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বরে আনা হয়। ডিএমপি কমিশনার অনুমতি দেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা পল্টনেই করবেন। আমরা বিকল্প স্থানের কথা বললাম কালশী অথবা পূর্বাচলে। কিন্তু তারা পল্টনেই করবেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপির পার্টি অফিসে চাল, পানির মজুত ছিল। চিনি-ডালের মজুত ছিল। ১৫টি অবিস্ফোরিত হাতবোমা ছিল। ছুরি-কাঁচি ছিল, ডেকে ডেকে খিঁচুড়ি ছিল। এগুলো আনার পেছনে কারণ কী? তা আমরা জানি। বড় জমায়েত হলে এমন হয়। কিন্তু আমরা এখন শুনছি, তারা এখানে সমাবেশ করতে এসে বসে পড়ার পরিকল্পনা হিসাবে এসব রসদ এনেছিলেন।

বিএনপি সোহরাওয়ার্দীতে আসুক নয়তো কালশী মাঠে যাক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, একগুঁয়েমি ছেড়ে বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসুক, নয়তো কালশী মাঠে যাক। বিরাট সমাবেশ করুক, আমরাও দেখি, দেশবাসীও দেখবে। এরপরও আলোচনা হতে পারে। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। তারা আসুক, ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বসুক। রাজধানীর নয়াপল্টনের সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল থেকে ফেরার সময় তিনি বৃহস্পতিবার বিকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ে হামলা করেছে, ভাঙচুর করেছে-এমন ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে-এ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ছবি আমরাও দেখেছি। পুলিশ হামলা করেনি, তল্লাশি করেছে। ভাঙচুর হতে পারে-বিএনপির সমর্থকরা নিশ্চয় ধাক্কাধাক্কি করেছে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি হয়তো সেরকম হতে পারে।’

বিএনপি অভিযোগ করেছে, পুলিশ ব্যাগে করে বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল নিয়ে গেছে-এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের যেসব পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তাদের দেখে আসুন। তারা কি নিজেরা নিজেরা ককটেলে আহত হয়েছেন? তারা তো মার খেয়েছেন, ককটেল হামলার শিকার হয়েছেন।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি নাজুক হয়েছে, সেটা আমরা মনে করি না। পরিস্থিতি সব সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে। শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কাজ করুন। আপনারা মিছিল করুন, মিটিং করুন তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আপনারা ভাঙচুর করবেন, জানমালের ক্ষতি করবেন, আহত করবেন, তখন তো নিরাপত্তা বাহিনী বসে থাকবে না। তাদের কাজই তো প্রটেকশন দেওয়া।

এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন-তারা (বিএনপি) কীভাবে বসবেন? সবাই তো গ্রেফতার, রিমান্ডে। এটার রাজনৈতিক সমাধান হওয়ার দরকার ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাহলে আপনারা কি রাজনৈতিক সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন? এজন্যই কি পুলিশ অ্যাকশনে যাচ্ছে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কেন, মির্জা ফখরুল সাহেব তো আছেন। আর আপনার কী মনে হয়? এছাড়া কি উপায় ছিল নাকি? পুলিশ যেভাবে মার খাচ্ছিল, তাতে কোনো উপায় ছিল কি?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হঠাৎ গতকাল শুনলাম পুলিশের ওপরে ইটপাটকেল, ককটেল মেরে আক্রমণ করেছে। পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। ৪৯ জন আহত হয়ে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজন ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি। এখানে (রাজারবাগ হাসপাতালে) একজনের ৪২টা সেলাই দিতে হয়েছে। অনেকের শরীরে মারধর, আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বেশিরভাগই হাতবোমার স্প্লিন্টারে আহত। এভাবেই তারা পুলিশ বাহিনীকে আহত করেছেন।

ককটেলের মতো ছোট বিস্ফোরকে এত পুলিশ সদস্য আহত হলেন কীভাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুলিশ সব সময় মনে করে আসছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে ককটেল মারতে হবে। পুলিশের ওপর হামলা করতে হবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ সব সময় জনগণের পাশে থাকে, জানমালের নিরাপত্তায় কাজ করে আসছে। পুলিশ প্রত্যাশাই করেনি হামলা হতে পারে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি বিভিন্ন বিভাগে সমাবেশ করেছে, নানা কথা বলেছে, সমালোচনা করেছে, আমরা কিছুই বলিনি। কোথাও বাধা দিইনি। বড় বড় সমাবেশ করেই তারা মন খুলে কথা বলেছেন। ঢাকায় এসেই তারা বলছেন বিশাল সমাবেশ করবেন। নানাভাবে খবর আসছিল-২৫ লাখ লোকের সমাবেশ করবেন। তারা প্রথম চেয়েছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, নয়াপল্টনে পার্টি অফিসের সামনে ও সংসদ ভবনের সামনে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তখন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না ছাত্রলীগের সমাবেশের কারণে। সংসদ ভবনের সামনে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয় না। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে ছাত্রলীগের সমাবেশ ৮ ডিসেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বরে আনা হয়। ডিএমপি কমিশনার অনুমতি দেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা পল্টনেই করবেন। আমরা বিকল্প স্থানের কথা বললাম কালশী অথবা পূর্বাচলে। কিন্তু তারা পল্টনেই করবেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপির পার্টি অফিসে চাল, পানির মজুত ছিল। চিনি-ডালের মজুত ছিল। ১৫টি অবিস্ফোরিত হাতবোমা ছিল। ছুরি-কাঁচি ছিল, ডেকে ডেকে খিঁচুড়ি ছিল। এগুলো আনার পেছনে কারণ কী? তা আমরা জানি। বড় জমায়েত হলে এমন হয়। কিন্তু আমরা এখন শুনছি, তারা এখানে সমাবেশ করতে এসে বসে পড়ার পরিকল্পনা হিসাবে এসব রসদ এনেছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন