মৈত্রীবিরোধীদের মোকাবিলায় একত্রে কাজ করতে হবে
jugantor
সম্প্রীতি বাংলাদেশের আলোচনায় ডেপুটি স্পিকার
মৈত্রীবিরোধীদের মোকাবিলায় একত্রে কাজ করতে হবে
দুই দেশের সম্পর্ক যে কোনো সময়ের চেয়ে সুদৃঢ় -ভারতীয় হাইকমিশনার

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিরোধিতায় একটি চক্র সক্রিয়। এরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। এখনো তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়নি। এই চক্রের মোকাবিলায় দুই দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস’ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সম্প্রীতির বাংলাদেশ আয়োজিত ‘মিট দ্য সোসাইটি’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সংগঠনের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ, মেজর জেনারেল (অব.) সালাম, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের যুদ্ধ সংবাদদাতা মুসা সাদিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. কামরুল আহসান খান, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য পবিত্র সরকার, কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ জহির বীরপ্রতীক, কর্নেল উত্তম কুমার বড়ুয়া প্রমুখ।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মৈত্রীর কথা বলছি। কিন্তু এর বিরোধী শক্তিও আছে। বিভিন্ন আচরণে আমরা তা টের পাই। তাদের মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিল রাজাকার-আলবদর-আলশামস এবং জামায়াতে ইসলামী। এখনো তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়নি। অর্থাৎ যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল, যারা ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল তাদের এখনো দেখতে পাই। এই শক্তিকে নিস্তেজ-নিঃশেষ করতে হলে উপমহাদেশের রাজনীতিকে একটা স্বচ্ছতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।’

সবার ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় দেশ স্বাধীন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিত্রবাহিনী আমাদের আর্থিক, রাজনৈতিক সহায়তা দিয়েছিল। এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। এই বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য দুই দেশের নাগরিক এবং সরকারকে বিবেচনায় রেখে সম্পর্কের পরিচর্যা করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের দেশে যেমন চ্যালেঞ্জ আসবে, তেমনি ভারতেরও চ্যালেঞ্জ আসবে। তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

শামসুল হক টুকু বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ার সময় এসেছে। বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে, আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্নে, বাঙালি জাতির অস্তিত্বের প্রশ্নে এই ঐক্য জরুরি।’

হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, যে কোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখন সুদৃঢ়। আমাদের নিয়তি একে অপরের সঙ্গে জড়িত এবং ভবিষ্যৎ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। ১৯৭১ সালে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকব। তিনি বলেন, ৫১ বছর আগে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভারত। সেটা ছিল বন্ধুত্বের যাত্রা। দুই দেশের মধ্যে এখন বহুমুখী সম্পর্ক। দেশের মানুষের আবেগ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এটি শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসাবে নয়, বিশ্বজুড়ে অংশীদারত্ব অনন্য।

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মৈত্রী দিবসের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য আমাদের বারবার মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অনেক ভারতীয় সৈন্য আত্মাহুতি দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে যা অত্যন্ত বিরল।

মুসা সাদিক বলেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। এজন্য আমাদের আত্মত্যাগের প্রস্তুত থাকতে হবে। কয়েক বছর আগে ভিয়েতনাম সফরকালে তাদের জিজ্ঞেস করলাম আপনারা বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়েও এত দ্রুত উন্নতি কীভাবে করেছেন। তখন তারা উত্তর দিল, আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ বেশি উন্নতি করতে পারেনি; কারণ সেখানকার স্বাধীনতা যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধা সাজ্জাদ জহির বীরপ্রতীক বলেন, ভারত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। খুব অল্প সময়ের প্রশিক্ষণে সাধারণ মানুষদের তারা সৈনিকে পরিণত করেছিল। নতুন প্রজন্মকে ১৯৭১ সালের কথা বলতে হবে।

উল্লেখ্য, ৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক একটি দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভারত। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। এ কারণেই দিনটিকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

সম্প্রীতি বাংলাদেশের আলোচনায় ডেপুটি স্পিকার

মৈত্রীবিরোধীদের মোকাবিলায় একত্রে কাজ করতে হবে

দুই দেশের সম্পর্ক যে কোনো সময়ের চেয়ে সুদৃঢ় -ভারতীয় হাইকমিশনার
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিরোধিতায় একটি চক্র সক্রিয়। এরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। এখনো তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়নি। এই চক্রের মোকাবিলায় দুই দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস’ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সম্প্রীতির বাংলাদেশ আয়োজিত ‘মিট দ্য সোসাইটি’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সংগঠনের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ, মেজর জেনারেল (অব.) সালাম, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের যুদ্ধ সংবাদদাতা মুসা সাদিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. কামরুল আহসান খান, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য পবিত্র সরকার, কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ জহির বীরপ্রতীক, কর্নেল উত্তম কুমার বড়ুয়া প্রমুখ।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মৈত্রীর কথা বলছি। কিন্তু এর বিরোধী শক্তিও আছে। বিভিন্ন আচরণে আমরা তা টের পাই। তাদের মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিল রাজাকার-আলবদর-আলশামস এবং জামায়াতে ইসলামী। এখনো তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়নি। অর্থাৎ যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল, যারা ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল তাদের এখনো দেখতে পাই। এই শক্তিকে নিস্তেজ-নিঃশেষ করতে হলে উপমহাদেশের রাজনীতিকে একটা স্বচ্ছতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।’

সবার ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় দেশ স্বাধীন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিত্রবাহিনী আমাদের আর্থিক, রাজনৈতিক সহায়তা দিয়েছিল। এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। এই বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য দুই দেশের নাগরিক এবং সরকারকে বিবেচনায় রেখে সম্পর্কের পরিচর্যা করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের দেশে যেমন চ্যালেঞ্জ আসবে, তেমনি ভারতেরও চ্যালেঞ্জ আসবে। তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

শামসুল হক টুকু বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ার সময় এসেছে। বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে, আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্নে, বাঙালি জাতির অস্তিত্বের প্রশ্নে এই ঐক্য জরুরি।’

হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, যে কোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখন সুদৃঢ়। আমাদের নিয়তি একে অপরের সঙ্গে জড়িত এবং ভবিষ্যৎ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। ১৯৭১ সালে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকব। তিনি বলেন, ৫১ বছর আগে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভারত। সেটা ছিল বন্ধুত্বের যাত্রা। দুই দেশের মধ্যে এখন বহুমুখী সম্পর্ক। দেশের মানুষের আবেগ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এটি শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসাবে নয়, বিশ্বজুড়ে অংশীদারত্ব অনন্য।

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মৈত্রী দিবসের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য আমাদের বারবার মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অনেক ভারতীয় সৈন্য আত্মাহুতি দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে যা অত্যন্ত বিরল।

মুসা সাদিক বলেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। এজন্য আমাদের আত্মত্যাগের প্রস্তুত থাকতে হবে। কয়েক বছর আগে ভিয়েতনাম সফরকালে তাদের জিজ্ঞেস করলাম আপনারা বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়েও এত দ্রুত উন্নতি কীভাবে করেছেন। তখন তারা উত্তর দিল, আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ বেশি উন্নতি করতে পারেনি; কারণ সেখানকার স্বাধীনতা যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধা সাজ্জাদ জহির বীরপ্রতীক বলেন, ভারত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। খুব অল্প সময়ের প্রশিক্ষণে সাধারণ মানুষদের তারা সৈনিকে পরিণত করেছিল। নতুন প্রজন্মকে ১৯৭১ সালের কথা বলতে হবে।

উল্লেখ্য, ৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক একটি দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভারত। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। এ কারণেই দিনটিকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন