পদ্মা সেতুর সুফল পাচ্ছেন না শরীয়তপুরবাসী
jugantor
পদ্মা সেতুর সুফল পাচ্ছেন না শরীয়তপুরবাসী

  কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর  

০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বপ্নের পদ্মা সেতু শরীয়তপুরের জাজিরার বুকের ওপর দিয়ে গেলেও সুফল পাচ্ছেন না জেলাবাসী। জেলার সরু রাস্তার প্রায় ৫-৭ পয়েন্টে তীব্র যানজটের পাশাপাশি খানাখন্দ থাকায় প্রতিনিয়তই ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এদিকে পরিবহণ ব্যবসায়ীরা পূর্বপ্রস্তুতি হিসাবে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নামিয়েছেন বড় বড় বাস। বিআরটিসিসহ ডজন খানেক পরিবহণ চলছে অপ্রশস্ত এ রাস্তাটিতে। এ পুরোনো রাস্তায় চলাচল করা মানেই প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া।

পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের আগেই মাদারীপুরের শিবচর হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে বিশাল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ। তবে দুর্দশাগ্রস্ত শরীয়তপুরবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি এখনো। বরং ভারী যানবাহনের অধিক চাপে পুরোনো জরাজীর্ণ ও অপ্রশস্ত রাস্তাগুলো ভেঙে গিয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি প্যাকেজে জেলা শহরের ফায়ার সার্ভিস কার্যালয় থেকে পদ্মা সেতু সংযোগ সড়ক পর্যন্ত দুই লেনের সড়ক নির্মাণের কথা রয়েছে। যার কাজ ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। তবে এখনো ১টি পাকেজের (জাজিরা থেকে নাওডোবা পর্যন্ত) কোনো জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়নি।

শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের ৩টি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করলেও মাত্র একটির কাজ চলছে। অত্যন্ত ধীরগতিতে চলা এ কাজে অনেক জায়গায় এখনো হাত দেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে বেড়েই চলছে জনদুর্ভোগ।

এরই মধ্যে ঢাকা-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ১৭ নভেম্বর বিআরটিসির একটি বাস নড়িয়ার জামতলা এলাকায় খাদে পড়ে প্রায় ২০-২৫ যাত্রী গুরুতর আহত হন। এর কয়েকদিন আগে একই জায়গায় মাইক্রোবাস নিয়ে সপরিবারে খাদে শিশুসস্তনসহ মারা যান শরীয়তপুর জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। এরকম কয়েকটি ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ঝরে গেছে আরও বেশ কয়েকটি প্রাণ। ফলে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এভাবে কত প্রাণের বিনিময়ে তাদের পদ্মা সেতুর সুফল ভোগ করার সৌভাগ্য হবে?

জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদার বলেন, রাস্তাটি যথাসময়ে না হওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে রাস্তার কাজ চলছে। আশা করি, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদোয়ানুল ইসলাম জানান, দুই লেনের রাস্তার চলমান কাজ শিগগিরই শেষ হবে। এছাড়া চার লেনের জন্যও জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলছে।

জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, ২০১৯ সালে বিল উত্থাপিত হলে তা ২০২০ সালে পাশ হয়ে আমাদের কাছে এসে পৌঁছায় ২০২১-এর নভেম্বরে। রাস্তার কাজ চলছে। এছাড়া এ পথে বিভিন্ন বাস চলাচলের ক্ষেত্রে অনিয়মগুলো আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ-সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

পদ্মা সেতুর সুফল পাচ্ছেন না শরীয়তপুরবাসী

 কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর 
০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বপ্নের পদ্মা সেতু শরীয়তপুরের জাজিরার বুকের ওপর দিয়ে গেলেও সুফল পাচ্ছেন না জেলাবাসী। জেলার সরু রাস্তার প্রায় ৫-৭ পয়েন্টে তীব্র যানজটের পাশাপাশি খানাখন্দ থাকায় প্রতিনিয়তই ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এদিকে পরিবহণ ব্যবসায়ীরা পূর্বপ্রস্তুতি হিসাবে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নামিয়েছেন বড় বড় বাস। বিআরটিসিসহ ডজন খানেক পরিবহণ চলছে অপ্রশস্ত এ রাস্তাটিতে। এ পুরোনো রাস্তায় চলাচল করা মানেই প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া।

পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের আগেই মাদারীপুরের শিবচর হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে বিশাল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ। তবে দুর্দশাগ্রস্ত শরীয়তপুরবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি এখনো। বরং ভারী যানবাহনের অধিক চাপে পুরোনো জরাজীর্ণ ও অপ্রশস্ত রাস্তাগুলো ভেঙে গিয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি প্যাকেজে জেলা শহরের ফায়ার সার্ভিস কার্যালয় থেকে পদ্মা সেতু সংযোগ সড়ক পর্যন্ত দুই লেনের সড়ক নির্মাণের কথা রয়েছে। যার কাজ ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। তবে এখনো ১টি পাকেজের (জাজিরা থেকে নাওডোবা পর্যন্ত) কোনো জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়নি।

শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের ৩টি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করলেও মাত্র একটির কাজ চলছে। অত্যন্ত ধীরগতিতে চলা এ কাজে অনেক জায়গায় এখনো হাত দেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে বেড়েই চলছে জনদুর্ভোগ।

এরই মধ্যে ঢাকা-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ১৭ নভেম্বর বিআরটিসির একটি বাস নড়িয়ার জামতলা এলাকায় খাদে পড়ে প্রায় ২০-২৫ যাত্রী গুরুতর আহত হন। এর কয়েকদিন আগে একই জায়গায় মাইক্রোবাস নিয়ে সপরিবারে খাদে শিশুসস্তনসহ মারা যান শরীয়তপুর জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। এরকম কয়েকটি ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ঝরে গেছে আরও বেশ কয়েকটি প্রাণ। ফলে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এভাবে কত প্রাণের বিনিময়ে তাদের পদ্মা সেতুর সুফল ভোগ করার সৌভাগ্য হবে?

জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদার বলেন, রাস্তাটি যথাসময়ে না হওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে রাস্তার কাজ চলছে। আশা করি, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদোয়ানুল ইসলাম জানান, দুই লেনের রাস্তার চলমান কাজ শিগগিরই শেষ হবে। এছাড়া চার লেনের জন্যও জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলছে।

জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, ২০১৯ সালে বিল উত্থাপিত হলে তা ২০২০ সালে পাশ হয়ে আমাদের কাছে এসে পৌঁছায় ২০২১-এর নভেম্বরে। রাস্তার কাজ চলছে। এছাড়া এ পথে বিভিন্ন বাস চলাচলের ক্ষেত্রে অনিয়মগুলো আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ-সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন