মেয়র আরিফের মনোনয়ন ঠেকাতে একাট্টা নেতারা

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সিলেট ব্যুরো

আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ঠেকাতে একাট্টা হয়েছেন দলের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

দলের হাইকমান্ডের কাছে তারা সরকারের সঙ্গে আঁতাতসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে। যারা এসব অভিযোগ করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। কেউ হত্যা ও শহীদ মিনার ভাংচুর মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হলেও শাসক দলের আশীর্বাদ থাকায় বহিষ্কার হননি একবারও।

দলীয় নেতাকর্মীরা যখন মামলা-হামলা-নির্যাতনের শিকার হয়ে বাসাবড়িতে থাকতে পারেন না তখন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে কেউ হন সেরা করদাতা। আবার কেউ অন্যের হাউজিং দখল করে ১-১১ এর সময় গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে যান দেশ ছেড়ে।

এসব অভিযোগের পাহাড় যাদের বিরুদ্ধে তারাই এখন সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা মেয়র আরিফের দলীয় মনোনয়ন ঠেকাতে একাট্টা হয়েছেন।

মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে আরিফের দলীয় মনোনয়ন ঠেকাতেই বিগত দিনে শাসক দল তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে লালন করেছে।

একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগ এনে সরকার মেয়র আরিফকে দীর্ঘ ২৭ মাস জেলে রাখলে তার মুক্তির দাবিতে ওদের কেউ রাজপথে নামেননি বলে ওই নেতা দাবি করেন।

সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন লড়াইয়ে রয়েছেন বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সহ-সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, যুবদল কর্মী ছালাহউদ্দিন রিমন।

দলীয় মনোনয়ন ঠেকাতে মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম স্বাক্ষরিত ৫ পৃষ্ঠার অভিযোগ পাঠানো হয় দলের হাইকমান্ডের কাছে। সিলেট মহানগর বিএনপির প্যাডে লেখা চিঠিতে আরিফুল হকের বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ তোলা হয়।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটে ধর্মীয় সম্প্রীতির পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্প্রীতি দীর্ঘদিনের। দলীয় নেতাকর্মী ও নাগরিকরা এ সম্প্রীতিকে সব সময়ই স্বাগত জানান।

যা কিছু নেতার গাত্রদাহের কারণ হয়। তিনি বলেন, বিএনপির সব কর্মসূচিতে তিনি অগ্রভাগে ছিলেন। নগরীর উন্নয়নের স্বার্থে সঙ্গত কারণেই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে হয়েছে।

মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, দলীয় নেতাকর্মীরা যখন সরকারি দলের নির্যাতনে বাসাবাড়িতে থাকতে পারেননি তখন তিনি সরকারি দলের সঙ্গে মিলেমিশে ব্যবসা-বাণিজ্য করে নির্বাচিত হন সেরা করদাতা।

এমন অভিযোগের ব্যাপারে নাসিম যুগান্তরকে জানান, এসব তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে যারা বিভ্রান্ত তারাই এসব অপপ্রচার করছেন।

মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সিটি কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে শাসক দলের সঙ্গে আঁতাতের। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, হত্যা ও শহীদ মিনার ভাংচুরসহ একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হলেও শাসক দলের আশীর্বাদ থাকায় কাউন্সিলর পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়নি।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে কয়েস লোদী যুগান্তরকে জানান, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যদি আপস করে চলতাম তাহলে স্পর্শকাতর দুটি মামলার আসামি হতাম না।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, জোর করে হাউজিং প্রকল্প দখলের। ১-১১ এর সময় গ্রেফতার এড়াতে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এসব অভিযোগের ব্যাপারে সেলিমের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার দুটি মোবাইল নম্বরে বারবার কল করা হলেও ফোন দুটি বন্ধ পাওয়া যায়।