দুর্নীতির কৌশল বদলেছে খুলনা বিআরটিএতে

গাড়ি না দেখেই দেয়া হচ্ছে রেজিস্ট্রেশন * পরীক্ষা না নিয়ে টাকার বিনিময়ে লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো ২৫ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিআরটিএ
ফাইল ছবি

দুর্নীতির কৌশল বদলেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ে। নগরীর শিরোমনি এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে দালাল চক্রের এখন প্রকাশ্য দৌরাত্ম্য না থাকলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে বিআরটিএর গুটিকয়েক কমকর্তা-কর্মচারী, গাড়ির শোরুমের প্রতিনিধি এবং দালাল চক্র মিলে কৌশলে দুর্নীতি করে চলেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই কার্যালয়ে গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর না দেখেই গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। আর কোনো ধরনের পরীক্ষা না নিয়েই ৬-৭ হাজার টাকার বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কার্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি জেলা প্রশাসন ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে বিআরটিএ থেকে ২৪ জন দালালকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ৯ জনকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এর কিছু দিন পর ২৯ মার্চ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিআরটিএ কার্যালয়ের গা ঘেঁষে গড়ে উঠা মোড়ল সুপার মার্কেটে অভিযান চালায় র‌্যাব।

এ সময় মার্কেটের মোটর ড্রাইভিং সেন্টার ও ফটোকপির দোকানগুলো থেকে বিআরটিএর ১২টি সিল, ৪ হাজার ৩০০ ভুঁয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট, ১০০ ও ৫০ টাকা মূল্যের ১৭৯টি স্ট্যাম্প, ১টি কম্পিউটার, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ১০০টি ফরম এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৪৮৮টি নাগরিক সনদের প্যাড উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর থেকে বিআরটিএর কার্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। দালাল চক্রকে কার্যালয়ের মধ্যে অবস্থান করতে দেয়া হয় না। তাই ওই কার্যালয়ে দুর্নীতির কৌশল পাল্টে গেছে। এখন মোড়ল সুপার মার্কেট এলাকা, ফুলবাড়ি গেট, শিরোমনি, দৌলতপুর, খালিশপুর ও খুলনার বিভিন্ন স্থানে দালাল চক্রের তৎপরতা রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গাড়ি বিক্রির শোরুমের প্রতিনিধিদের জন্য এ ব্যবসা এখন জমজমাট। কারণ বিআরটিএতে প্রত্যেক শোরুমের একজন করে প্রতিনিধি থাকে। তারা গাড়ির মালিকদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনের ধার্য করা টাকা থেকে ২-৩ হাজার টাকা বেশি নিয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

এ ক্ষেত্রে গাড়ির মালিকদের বিআরটিএতে গাড়ি না এনেই মেলে রেজিস্ট্রেশন। গাড়ির চেসিস নম্বর, ইঞ্জিন নম্বর ও গাড়ির সিসি না দেখেই সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া বিআরটিএ অনুমোদিত অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ৬ হাজার এবং পেশাদারদের জন্য ৭ হাজার টাকা নিয়ে লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণকারীদের কোনো ধরনের লিখিত বা ব্যবহারিক পরীক্ষা লাগছে না। অথচ বৈধভাবে এ লাইসেন্স পেতে বছরের পর বছর পরীক্ষা দিয়ে ১০ বছরেও লাইসেন্স না মেলার নজির আছে অনেক। বিআরটিএর পুরনো ভবনের দোতলায় কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নিকট ড্রাইভিং লাইসেন্সেরে জন্য আগাম টাকা দিতে হয়। পরে যে কোনো একদিন এসে ছবি তুললেই মেলে লাইসেন্স।

এসব কর্মকাণ্ডে দালাল চক্র এবং গাড়ির শোরুমের প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় রয়েছেন বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ একজন মোটরযান পরিদর্শক, কয়েকজন অফিস সহকারী এবং রেজিস্ট্রেন শাখার একজন কর্মচারী। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএর খুলনার বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ইঞ্জি) মো. জিয়াউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিআরটিএ এখন দালালমুক্ত। কার্যালয়ের মধ্যে কোনো দালাল প্রবেশ করতে পারে না। তবে প্রতিদিন ৪-৫শ’ গ্রাহক এখানে সেবা নিতে আসে। জনবলের অভাবে সবাইকে শতভাগ সেবা দেয়া যায় না। সেক্ষেত্রে অনেকেই সীমানার বাইরে থেকে দালালের খপ্পরে পড়েন।

তিনি আরও বলেন, ‘শোরুমের প্রতিনিধিরা গ্রাহকদের নিকট থেকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য অতিরিক্ত টাকা নিলে বিআরটিএর কিছু করার নেই। তবে কোনো গাড়ি না দেখে রেজিস্ট্রেশন করা হয় না। আর পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্সে সবাইকে পরীক্ষা দিয়েই লাইসেন্স নিতে হয়।’ বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনৈতিক সুবিধা নেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই। তবে যারা দুর্নীতি প্রতিরোধ করে তারাই বিতর্কের শিকার হন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter