বিএনপিতে দক্ষ প্রার্থী সাহসী কর্মী সমর্থক নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নির্বাচন হচ্ছে একটি যুদ্ধের মতো। যে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য দক্ষ প্রার্থী, সাহসী কর্মী-সমর্থক থাকতে হয়, যা আওয়ামী লীগের মধ্যে রয়েছে। দুনিয়ার কোনো নির্বাচনই শতভাগ সুষ্ঠু হয় না। আমেরিকার নির্বাচনসহ বিশ্বের অনেক দেশের নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে বিএনপিতে দক্ষ কোনো প্রার্থী, সাহসী কর্মী কিংবা সমর্থক নেই। তাই তারা যে কোনো নির্বাচনকেই মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা মাঠে নেই, নির্বাচনে নেই। তারা শুধু সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে আছে। বিএনপি মূলত প্রেস ব্রিফিংয়ে চ্যাম্পিয়ন।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। কিছু অসঙ্গতি থাকতেই পারে। নির্বাচনে ছোটখাটো ত্র“টি থাকেই। সার্বিকভাবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে পরাজয় হলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, নির্বাচন বাতিলের দাবি জানায়, এটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছু নেই। আওয়ামী লীগ কখনও যুদ্ধাপরাধী, যুদ্ধাপরাধীদের লালন-পালনকারী, আগুন সন্ত্রাসী বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ক সংলাপ করবে না। বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে আসলে, অভিনন্দন জানাব কিন্তু জোর করে নির্বাচনে নিয়ে আসব না।

মন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, আমরা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করব। বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। সামনে বিএনপির সুযোগ, এ সুযোগটি হচ্ছে নির্র্বাচনে অংশগ্রহণ করা। নির্বাচন একটি রাজনৈতিক দলকে শক্তিশালী করে। প্রার্থী, কর্মী, সমর্থকদের চাঙ্গা করে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে তাদের অস্তিত্ব আর থাকবে না। আমরা সংবিধান অনুযায়ী ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশ চালাচ্ছি। বিএনপি অতীতে ১ মাসও টিকতে পারেনি। তারা সংগ্রাম, রাজনৈতিক কর্মসূচি ভুলে গেছে। তারা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোথায় ছিল। ২১টি বছর তারা আমাদের যে নির্যাতন, নিপীড়ন করেছে তা বলে শেষ করা যাবে না।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে বসবাস করছে। যারা বাংলাদেশ চায়নি, বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চাচ্ছে, তাদের সঙ্গে রয়েছে বিএনপি। তাই তাদের সঙ্গ ত্যাগ করেছি। তবে বিএনপির জন্য মায়া হয়। বিএনপিও দেশের জন্য অনেক কাজ করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে যেভাবে ভূমিকা রাখছেন, তাতে তিনি নিশ্চিত আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী হবেন। দেশের মানুষের হৃদয় জয় করেছেন তিনি, তার কোনো ভয় নেই। নির্বাচন করার জন্য কোনো দলের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজন নেই। সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে। সরকার নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত করবে ইসির কাছে। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করাসহ দেশবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য শিরিন আখতার, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। সেমিনারে সিনিয়র সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক, সমাজকর্মী, এনজিও কর্মী বক্তব্য রাখেন।

দেশে এইডস রোগী ৪৬৬২ জন : এর মধ্যে রোহিঙ্গা ৬৩ : সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৫ হাজার ৫৮৬ জন রোগীকে এইচআইভি পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯২৪ জন মারা গেছেন। অবশিষ্ট ৪ হাজার ৬৬২ রোগী এখন আমাদের দেশে বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে ৬৩ জন রোগী রোহিঙ্গা। বুধবার জাতীয় সংসদে সামশুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ তথ্য দেন।

ফিরোজা বেগম চিনুর প্রশ্নের উত্তরে মোহাম্মদ নাসিম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পুনর্নির্মাণে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে ৪র্থ এইচপিএনএসপি’র পিএফডি ওপির আওতায় ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পুনর্নির্মাণ কাজ, ৫৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নীতকরণ কাজ, ১০০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ পুনর্নির্মাণ কাজ, ৫০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র উন্নীতকরণ কাজ এবং ২০০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক পুনর্নির্মাণ কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং যা পর্যায়ক্রমে প্রক্রিয়াধীন আছে।

শিরীন আখতারের প্রশ্নের উত্তরে মোহাম্মদ নাসিম জানান, উপজেলা পর্যায়ে বসবাসরত দরিদ্র সাধারণ জনগণকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বারা চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রত্যেকটি উপজেলায় ইতিমধ্যে ১০টি করে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন/সার্জারি/গাইনি অ্যান্ড অবস/অ্যানেস্থেসিয়া/শিশু/নাক, কান, গলা/হৃদরোগ/অর্থোপেডিক্স/চক্ষু/চর্ম/ ও যৌন) পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ওই সৃষ্টিকৃত পদে পর্যায়ক্রমে জনবল পদায়ন করা হচ্ছে। মোরশেদ আলমের প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে শিশু হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে হৃদরোগ এবং কিডনি হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ওই হাসপাতালদ্বয় নির্মাণ ব্যয়ও সময়সাপেক্ষ। তাই বর্তমান সরকার দেশের হৃদরোগীদের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিসিইউ, ক্যাথ ল্যাব স্থাপন ও কার্ডিয়াক সার্জারি (আধুনিক হৃদরোগ ইউনিট স্থাপন) বিভাগ চালু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক হৃদরোগ ইউনিট স্থাপনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এসএম মোস্তফা রশিদীর প্রশ্নের উত্তরে নাসিম জানান, দেশে সরকার অনুমোদিত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৮৫১টি। এর মধ্যে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ২৬৬টি, ইউনানী ২৬৭টি, আয়ুর্বেদিক ২০টি, হোমিওপ্যাথিক ৭৯টি ও হার্বাল ৩২টি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি (গুড মেনুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস) গাইডলাইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় এবং মানবহির্ভূত ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ পর্যন্ত ৮৬টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল এবং ১৯টির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।