ডিএনসিসি উপনির্বাচন ২০১৮

টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চায় ভোটাররা

  মতিন আব্দুল্লাহ ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনে ভোটার এবং নগরবাসী সবার আগে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার অঙ্গীকার চায় ভোটাররা। ঢাকা শহরে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম প্রধান কাজ হলেও ডিএনসিসি এখনও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। এ কারণে দূষণসহ নানাভাবে শহর বসবাসের উপযোগিতা হারাচ্ছে। আসন্ন ডিএনসিসির উপনির্বাচনে নগরবাসী এবং ভোটাররা বাকি মেয়াদের মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের কাছে সবার আগে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি চান। যে প্রার্থী টেকসই আবর্জনা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ব্যাপারে ভালো পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারবেন, তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। অনেকের মতো, টেকসই আবর্জনা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হলে ঢাকা শহরের অর্ধেকের বেশি পরিচ্ছন্ন এবং দূষণ কমে যাবে। আর এ কাজটি ডিএনসিসির প্রধান কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। ডিএনসিসির ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁঠালদিয়া এলাকার বাসিন্দা ও বিদ্যমান ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্মল সরকার যুগান্তরকে বলেন, ডিএনসিসির পুরনো এবং নতুন, দুই এলাকাতেই টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা রয়েছে। এখনও শহরের বর্জ্যে ভরাট হচ্ছে ডোবা, নালা এবং আধুনিকভাবে তৈরিকৃত ড্রেনগুলো। আসন্ন উপনির্বাচনে যিনি মেয়র নির্বাচিত হবেন, তার কাছে সবার আগে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমাধান চাইব। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে যিনি এ ব্যাপারে সঠিক পরিকল্পনা ও সমাধান তুলে ধরবেন, তাকে ভোটাররা বেছে নেবেন বলে আমার বিশ্বাস।

দক্ষিণখান ইউনিয়নের বাসিন্দা ও চেয়ারম্যান এসএম তোফাজ্জল হোসেন বলেন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঢাকা শহরের বড় সমস্যা। নতুন মেয়রের কাছে আমি নতুন এলাকাসহ সব এলাকার সুষ্ঠু ও টেকসই ব্যবস্থাপনা চাইব। কেননা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমাধান না করে অন্যদিকে মনোযোগ দিলে মূল সমস্যা সমাধান মিলবে না। আর মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে যিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধানের সঠিক পরিকল্পনা তুলে ধরবেন, তাকে ভোটাররা বিশেষ গুরুত্ব দেবে বলে আমরা বিশ্বাস।

মোহাম্মদপুর বছিলা সিটির বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঢাকা শহরের প্রধান সমস্যা। ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আনিসুল হক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়ে বেশ কিছু কাজও করেছিলেন। আসন্ন উপনির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের কাছে আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক পরিকল্পনা জানতে চাইব। নগর বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঢাকা শহরের প্রধান সমস্যা। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ডিএনসিসির আসন্ন উপনির্বাচনে যারা মেয়র নির্বাচিত হবেন, আমি মনে করি টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কাজে তাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। নগর বিশেষজ্ঞ ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ঢাকা শহরে এখনো টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেনি। মেয়র আনিসুল হক কিছুটা চেষ্টা করে গেছেন। তার সময়ে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কাজের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন মেয়র সেসব বিবেচনায় নিয়ে কাজ করলে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টরা জানান, দৈনিক ঢাকা শহরে ৩ হাজার টন আবর্জনা সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য ডিএনসিসি সংগ্রহ করতে পারছে। আর বাকি আবর্জনা নগরীর যত্রতত্র পড়ে থাকছে। এ অবস্থার মধ্যে নতুন যোগ হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডে আরও অন্তত ১ হাজার টন বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে। এজন্য সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। অন্যদিকে নগরীর আবর্জনা সংগ্রহ করে ফেলা হচ্ছে আমিন বাজার ল্যান্ডফিলে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ওই ল্যান্ডফিলের তরল বর্জ্য সংশোধন প্ল্যান্ট নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে ওই ল্যান্ডফিলের তরল বর্জ্য আশপাশের এলাকা এবং তুরাগ নদ দূষিত করছে। আর ওই ল্যান্ডফিল আবর্জনায় পূর্ণ হয়ে গেছে। এখন দেখতে ছোট আকৃতির পাহাড়ের রূপ ধারণ করেছে ওই ল্যান্ডফিল। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, বর্জ্যরে পুনর্ব্যবহার করে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। এজন্য বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস তৈরির কথা বলা হচ্ছে। সেসব না হলেও এসব বর্জ্যকে ভস্মীকরণ করে অতিরিক্ত জমি ব্যবহার না করে বিদ্যমান জমিতেই আবর্জনা ব্যবস্থাপনার সমাধান বের করতে হবে। এটা করা সম্ভব হলে ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই রূপ পাবে। আর সেটা না করতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে আবর্জনা ব্যবস্থাপনা করতে হিমশিম খাবে। এত বিশাল আয়তার জমি পাবে না ডিএনসিসি। ডিএনসিসি এলাকার ভোটাররা এবং ডিএনসিসি সংশ্লিষ্টরাও নতুন মেয়রের কাছে সবার আগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধান চাইবেন।

ডিএনসিসি আরও জানায়, ডিএনসিসি এলাকায় বর্জ্য জমা করে রাখতে পরিবেশবান্ধব সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) করার কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই মধ্যে ডিএনসিসির পুরনো এলাকায় ৫২টি এসটিএস তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন আরও ২০টি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আর সম্প্রসারিত এলাকার ৩৬টি এসটিএস করতে হবে। এর বাইরে আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ ও সংশোধনের লক্ষ্যে ৮২৬ কোটি টাকার প্রকল্প এবং নাসিরাবাদ ইউনিয়নের এক হাজার কোটি টাকার ১১৬ একর জমির ওপর নতুন ল্যান্ডফিল স্থাপন এবং বর্জ্য ভস্মীকরণ কার্যক্রম প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলমান। দুটি প্রকল্পই দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে- এমন দাবি নগরবাসী ও ভোটারদের।

 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter