দফায় দফায় কারাভোগ আর বহিষ্কারেই দীর্ঘ সময় পার

  সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, হবিগঞ্জ ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেয়রের দফায় দফায় কারাভোগ আর বহিষ্কারের কারণে হবিগঞ্জ পৌরসভার অনেক কাজই বিলম্বিত হয়েছে। অনেক পিছিয়েও পড়তে হয়েছে। কাক্সিক্ষত উন্নয়নও সম্ভব হয়নি। প্রথম দফায় কারাগারে থাকার কারণে ফেরত গেছে ২১ কোটি টাকা। আর দ্বিতীয় দফায় ২৫-৩০ কোটি টাকার কাজ করার কথা থাকলেও দায়িত্বরতরা ৩ কোটি টাকারও কাজ করতে পারেননি। আক্ষেপ করে এসব কথা বলেছেন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছ।

যুগান্তরের কাছে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ১/১১ সরকারের সময় ৫৯১ দিন কারাভোগ করেন। আর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কারাগারে ছিলেন ৭৩৯ দিন। তার কর্মকালের দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে কারাগারেই। বহিষ্কারও হয়েছেন ৬ বার। আর গাদা গাদা মামলা-মোকদ্দমার পেছনে ছুটতে গিয়ে অনেকটা হাঁপিয়েও উঠেছেন। ১/১১ সরকারের সময় কারাগারে থাকাকালে ইউজিএফ-২ প্রকল্পের ২১ কোটি টাকা ফেরত গেছে। আর আওয়ামী লীগ আমলে তিনি কারাগারে থাকাকালে ইউজিএফ-৩ প্রকল্পের ২৫-৩০ কোটি টাকার কাজ করেছে অন্যান্য পৌরসভা। কিন্তু তাদের পৌরসভার দায়িত্বরতরা ৩ কোটি টাকার কাজও করতে পারেননি। সরকারের অনেক আদেশ পালন করতে গিয়ে সরকারি দলের অনেকের রোষানলে পড়তে হয়েছে। পৌরসভায় ভাংচুর করা হয়েছে। পৌরসভার সবচেয়ে বড় সমস্যা ময়লা ফেলার নির্ধারিত কোনো জায়গা নেই। ২০১৩ সালে ২০ লাখ টাকায় শহরের উপকণ্ঠে একটি জায়গা কেনা হয়েছিল। কিন্তু সেটিও স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছে। কাজ করতে দিচ্ছে না। জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় এটি বারবার উত্থাপন করা হয়। জেলা প্রশাসক সেটি সমাধানের আশ্বাসও দেন। পৌর এলাকায় কোনো শিশুপার্ক এবং ট্রাক টার্মিনাল নেই। পর্যাপ্ত ফান্ডের নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও এগুলো করা যাচ্ছে না শুধু জায়গার অভাবে। অনেক জায়গার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু জায়গা না পাওয়ায় তা করা সম্ভব হচ্ছে না। গত নির্বাচনে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর কী করেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নির্বাচনটি আসলে আমার জন্য অত্যন্ত স্মরণীয়। কারণ নির্বাচনের আগে থেকেই আমি কারাগারে বন্দি ছিলাম। কারও সঙ্গে দেখা করা বা কথা বলার সুযোগ হয়নি। কারাগারে বন্দি থেকেই আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আর ভোটাররা আমার কর্মের মূল্যায়ন করেছেন। আমাকে তৃতীয়বারের মতো জয়ী করেছেন। যেখানে অনেক কেন্দ্রে আমার কোনো এজেন্ট পর্যন্ত ছিল না। পৌরবাসীর এ ভালোবাসা আমাকে চিরঋণী করে দিয়েছে। আমি এ ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না। আর পৌর এলাকার সমস্যার কথা আমাকে তেমন একটা বলতে হয় না। আমি নিজে থেকেই ঘুরে ঘুরে সমস্যা চিহ্নিত করি। তা যথাসাধ্য সমাধানের চেষ্টা করি।

নিজের দায়িত্ব পালনকালে কর্মের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রথমবার ২০০৪ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মেয়র করা হয়। ২০১১ সালে দ্বিতীয় দফা এবং ২০১৫ সালে কারাগারে থেকে টানা তৃতীয় দফা মেয়র নির্বাচিত হন। শুরু থেকে শহরের রাস্তা প্রশস্তকরণ, রোড ডিভাইডার নির্মাণ করে শহরের সৌন্দর্য বর্ধন, নসরতপুর-কামড়াপুর বাইপাস সড়ক নির্মাণ, বাস টার্মিনাল নির্মাণ, খোয়াই নদীর ওপর এম সাইফুর রহমান, শাহ এএমএস কিবরিয়া ও এমএ রব ব্রিজ নির্মাণ, পৌর এলাকার পানি সমস্যা সমাধানে একাধিক পানি শোধনাগার, ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। বর্তমানে পৌরসভায় অনেক উন্নয়ন কাজই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৪ জন প্রকৌশলীর পদ রয়েছে। অথচ কর্মরত নেই একজনও।

জননন্দিত এই মেয়র দায়িত্ব পালন করছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকেরও। ১৯৮৪ সালে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থেকে ছাত্র রাজনীতি শুরু। এরপর একাধারে কলেজ সভাপতি, জেলা সভাপতি, কেন্দ্রীয় সদস্যও হয়েছেন। যুবদলের পাড়া কমিটির সদস্য থেকে জেলা সভাপতি পর্যন্ত হয়েছেন। পালন করেছেন কেন্দ্রীয় সহ-সমবায় সম্পাদকের দায়িত্বও। আর ২০০৪ সালের আগস্ট থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির বর্তমান কমিটিতে সমবায় সম্পাদকেরও দায়িত্ব পান। ভবিষ্যতে নির্বাচন করবেন কিনা বা করলে জনগণের জন্য কী করতে চান- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময়ই বলে দেবে নির্বাচন করব কিনা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter