সীমান্তের ওপারে ফাঁকা গুলি, আতঙ্কে গ্রামবাসী

চুক্তির পরও অনুপ্রবেশ ৭৫ হাজার রোহিঙ্গার

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমার সেনা নির্যাতনে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়ার ৮টি অস্থায়ী ক্যাম্পে প্রত্যাবাসনের আশায় অপেক্ষা করছেন। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকার নেপথ্যে সদ্য আগত রোহিঙ্গাদের দাবি, দায়সারা প্রত্যাবাসন চুক্তিকে মিয়ানমার সেনারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারা প্রতি রাতেই বিভিন্ন গ্রামে হানা দিয়ে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করছে। পরে সীমান্ত এলাকায় এসে ফাঁকা গুলি করে রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সীমন্তের ওপারে সেনা টহল জোরদার করায় এ পারে জনবসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিনব কৌশল হিসেবে রাখাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জোর করে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন (এনভিসি) কার্ড নিতে বাধ্য করছে। যে কারণে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা এপারে ধেয়ে আসছে। ২৩ নভেম্বর প্রত্যাবাসন চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ৬১৮ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে বলে আইওএম প্রকাশিত মাসিক তথ্য বিবরণীর উদ্ধৃতি দিয়ে রোহিঙ্গা নেতা ডা. জাফর আলম জানিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রোগ্রাম অফিসার শিরীন আক্তার জানান, শনিবার অফিস বন্ধ থাকার সঠিক তথ্য দেয়া যাচ্ছে না।

সরেজমিন শনিবার উখিয়া সীমান্তের আঞ্জুমানপাড়া, ধামনখালী ও ঘুমধুম এলাকার স্থানীয় আবুল বাশার, নুরুল ইসলাম, বখতিয়ার সওদাগর ও মুজিবুল হকসহ বেশ কয়েকজন সচেতন গ্রামবাসী জানান, সীমান্তের ওপারে বর্মি সেনারা তাদের ইচ্ছামতো টহল ও রাতে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে এলাকায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সীমান্তের তুমব্রু কোনারপাড়া জিরো পয়েন্টে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নাগরিক দিল মোহাম্মদ, মৌলভী আরাফাতসহ একাধিক রোহিঙ্গার অভিযোগ, গত ১ মাস ধরে মিয়ানমার সেনারা তাদের দেয়া কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণসহ যাবতীয় সংস্কার কাজের অজুহাতে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তারা রাতের যে কোনো সময় এসে সীমান্ত এলাকায় ফাঁকা গুলি করছে। যে কারণে জিরো পয়েন্টে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা রাতে ঘুমাতে পারে না। আতঙ্কের মধ্যে রাতযাপন করতে হচ্ছে ছেলেমেয়েদের নিয়ে।

কুতুপালং ক্যাম্পে সদ্য আগত রোহিঙ্গা সোনা মিয়া ও মুজিব উল্লাহ জানান, মিয়ানমার সেনারা মংডুর বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকি নিয়ে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে গিয়ে এনভিসি কার্ড নিতে বাধ্য করছে। যারা কার্ড গ্রহণ করছে না তাদের মারধর করছে। বাজারে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে। যে কারণে রোহিঙ্গারা জীবন-জীবিকার সন্ধানে ঘর থেকে বেরোতে পারছে না। অনন্য উপায় হয়ে এসব রোহিঙ্গা মিয়ানমারের ধনখালী ও নাইক্ষ্যংদিয়া ঘাট হয়ে ফিশিং বোট ভাড়া করে উখিয়ার বিভিন্ন উপকূলে উঠছে। আইওএমসহ বিভিন্ন এনজিওর কর্মীরা এসব রোহিঙ্গাদের উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে পুনর্বাসন করছে।

সদ্য আগত রোহিঙ্গারা আরও জানায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে সে চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে অনিচ্ছুক। উপরন্তু মিয়ানমারে অবস্থানরত অবশিষ্ট রোহিঙ্গারাও এদেশে পালিয়ে আসতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বালুখালী ক্যাম্পের মাঝি রাকিবুল্লাহ, কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি মুহিবুল্লাহ, কুতুপালং ৬নং ক্যাম্পের মাঝি আরফাত, কুতুপালং ১নং ক্যাম্পের মাঝি জাহাঙ্গীর আলমসহ বেশ কয়েক রোহিঙ্গা মাঝির সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলাপ করা হলে তারা জানান, দায়সারা চুক্তি নিয়ে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। তবে মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক অধিকারসহ হারানো বসতভিটা ও স্বাধীন চলাফেরার সুযোগ নিশ্চিত করলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে এক পায়ে খাড়া। তারা জানান, ২২ জানুয়ারি প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ ঠিক করা হলেও এ পর্যন্ত কারা মিয়ানমারে ফেরত যাবে- সে ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের কেউ জানে না। উখিয়া উপজেলা প্রত্যাবাসন ও সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, প্রত্যাবাসন সংক্রান্তসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওদের সঙ্গে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার মতবিনিময় হয়েছে। তবে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে তাদের মুখ থেকে কিছুই উঠে আসেনি। তাই প্রত্যাবাসনের নামে মিয়ানমার সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য একটি লোক দেখানো সমঝোতা চুক্তি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter