ভরা বর্ষায় উন্মাতাল দামতুয়া

ঝরনা ও জলপ্রপাতের জলে সিক্ত পর্যটকরা

  মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম ০৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভরা বর্ষা

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার সবুজ পাহাড়ের কন্দরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য গিরিনির্ঝর। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকদের নজর কেড়েছে দামতুয়া ও ওয়াংপা ঝরনা এবং দামতুয়া জলপ্রপাত।

প্রকৃতির অপরূপ নিদর্শন এ ঝরনা ও জলপ্রপাতের ভরা যৌবন দেখার মোক্ষম সময় এই শ্রাবণ। বর্ষা শুরু হলেই ঝরনা ও জলপ্রপাতগুলো সাজে অপরূপ সাজে। সবুজ পাহাড়ের অন্তহীন নিস্তব্ধতায় ঝরনা রানীরা যেন আঁচল বিছিয়ে পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানায়। ঝরনা ও জলপ্রপাতের শীতল জলে সিক্ত হতে প্রতিনিয়ত দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

আলীকদম-থানচি সড়কের ১৭ কিলোমিটার পয়েন্টের আদু মুরুং পাড়া থেকে ৬-৭ কিলোমিটার দূরে দামতুয়া ঝরনা ও জলপ্রপাতের অবস্থান। ১৭ কিলোমিটার পথ জিপ বা মোটরবাইকে যাওয়ার পর বাকি পথ যেতে হয় হেঁটে। এ ঝরনা ও জলপ্রপাতের আকার-আকৃতি ও গঠনশৈলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। সবচেয়ে মনোহর লাগে দামতুয়া ঝরনার কয়েকশ’ গজ উপরে দামতুয়া জলপ্রপাত। এ জলপ্রপাতের পাথুরে মাটির ধাপগুলো বিস্ময়কর সুন্দর। যেন সুদক্ষ কোনো রাজমিস্ত্রির নিপুণ হাতে সৃষ্টি। দামতুয়া জলপ্রপাতের অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ প্রমাণ করে যে এটি প্রকৃতির খেয়ালে গড়া অসাধারণ একটি স্থাপত্যশৈলী।

অপরদিকে দামতুয়া ঝরনার দু’দিকের খাড়া পাহাড়ি দেয়াল বেয়ে কলকল-ঝম্ঝম সুরের অনুরণন তুলে উন্মাতাল স্রোত গড়িয়ে পড়ছে নিচের গভীর জলাশয়ে। উঁচু থেকে পড়া পানির কিছু অংশ আবার জলীয় বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে এক ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে। দেখে মনে হবে যেন পাহাড়ে মেঘমালা।

দামতুয়া ঝরনায় নামতে হলে খাড়া পাহাড়ের কিছুটা পথ ডিঙ্গিয়ে নিচে নামতে হয়। তবে দামতুয়া জলপ্রপাতে নামার পথ পাথুরে মাটি। সেখানে নামতে তেমন সমস্যা হয় না। ঝরনা ও জলপ্রপাতের নিচে মাঝারি ধরনের জলাশয় আছে। এ জলশায়ে সাঁতার কাটতে ও গোসল করতে বেশ ভালো লাগে।

দামতুয়া ঝরনা ও জলপ্রপাতে পৌঁছার অন্তত এক ঘণ্টা আগে দেখা মিলবে ওয়াংপা ঝরনা। মূল ওয়াংপা ঝরনা দেখতে হলে খাড়া পাহাড় বেয়ে নিচে নামতে হবে। চলাচল পথের মাঝে অসংখ্য ছোটবড় পাথরের ভাঁজে শীতল জল যেন জানান দেয় ওয়াংপা ঝরনার জলস্রোত কেমন হবে। ওপর থেকে ওয়াংপা ঝরনার পানি গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য সবচেয়ে মনোহর।

প্রকৃতির নান্দনিক এ সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন ভ্রমণপিয়াসী মানুষ। ঝরনাধারায় গা ভিজিয়ে যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ থেকে নিজেকে ধুয়ে সজীব করে তুলছেন তারা। রাতে যদিও সেখানে অবস্থান করা নিরাপদ নয়। তবে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করলে রাতের বেলা চাঁদের আলোয় ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য ও কলতানে অবগাহন করা যাবে।

ধারণা করা হচ্ছে, শতবর্ষ হতেই প্রবাহিত রয়েছে এসব ঝরনা ও জলপ্রপাত। এতদিন সড়ক যোগাযোগ না থাকায় তা ছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে। এসব ঝরনা ও জলপ্রপাত আবিষ্কারের পর পাল্টে যাচ্ছে আলীকদম উপজেলার পর্যটন পরিবেশ।

কীভাবে যাবেন : চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজার থেকে বাসে চকরিয়া বাস স্টেশন নামতে হবে। চকরিয়া থেকে আবার বাসে যেতে হবে আলীকদম বাসস্টেশন। সেখান থেকে জিপ গাড়ি ভাড়া নেয়া যায়।

অথবা বাস স্টেশন থেকে অটোরিকশায় পান বাজার এসে ভাড়ায় চালিত মোটরবাইক নিয়ে আলীকদম-থানচি সড়কের ১৭ কিলোমিটারের আদু মুরুং পাড়ায় নামতে হবে। সেখান থেকে স্থানীয় মুরুং গাইড নিয়ে উত্তর দিকে এক ঘণ্টা হাঁটলেই পাওয়া যাবে ওয়াংপা ঝরনার ওপরের অংশ।

দামতুয়া জলপ্রপাত ও ঝরনায় যেতে হাঁটতে হবে আরও অন্তত এক ঘণ্টা। পথে যেতে যেতে ৩টি স্থানে দেখা যাবে পাহাড়ের ঢালে বেশকিছু টং-ঘর। এসব স্থানীয় নৃ-জনগোষ্ঠী মুরুং পাড়া। এখানকার মুরুংরা অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ। তারা পর্যটক দেখলে প্রাণখোলা হাসি দেয়।

থাকার জায়গা : আলীকদমে গত কয়েক বছর ধরে পর্যটক থাকার স্থানের বড়ই আকাল চলছে। পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রিত একমাত্র রেস্টহাউসটি বর্তমানে বিজিবির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পর্যটকরা স্থানীয় সেনাবাহিনীকে জানিয়ে পাহাড়ি পরিবেশে মুরুং পাড়ায় থাকতে পারেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter