Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

ফেনী নদীর পানি উত্তোলন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত মতবিরোধ

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত ফেনী নদী থেকে পানি উত্তোলনের পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ভারত চাইছে নদীর মাঝখানে গভীর কূপ খনন করে পাইপের মাধ্যমে পানি তুলতে। কিন্তু বাংলাদেশ এ প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ঢাকা প্রস্তাব দিয়েছে, ভারতীয় অংশে নদীর পাড়ে কূপ খনন করে পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে। খবর বিবিসি বাংলার।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুম অঞ্চলে খাবার পানির সংকট দূর করতে ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি উত্তোলনের বিষয়ে দুদেশের মধ্যে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এই সমঝোতা বাস্তবায়নে ১২ জুন দুই দেশের টেকনিক্যাল কমিটি কূপ খননের স্থান নির্ধারণ ও পানি উত্তোলনের পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে নদীর সম্ভাব্য কিছু স্পটে যৌথ পরিদর্শন করে। কিন্তু পানি উত্তোলনের পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধের কারণে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি কর্মকর্তারা।

সে সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, ফেনী নদীর মৈত্রী সেতু থেকে কয়েক মিটার দূরে ভারতীয় অংশে নদীর পাড়ে এই কূপ খনন করতে এবং সেখান থেকে নালার মাধ্যমে পাম্পের সাহায্যে পানি উত্তোলন করতে। কিন্তু ভারত নদীর মাঝখানে কূপ খননের কথা বলে আসছে। ভারতের দাবি, খাল কেটে পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন করলে বারবার পলি জমে যাবে। কিন্তু নদী থেকে সরাসরি পানি তুললে সেই আশঙ্কা নেই। সেইসঙ্গে খাল খনন করা বা রক্ষণাবেক্ষণের ঝক্কিও থাকবে না।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পালটা যুক্তি দেওয়া হয়, এ ধরনের পলি প্রতিরোধে আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি দুদেশের প্রকৌশলীরা। এর আগে গত বছরও যৌথ কমিটি একই এলাকা পরিদর্শন করে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।

এ বিষয়ে ভারতের প্রতিনিধি দলের প্রধান ত্রিপুরার পিডব্লিওডি চিফ ইঞ্জিনিয়ার শ্যাম লাল ভৌমিক সাংবাদিকদের জানান, আমরা কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের বুঝিয়েছি, নদীর পাড়ে কূপ খনন করলে কী ধরণের সমস্যা হতে পারে। আমরা চাইছি নদীর মাঝখানে কূপ খনন হোক। বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা বলেছেন তারা এ বিষয়ে তাদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে আমাদের জানাবেন।

এ বিষয়ে যৌথ নদী কমিশনের সদস্য আবুল হোসেন জানান, গত বছর দুদেশ সম্মত হয়েছিল যে, ভারত তাদের অংশে নদীর পাড় থেকে ৫০ মিটার ইনটেক চ্যানেল বা খাল কাটবে। সেখানে পাম্প বসিয়ে তারা পানি উত্তোলন করবে। এ নিয়ে তারা আগে সম্মত হলেও এখন তারা বলছেন খাল কাটলে সেখানে পলি জমে যাবে। আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কংক্রিটের বেষ্টনী দিয়ে পলি আটকে দেওয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভারত চাইছে নদীর মাঝখান থেকে পানি তুলতে। অথচ এ নিয়ে গত বছর কোনো আলোচনাই হয়নি। বিষয়টি দুদেশের প্রকৌশলীরা খতিয়ে দেখছেন। নতুন লোকেশন নিয়েও তারা আলোচনা করেছেন।

ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নদীর মাঝখানে কূপ খনন করা হলে নদী ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে বলে যৌথ নদী কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ আইনূন নিশাত জানান, নদীর গতিপথ, বাঁক এবং এর গভীরতা ক্রমশ পরিবর্তনশীল। এজন্য ভারত যে পাড়ে খাল কেটে পানি উত্তোলন করবে ১০ বছর পর তা অগভীর হয়ে যেতে পারে। কিন্তু নদীর গভীর থেকে পানি তুললে নদীর আচরণে পরিবর্তন হবে। এর প্রভাবে পাড় ভাঙতে শুরু হবে। ফেনী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে সমঝোতা বাস্তবায়নের আগে চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইনূন নিশাত। এগুলো হলো-শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের পানির চাহিদা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশের সেচ প্রকল্প বা মুহুরি প্রজেক্টের চাহিদা নিশ্চিত করা, নদীর অববাহিকা-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা করে ভবিষ্যতের বাড়তি চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা এবং নদীতে মাছের প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন করতে এবং নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পরিবেশগত সমীক্ষা করা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .