যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ

আজ কুড়িগ্রাম ফিরছেন সেই মা ও পথশিশুরা

  হোসাইন এমরান ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আজ কুড়িগ্রাম ফিরছেন সেই মা ও পথশিশুরা
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোসাম্মত সুলতানা পারভীন দুই পথশিশুকে আদর করছেন। ছবি: যুগান্তর

রাজধানীর কলাবাগানে ফুটওভার ব্রিজের নিচে থাকা দুই পথশিশু ও অসুস্থ মায়ের দায়িত্ব নিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোসাম্মৎ সুলতানা পারভীন। বুধবার সকাল ১০টায় দুই পথশিশু ও অসুস্থ মায়ের খোঁজ নিতে ঢাকার কলাবাগানে ছুটে আসেন তিনি। পরে তিনি দুই শিশু ও মায়ের সব দায়িত্ব নেন। এ সময় জেলা প্রশাসককে দুই পথশিশুর মাথায় হাত দিয়ে আদর করতে দেখা যায়। তিনি শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খাবার নিয়ে আসেন।

এ সময় যুগান্তরকে সুলতানা পারভীন বলেন, আমি ঢাকায় অফিসিয়াল কাজে এসেছিলাম। যুগান্তরে সংবাদ দেখে কলাবাগানে তাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এ অসহায় পরিবারকে আমি সব রকমের সহায়তা করব। তাদের থাকার জায়গা ও ঘর তোলার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে টাকা দেয়া হবে। আজ রাতে তাদের কুড়িগ্রামে ফেরত পাঠানো হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, দুই শিশুর লেখাপড়ার দায়িত্ব আমি নিয়েছি। জেলা প্রশাসন থেকে তাদের সব রকমের সহায়তা করা হবে। ওই পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে তাদের হালচাষের গরু দেয়া হবে। এমন অসহায় দুস্থদের জন্য সরকারের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। সেখান থেকেই সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে।

সুলতানা পারভীন যুগান্তরের এমন মহতী উদ্যোগে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এমন একটি মানবিক সংবাদ প্রকাশের জন্য আমি যুগান্তরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সেই সঙ্গে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানাই। এ সময় ঢাকার কুড়িগ্রাম সমিতির মহাসচিব সাইদুল আবেদীন ডলার, সেফটি স্কুলের নির্বাহী সম্পাদক সাখাওয়াত স্বপন ও ফেসবুকে ভিডিও ধারণ করে দেয়া তরুণ পারভেজ হাসান উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার কুড়িগ্রাম সমিতির মহাসচিব সাইদুল স্বপন বলেন, আমরা আজ রাতে পরিবারটিকে বাসে তুলে দেব। সেফটি স্কুলের নির্বাহী সম্পাদক সাখাওয়াত স্বপন বলেন, আমার তরফ থেকে সব ধরনের সহায়তা করব।

শুক্রবার সোবহানবাগ মসজিদের কাছে প্রচণ্ড জ্বর আর শরীর ব্যথা নিয়ে ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখা যায় এক অসুস্থ মাকে। শনিবার সারা দিনও ফরিদা রাস্তায় পড়েছিলেন। এদিন সন্ধ্যায় দেখা যায়, মাকে বাঁচাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে ছোট দুই শিশু। তারা প্লাস্টিকের বোতলে করে পানি এনে মায়ের মাথায় ঢালছিল। এ দৃশ্য দেখে তা মোবাইল ফোনে ধারণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জুয়েল। তিনি ছবিটি ফেসবুকেও শেয়ার করেন। এছাড়া পারভেজ হাসান নামে আরেক পথচারীও অসুস্থ মায়ের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন।

রোববার যুগান্তরে ‘ঢাকায় অসুস্থ মাকে বাঁচাতে ২ পথশিশুর লড়াই’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এরপর সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যুগান্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অসুস্থ ফরিদাকে সাহায্যের জন্য। দেশ-বিদেশের মানুষের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার আশ্বাসে রোববার রাতেই যুগান্তর টিম বের হয় সেই পথশিশু আর অসুস্থ মায়ের খোঁজে। রোববার রাত ৯টায় যুগান্তর টিম সেই অসুস্থ মায়ের ঠিকানা কলাবাগান ফুটওভার ব্রিজের নিচে পৌঁছায়।

জীবনযুদ্ধে হেরে যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে যুগান্তর টিমের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন অসুস্থ ফরিদা, ‘আমি আর ঢাকায় থাকতে চাই না। আমি বাড়ি ফিরতে চাই।’ এমন খবরে টনক নড়ে জেলা প্রশাসনসহ কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের। মঙ্গলবার যুগান্তরকে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোবাইল ফোনে জানান, অসহায় পরিবারটির সব রকমের দায়িত্ব নিতে চান তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : ফুটপাতে অসুস্থ মাকে বাঁচাতে ২ পথশিশুর লড়াই

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter