ভিয়েতনামে ৮৭ ভাগ মানুষ স্বাস্থ্য বীমার আওতায়

ক্যান্সার, কিডনিসহ সব জটিল রোগীই বীমা সুবিধা পান

  রাশেদ রাব্বি, ভিয়েতনাম থেকে ফিরে ১৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভিয়েতনামে ৮৭ ভাগ মানুষ ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজের (ইউএইচসি) আওতাভুক্ত। অর্থাৎ স্বাস্থ্য বীমার মাধ্যমে দেশটির মানুষ তাদের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। ক্যান্সার, কিডনি, ডায়াবেটিস রোগসহ সব ধরনের জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা এ বীমা কাভারেজের আওতায়।

সম্প্রতি দেশটির রাজধানীতে অবস্থিত হ্যানয় মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক সেমিনারে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দলকে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির ফরেন অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান ড. ভ্যান থ্যান জানান, ভিয়েতনামে ১৯৯২ সাল থেকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বীমা অন্তর্ভুক্ত হয়। শুরুতে কাভারেজের আওতায় ছিল মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ। ১৯৯৮ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ শতাংশে। ২০০৫ সালে ৪৬ শতাংশ, ২০১০ সালে ৬৫ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৭০ শতাংশ এবং বর্তমানে ৮৭ শতাংশ মানুষ এ সুবিধা ভোগ করছে।

তিনি জানান, সে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে জিডিপির ১০ ভাগই স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হয়। তবে এত ব্যয়ের পরও চিকিৎসাসেবা নিতে দেশটির মানুষের আউট অব পকেট ব্যয় হয় ৪৯ দশমিক ৩ ভাগ। যদিও ২০৩০ সালের মধ্যে এ ব্যয় ৩০ ভাগের মাধ্যে নামিয়ে আনতে কাজ করছে ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য বিভাগ।

ড. ভ্যান জানান, স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা পেতে দেশের সচ্ছল মানুষের মোট আয়ের ৪ দশমিক ৫ ভাগ হারে প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে হয়। তবে দরিদ্রদের প্রিমিয়ামের টাকা সরকার দিয়ে থাকে। এছাড়া স্বল্প আয়ের লোকদের প্রিমিয়ামের ৭০ ভাগ এবং শিক্ষার্থীদের ৩০ ভাগ সরকার দিয়ে থাকে। রোগ এবং রোগীর অবস্থান বিবেচনায় ৮০ থেকে ১০০ ভাগ কাভারেজ দেয়া হয়। তিনি জানান, ভিয়েতনামে প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য একজন উচ্চশিক্ষিত চিকিৎসক রয়েছেন। তুলনামূলক চিকিৎসক কম কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকি, সংখ্যার ওপর নয়।’ সম্প্রতি সে দেশে বেসরকারি উদ্যোগে হাসপাতাল গড়ে উঠলেও সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা অনেক বেশি। রয়েছে চার স্তরের চিকিৎসা ব্যবস্থা। যার উচ্চপর্যায়ে রয়েছে বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং নিু পর্যায়ে কমিউনিটি মেডিকেল সেন্টার। হ্যানয় মেডিকেল ইউনির্ভাসিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে একটি কমিউনিটি মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে জানা যায়, প্রতি ৮ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একটি মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।

কমিউনিটি মেডিকেল সেন্টারে একজন গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক, একজন নার্স এবং ৭ জন মেডিকেল বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী থাকেন। সাধারণত অসংক্রামক রোগের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী এসব সেন্টারে গিয়ে থাকেন। এসব সেন্টারে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব সেন্টারে যারা চিকিৎসা নিতে যান, তারা সবাই বীমা কাভারেজের আওতাভুক্ত। তাই চিকিৎসা নিতে তাদের কোনো ব্যয় করতে হয় না। গড়ে সেন্টারগুলোয় ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী সেবা নিতে আসেন। তবে এমন কোনো রোগী যদি আসেন যাদের চিকিৎসা এসব সেন্টারে করা সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হ্যানয় মেডিকেল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধি দলকে বাছ মাই ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল পরিদর্শনে নিয়ে যান। হাসপাতালের ভাইস ডিরেক্টর অধ্যাপক মিন থং (এমডি, পিএইচডি) জানান, হাসপাতালটি ৩ হাজার শয্যার। এখানে রোগীদের সব ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়। হাসপাতালের বহির্বিভাগের কার্যক্রম শুরু সকাল ৭টায় এবং শেষ হয় বিকাল ৫টায়। তবে শীতকালে বিকাল ৫টার পরিবর্তে ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। অধ্যাপক মিন থং প্রতিনিধি দলকে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ঘুরিয়ে দেখান। সম্পূর্ণ হাসপাতাল অটোমেশনের আওতাভুক্ত। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস যুগান্তরকে বলেন, এরই মধ্যে স্বাস্থ্য বীমা নিয়ে আমাদের পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.