কয়লা কেলেঙ্কারি

দুদকের তদন্তের আওতায় খনির শীর্ষ কর্মকর্তারা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুদকের তদন্তের আওতায় খনির শীর্ষ কর্মকর্তারা

দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে। দুদক গত সোমবার থেকে খনির ২৩০ কোটি টাকার কয়লা গায়েবের ঘটনায় যে অনুসন্ধান শুরু করেছিল তা এখন তদন্তে মোড় নিয়েছে। খনি কর্তৃপক্ষের মামলাটিই দুদক তদন্ত করবে।

এদিকে খনির সদ্য সাবেক এমডি প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে এই এমডিসহ ১৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে খনি কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া খনির ঘটনায় যে ১৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে তাদের সবার বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে দুদক থেকে লিখিতভাবে পুলিশের বিশেষ শাখা ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।

একই সঙ্গে পেট্রোবাংলার নিজস্ব তদন্তে চার সাবেক এমডিসহ ঊর্ধ্বতন যেসব কর্মকর্তার নাম এসেছে তাদের সবাইকে দুদকের তদন্তের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

তদন্ত রিপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার বিকালে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বুধবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছেন। যতদূর জানতে পেরেছেন এতে খনির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি ছাড়াও এর আগে ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত এমডিসহ শীর্ষ পদে যারা ছিলেন তাদের অনেকেই এই চুরির সঙ্গে জড়িত।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই রিপোর্টে বলা হয় কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে সাবেক এমডিরাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত পেট্রোবাংলার নিজস্ব প্রতিবেদন দুদক পায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খনির কয়লা গায়েব ঘটনার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলম যুগান্তরকে বলেন, পেট্রোবাংলার রিপোর্ট আমরা পেলে সেখানে কোন কোন কর্মকর্তার বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। দুদকের আরেক কর্মকর্তা বলেন, তদন্তকালে আমরা পেট্রোবাংলার করা তদন্ত রিপোর্টে যাদের নাম আছে তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।

কয়লা খনির ১ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা গায়েবের ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ জনকে আসামি মামলা করেন।

এই মামলার ১৯ আসামি এখন দুদকের তদন্তের আওতায়। দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামসুল আলমকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর আগে তিনি কয়লা চুরির ঘটনায় অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ছিলেন।

এদিকে পেট্রোবাংলার নিজস্ব তদন্ত কমিটির প্রধান পরিচালক (অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান বলেন, তার রিপোর্টে গত ১৩ বছরে কয়লা খনিতে হিসাবে নানা গরমিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। খনি থেকে প্রতি বছর কয়লা উত্তোলন, বিক্রি ও মজুদের কোনো তথ্য রাখা হয়নি।

কী পরিমাণ সিস্টেম লস হয়েছে তারও কোনো হিসাব নেই। তার মতে হিসাবে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। এখানে চুরি হয়েছে কিনা তার বের করতে হলে আরও অধিকতর তদন্ত করতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : বড়পুকুরিয়ায় কয়লা গায়েব

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter