অধরা রাজশাহীর সক্রিয় মাদক কারবারিরা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশকে ম্যানেজ করে কারবার চলছেই

  রাজশাহী ব্যুরো ১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অধরা রাজশাহীর সক্রিয় মাদক কারবারিরা

মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর আড়াই মাসেও রাজশাহীর মাদক চোরাচালান অধ্যুষিত এলাকার দুই শতাধিক সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ী অধরাই রয়ে গেছে। গোদাগাড়ী, চারঘাট ও বাঘা সীমান্তে রমরমাভাবে চলছে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা। কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশকে ম্যানেজ করে আবার কোথাও তাদের নজর এড়িয়ে মাদকের কারবার চলছেই।

অভিযান শুরুর পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাদক বেচাকেনার কৌশল বদল ছাড়া সবকিছুই আগের মতোই চলছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। গোদাগাড়ীতে পুলিশের তালিকাভুক্ত তিন শতাধিক হেরোইন ব্যবসায়ী রয়েছে। এদের মধ্যে শতাধিক চোরাকারবারি বড় মাপের। ভারত থেকে হেরোইন এনে তারা বড় বড় শহরে চালান করছে। এদের মধ্যে মহিষালবাড়ির শহিদুল ইসলাম ভোদল ও ইব্রাহিম এবং রেলগেটের আবদুল্লাহ আপসে ধরা দেয়, বাকিদের ধরতে পারেনি পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, গোদাগাড়ী উপজেলার কৃঞ্চবাটি কালীদীঘি গ্রামের কামরুজ্জামান কামরু পুলিশের সঙ্গে সমঝোতা করে অবাধে চালাচ্ছে হেরোইন ও ইয়াবার কারবার। এলাকাবাসীর ধাওয়ায় বছরখানেক আগে কৃঞ্চবাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হলেও রাজশাহী নগরীতে বসবাস করে কামরু তার কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

কামরুর নামে রাজশাহীর বিভিন্ন থানায় ১৭টি মাদকের মামলা রয়েছে। তার স্ত্রী রোজিনা ২৬ জুন ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আতাউর রহমান জানান, কামরুকে পুলিশ খুঁজছে। পুলিশের সঙ্গে কামরুর সখ্য নেই।

গোদাগাড়ীর শীর্ষ হেরোইন চোরাচালানিদের একজন সুলতানগঞ্জের উজ্জ্বল হোসেন পুলিশের সঙ্গে সমঝোতা রেখে দেদার মাদকের কারবার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইভাবে উজ্জ্বলের অন্যতম সহযোগী রেলবাজারের মতিন ওরফে মতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স পরিচয় দিয়ে দিব্যি হেরোইন ও ইয়াবার কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। মতিনের দাবি, তিনি একটি বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করেন। এতে তিনি টাকা-পয়সা পেয়ে থাকেন। নিজে ও তার স্ত্রী মাদক ব্যবসা করেন না।

শরিফুল ও জহুরুল মেম্বার, শীষ মোহাম্মদ ও তার ভাই হায়দার আলী, মাদারপুরের আবদুর রহিম টিপু, টিপুর ভাই মনিরসহ অর্ধশতাধিক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

চারঘাট উপজেলার শীর্ষ ২০ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে সামাদ মোল্লা, তার ভাই কালাম মোল্লা, তজলু, ফজলু, জয়নালসহ ১৫ মাদক ব্যবসায়ী তাদের কারবার অব্যাহত রেখেছে বলেও এলাকার মানুষ জানিয়েছেন। তবে চারঘাট থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলায় শীর্ষ মাদক কারবারির সংখ্যা ২০ জন বা কয়েকজন বেশি হবে। এর মধ্যে ৩ থেকে ৪ জন গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে।

বাকিরা আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। রাজশাহীর শীর্ষ মাদক কারবারিরা আড়াই মাসের একটানা অভিযানেও গ্রেফতার না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক খান যুগান্তরকে বলেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনেক মাদক ব্যবসায়ী আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের সঙ্গে সখ্য রেখে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার এড়িয়ে চলছেন- এমন অভিযোগের বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক খান বলেন, পুলিশ এ সময়ে কাউকে শেল্টার বা প্রশ্রয় দিচ্ছে না। আগে হোক পরে হোক, সবাইকে ধরা দিতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter