ঢামেক হাসপাতালে সিন্ডিকেট

লাশ ছাড়তে ওয়ার্ড বয়দের দাবি ১০ হাজার টাকা

  ইকবাল হাসান ফরিদ ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লাশ নিয়ে ব্যবসা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা এ হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ও ব্রাদার সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। কিছু ওয়ার্ড বয় নানা অজুহাতে রোগীর স্বজনদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে থাকেন। এমনকি কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে তার লাশ ছাড়তেও তারা দাবি করেন মোটা অঙ্কের টাকা। প্রতিনিয়ত রোগী ও তাদের স্বজনরা এ চক্রের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

চাঁদপুরের কচুয়ার মাকসুদা বেগম (৪৫) তার ছোট ছেলে রিয়াজকে ডাক্তারি পড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু এইচএসসিতে তার রেজাল্ট আশানুরূপ না হওয়ায় ভেঙে পড়েন মাকসুদা। গত ৩ আগস্ট রাতে তিনি বিষ পান করেন। স্বজনরা তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। ৫ আগস্ট মাকসুদা বেগমকে ভর্তি করা হয় ঢামেক হাসপাতালের ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৭টায় মারা যান তিনি। মাকসুদা বেগমের ভাগিনা আল-মামুন যুগান্তরকে বলেন, মাকসুদা বেগম মারা যাওয়ার পর ওয়ার্ড বয় কামাল ও শাহীন এবং স্পেশাল বয় আমিনুল এসে তাদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। তারা তাদের বলেন, বিষ পানে মারা গেছে, এটা পুলিশ কেস। লাশ পোস্টমর্টেম করাতে হবে। ডোমঘরে নিয়ে কাটবে। নানারকম সমস্যা হবে। এরপর তারা কোনো ঝামেলা ছাড়া তাদের লাশ দিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারবেন বলে জানান। বিনিময়ে তারা দাবি করেন ১০ হাজার টাকা।

আল মামুন বলেন, আমরা প্রথমে সাত হাজার টাকা দিতে রাজি হই। কিন্তু তারা না মানলে আমি আট হাজার টাকা দেব বলে তাদের প্রস্তাব করি। কিন্তু তারা মানতে রাজি হয়নি। তারা ১০ হাজার টাকার দাবিতে অনড় থাকে। শুধু তাই নয়, সাফ জানিয়ে দেয় ১০ হাজার টাকা না দিলে লাশের ছাড়পত্র দেয়া যাবে না।

তিনি বলেন, আমরা তাদের বিকাশে টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেই। কিন্তু তারা তাও মানতে রাজি হয়নি। পরে আমরা মর্গ অফিসসহ অন্যান্য কাজ নিজেরা সম্পন্ন করব জানালে তারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। আমাদের ফাইলপত্র ছুড়ে ফেলে দেয়। তিনি বলেন, পরে আরেকজন ওয়ার্ড বয়ের সহযোগিতা নিয়ে আমরা শাহবাগ থানা থেকে পারমিশন করিয়ে লাশ নিয়ে বাড়ি যাই। শুধু এ ঘটনাই নয়, অভিযোগ রয়েছে, ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়ার্ড বয়, কামাল, শাহীন ও স্পেশাল বয় আমিনুল দীর্ঘদিন ধরে এভাবে লাশ ছাড়াতে মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের সঙ্গে ওয়ার্ড মাস্টার আবুল হোসেনেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ড মাস্টার আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। শুধু ওয়ার্ড বয়ই নয়, ঢামেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ব্রাদাররাও (পুরুষ নার্স) ড্রেসিং সেলাইসহ বিভিন্ন অজুহাতে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেন। ২৯ জুলাই ঢামেক হাসপাতালের ১০০ নম্বর ওয়ার্ডে এক রোগীর ড্রেসিং ও সেলাই বাবদ রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ৮০০ টাকা নেয়ার পরও আরও টাকা দাবির অভিযোগ ওঠে ব্রাদার (স্টাফ নার্স) জাকির ও রাহুলের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এ ধরনের নানা অনিয়ম অহরহ ঘটছে। অসাধু চক্র নানা অজুহাতে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অর্থকড়ি হাতিয়ে নিচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাছির উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমার জানা নেই। তিনি বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। কেউ এমন অনিয়ম করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে ওয়ার্ড মাস্টার আবুল হোসেনের কাছে মাকসুদা বেগমের লোকজন লিখিত অভিযোগ করে গেছেন বলা হলে তিনি বলেন, তা কেউ আমাকে জানায়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter