ঈদ আনন্দ

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর যমুনা ফিউচার পার্ক

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ আগস্ট ২০১৮, ১৪:২২ | প্রিন্ট সংস্করণ

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর যমুনা ফিউচার পার্ক
দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর যমুনা ফিউচার পার্ক। ছবি: যুগান্তর

রাজধানীতে এখনও ঈদের রেশ কাটেনি। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড়ই তা জানান দেয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কর্মজীবী লোকজন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের ছুটি উপভোগ করতে সকাল থেকেই বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে জড়ো হতে থাকেন।

বিশেষ করে যমুনা ফিউচার পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

শনিবার সরেজমিন দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সপরিবারে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ কার্নিভালের রোমাঞ্চকর রাইড উপভোগ করতে পার্কে প্রবেশ করছেন।

বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই বিনোদনপ্রেমীদের ভিড় বাড়তে থাকে। রোলার কোস্টার, টাওয়ার চ্যালেঞ্জার, স্কাই ড্রপ, ম্যাজিক উইন্ড মিল, পাইরেট শিপ ও ফ্লাইং ডিসকোর মতো রাইডগুলো উপভোগ করতে বিনোদনপ্রেমীদের সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

তাছাড়া বন্ধুদের পুনর্মিলনী, একান্তে কিছু সময় কাটানোসহ সব ধরনের মানুষের আনন্দ আশ্রমে পরিণত হয় যমুনা ফিউচার পার্ক।

পার্কের চত্বরে বসে যুগলদের গল্প করেও সময় পার করতে দেখা গেছে। পার্কের বাহারি আলোকসজ্জা ও রাইডের পাশে প্রিয়জনের সঙ্গে সেলফি ও ছবি তোলা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেননি দর্শনার্থীরা।

দেখা গেছে, যমুনা ফিউচার পার্কে আগত বড়রা প্রথমে কার্নিভালের রোলার কোস্টার, স্কাই ড্রপ, পাইরেট শিপ, ফোর শিপ, ম্যাজিক উইন্ড মিল, ফ্লাইং ডিসকো ও টাওয়ার চ্যালেঞ্জার রাইড উপভোগ করছেন।

পরে বাচ্চাদের নিয়ে যাচ্ছেন ফিউচার ওয়ার্ল্ডে। সুপার সুইং রাইড, বাম্পার কার, ড্রাংকার বক্সিংয়ের মতো রাইডগুলো বাচ্চাদের ঈদ আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।

খিলক্ষেত থেকে কলেজ পড়ুয়া ৮ বন্ধু ঘুরতে আসেন যমুনা ফিউচার পার্কে। তারা জানান, ঈদের পর সব বন্ধু একসঙ্গে আড্ডা দিতে এসেছেন। সন্ধ্যার পর খাওয়া-দাওয়া শেষে বাড়িতে ফিরবেন।

এদের মধ্যে একজন রাফিউল ইসলাম বলেন, রাজধানী ঢাকা মেগাসিটি হলেও খোলামেলা জায়গার অভাব রয়েছে। কোয়ালিটি বিনোদন কেন্দ্র রাজধানীতে নেই।

এগুলোতে যে রাইড আছে, সেগুলো মান্ধাতা আমলের। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংস্কার করা হয়নি। এদিক থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক অনেক আধুনিক। এখানে যেসব রাইড আছে সেগুলো বিশ্বমানের, উপভোগ করার মতো। তাই এখানে ঘুরতে আসা।

ফিউচার ওয়ার্ল্ডে বাচ্চাসহ অভিভাবকদের লাইন ধরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ডাবল ডেকার, ফ্লোটিং ব্যালে ও ৩৬০ ডিগ্রি শাফলসহ সব রাইডের সামনে প্রচুর ভিড় ছিল।

টিকিট কাউন্টারগুলোতেও ছিল লম্বা লাইন। গেম মেশিনগুলোর সামনে কয়েন হাতে ছোট ছোট শিশুদের দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

মধ্যবাড্ডা থেকে ঘুরতে আসা শাহরিয়ার ইসলাম জানান, শপিং করতে, ঘুরতে, এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে প্রায়ই এখানে আসা হয়। তবে আজ এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে।

সঙ্গে আছেন ঢাকার বাইরের অতিথিরাও। পরিবার-পরিজন নিয়ে মধ্য রাত পর্যন্ত ঘুরবেন, বিভিন্ন রাইডে চড়বেন, খাওয়া-দাওয়া, সিনেমা দেখা তারপরে বাসায় ফিরবেন।

আরেক দর্শনার্থী সোহেল রহমান বলেন, আনন্দময় সময় কাটানোর জন্য রাজধানীতে যমুনা ফিউচার পার্কের চেয়ে উপযুক্ত স্থান আর নেই। থিম পার্কের ব্যবস্থাপনায় মুগ্ধ তিনি।

ভিড় বেশি, কিন্তু হুড়োহুড়ি নেই। সবাই লাইন ধরে রাইডে চড়ছেন। সব কিছু সিস্টেমের মধ্যে হচ্ছে। তাছাড়া সব কিছুর পাশপাশি যমুনা ফিউচার পার্কের উন্নত পার্কিং ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা তাকে আকৃষ্ট করে।

যমুনা থিম পার্কের অপারেশন ম্যানেজার ফারুক হোসেন খান বলেন, যমুনা ফিউচার পার্কের কার্নিভাল, ফিউচার ওয়ার্ল্ড ও প্লেয়ার্স ক্লাবে আগত দর্শনার্থীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা ও রাইড উপভোগ করতে পারেন সেটি ব্যবস্থাপনায় থাকা কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব।

সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা বিষয়ও আছে। তাই ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের পর থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজধানীর আশপাশের এলাকার বিনোদনপ্রেমীরা কার্নিভালের রোমাঞ্চকর রাইড উপভোগ করতে এসেছেন। সব দর্শনার্থীকে উন্নত সেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter