আওয়ামী লীগের সেমিনারে বক্তারা

একটি দলের তাঁবেদারি করছে সিপিডি

যত্তসব নেগেটিভ কথা তাদের মুখে -তোফায়েল আহমেদ * ওদের মূল্য দিলে চলবে না -এইচটি ইমাম

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। তারা বলেছেন, সিপিডি ও বিএনপির বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য নেই। প্রতিষ্ঠানটি একটি রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) তাঁবেদারি করছে। আদালতের প্রতি বিএনপির কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই বলেও সেমিনারে দাবি করেন তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ৯ বছর’- শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির আহ্বায়ক এইচটি ইমাম। প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত। সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বক্তব্য দেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব শামছুল আলম, আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সাবেক এমপি রওশন আরা সাথী, ড. আওলাদ হোসেনসহ অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

ঢাকা উত্তর সিটি উপনির্বাচন স্থগিত প্রসঙ্গে বিএনপির প্রতিক্রিয়া নিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, রায় দিলেন হাইকোর্ট, আর সুযোগ নিলাম আমরা! এটা কোনো কথা হল? এ কথার জবাব দেয়াই ঠিক না। আসলে আইনের প্রতি তাদের (বিএনপির) কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই। তিনি বলেন, আমরা কি হাইকোর্টের সঙ্গে কথা বলেছি? যত্তসব নেগেটিভ কথা তাদের (বিএনপি) মুখে। এসকে সিনহাকে নিয়েও খুব লাফালাফি করেছে বিএনপি।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রংপুরের নির্বাচনে বিএনপি তৃতীয় হয়েছে, কুমিল্লায় তারা জয় পেয়েও বলছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আরও বেশি ভোট পেত। নারায়ণগঞ্জে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ করেছে বিএনপি। তিনি বলেন, এখন ঢাকা উত্তর সিটি উপনির্বাচন স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। আসলে বিচার বিভাগের প্রতি বিএনপির কোনো শ্রদ্ধা-ভক্তিই নেই।

রুহুল কবির রিজভীর নিত্যদিনের ব্রিফিংয়ের ইঙ্গিত করে তোফায়েল বলেন, বিএনপির অফিসে একজন থাকেন প্রত্যেকদিনই কথা বলেন। কখনও হাসতে দেখি না। ডানেও তাকান না, বামেও তাকান না, বলেই যাচ্ছেন। তারা বোঝেন না- প্রতিদিন কথা বললে সেটা মানুষ ভালোভাবে নেয় না। এখন আবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সমালোচনা করে তার দেয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, সিপিডির বক্তব্য আর বিএনপির বক্তব্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আমাকে একজন বললেন, সিপিডির সঙ্গে বিএনপির তুলনা করাটা ঠিক হয়নি। আমি তাকে বললাম দেখ, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেয়ার কথা বিএনপির। কিন্তু সেই বক্তব্যটা দিল সিপিডি। বিএনপি আর সিপিডি তো একই। বিএনপি যে নেগেটিভ কথাগুলো বলে আমাদের বিরুদ্ধে সেই কথাগুলোই সিপিডি বলেছে।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বর্ণনা করে আওয়ামী লীগের এ প্রভাবশালী নেতা বলেন, আজকের বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিশ্বে উন্নয়নের মডেল। বিশ্বের ৪৯টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে আমরা শীর্ষে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুটি স্বপ্ন ছিল। একটি দেশকে স্বাধীন করা। আরেকটি বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত করা। তিনি যতটুকু পেরেছেন করে গেছেন। বাকি কাজটুকু করছেন তারই কন্যা শেখ হাসিনা। সিপিডি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করছে কেন? জবাবে এইচটি ইমাম বলেন, সিপিডি এখন পলিটিক্যাল ইকোনমি করছে। তারা অন্য একটি রাজনৈতিক দলের তাঁবেদারি নিয়ে ব্যস্ত। আসলে যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা। ওদের মূল্য দিলে চলবে না। আমাদের নিজেদের মতো করে এগিয়ে যেতে হবে। ‘প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সরকারের অবস্থান কী’- এক তরুণের এমন প্রশ্নে এইচটি ইমাম বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস বর্তমানে বড় রকমের সমস্যা। কোনো দেশ এগিয়ে যাওয়ার সময় এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। এটা সরকারকে যন্ত্রণা দিয়ে থাকে।’ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কোচিং সেন্টারকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য কোচিং সেন্টার একটি সমস্যা। পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে হবে। ভিন্ন প্রশ্নে এইচটি ইমাম বলেন, ‘চাষযোগ্য জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। এটি একটি বড় সমস্যা। দেশ যখন এগিয়ে যায় তখন এরকম কিছু সমস্যা এসে পড়ে।’ দেশে ধনী-গরিবের বৈষম্য অনেক কম দাবি করে এইচটি ইমাম বলেন, ‘তবে কয়েকজন ব্যক্তি ধনাঢ্য হলেও তারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। দেশে ধনী-গরিবের বৈষম্য থাকবে না। এটা দূর হবে।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যে পথনির্দেশ দিয়ে গেছেন আমরা সেপথেই এগিয়ে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্যে পৌঁছাতে আর বেশি সময় লাগবে না। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বিএনপি যে নৈরাজ্য করেছিল তা আগামী নির্বাচনের আগে করতে দেয়া হবে না দাবি করে এইচটি ইমাম বলেন, এসব অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বাংলাদেশে আর আসবে না। নির্বাচনের আগে সব নেতাকর্মীকে সরকারের উন্নয়ন চিত্র সাধারণ মানুষদের মাঝে তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত বলেন, পদ্মা সেতু আমরা নিজেদের অর্থ দিয়ে তৈরি করছি। এটাই প্রমাণ করে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে কতটা এগিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×