মডেল পৌরসভা উপহার দিতে চাই
jugantor
মডেল পৌরসভা উপহার দিতে চাই
নিজস্ব ঠিকানা ছাড়াই চলছে ১৩ বছর

  আবদুর রশিদ রেনু, সিলেট ব্যুরো  

১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভা গঠনের ১৩ বছর পরও নিজস্ব ঠিকানা হয়নি। কানাইঘাট ইউনিয়ন পরিষদের জরাজীর্ণ কার্যালয়ে ভাগাভাগি করে চলছে এর কার্যক্রম। এ কারণে প্রয়োজনীয় নাগরিকসেবা দিকে হিমশিম খাচ্ছে পৌর পরিষদ। সম্প্রতি নিজস্ব ঠিকানার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন পৌরমেয়র নিজাম উদ্দিন আল মিজান। তিনি জানিয়েছেন, নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি কানাইঘাটকে মডেল পৌরভায় পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

২০০৫ সালের ২৫ অক্টোবর কানাইঘাট পৌরসভা গঠিত হয়। ৩১টি গ্রাম নিয়ে ৯ ওয়ার্ডবিশিষ্ট পৌরসভার আয়তন চার হাজার ৬৭৬.৯৫ একর। ২৫ হাজার ৪৯৯ জনসংখ্যার পৌরসভায় ভোটার ১২ হাজার ৭৯৩। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন আল মিজান। তিনি পরাজিত করেন তৎকালীন মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক লুৎফুর রহমানকে।

মেয়র নিজাম উদ্দিন আল মিজান যুগান্তরকে জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি পৌরসভা ও পৌরবাসীর উন্নয়নে প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছেন। গত দুই বছরে পৌরসভায় প্রায় চার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়নকাজ। প্রতিটি ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কাজের ছোঁয়া কানাইঘাটেও লেগেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কানাইঘাট জিরো পয়েন্ট থেকে পুরো পৌরসভার রাস্তা ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৫২ ফুট করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে ডিভাইডার। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সংস্কারকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। উন্নয়নকাজে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সহযোগিতা করছেন।’

পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে মাস্টার প্লান গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কাজটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে পৌরবাসীকে ফিল্টার দিয়ে পানি সরবরাহ করার পদক্ষেপটি প্রক্রিয়াধীন আছে। পৌরসভার পক্ষ থেকেই বিগত রমজানে কানাইঘাট বাজারে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে। আশা করছি আগামী রমজানে ফিল্টার দিয়ে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ডিপ টিউবওয়েল দিয়ে বাজারে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।’

মেয়র মিজান বলেন, ‘ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া পৌরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬০ বছরের বেশি বয়সী লোকদের হেলথ স্মার্ট কার্ড প্রদান। মা ও শিশুর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে করণীয় সম্পর্কে ভাবা হচ্ছে।’ শিক্ষাকে উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার উল্লেখ করে মিজান বলেন, ‘কানাইঘাট পৌরসভার ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়া হবে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু করা হবে ডিজিটাল পদ্ধতি।’

মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণকালে পৌরসভায় কয়েক কোটি টাকা ঘাটতি ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তা অনেকটা কাটিয়ে উঠেছি। একসময় পৌর কর আদায়ের হার ছিল ১২-১৩ শতাংশ। বর্তমানে কর আদায়ের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ শতাংশে। অবহেলিত কানাইঘাট পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় উন্নীত করতে সব মহলের সহযোগিতা চাই।’

মডেল পৌরসভা উপহার দিতে চাই

নিজস্ব ঠিকানা ছাড়াই চলছে ১৩ বছর
 আবদুর রশিদ রেনু, সিলেট ব্যুরো 
১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভা গঠনের ১৩ বছর পরও নিজস্ব ঠিকানা হয়নি। কানাইঘাট ইউনিয়ন পরিষদের জরাজীর্ণ কার্যালয়ে ভাগাভাগি করে চলছে এর কার্যক্রম। এ কারণে প্রয়োজনীয় নাগরিকসেবা দিকে হিমশিম খাচ্ছে পৌর পরিষদ। সম্প্রতি নিজস্ব ঠিকানার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন পৌরমেয়র নিজাম উদ্দিন আল মিজান। তিনি জানিয়েছেন, নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি কানাইঘাটকে মডেল পৌরভায় পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

২০০৫ সালের ২৫ অক্টোবর কানাইঘাট পৌরসভা গঠিত হয়। ৩১টি গ্রাম নিয়ে ৯ ওয়ার্ডবিশিষ্ট পৌরসভার আয়তন চার হাজার ৬৭৬.৯৫ একর। ২৫ হাজার ৪৯৯ জনসংখ্যার পৌরসভায় ভোটার ১২ হাজার ৭৯৩। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন আল মিজান। তিনি পরাজিত করেন তৎকালীন মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক লুৎফুর রহমানকে।

মেয়র নিজাম উদ্দিন আল মিজান যুগান্তরকে জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি পৌরসভা ও পৌরবাসীর উন্নয়নে প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছেন। গত দুই বছরে পৌরসভায় প্রায় চার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়নকাজ। প্রতিটি ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কাজের ছোঁয়া কানাইঘাটেও লেগেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কানাইঘাট জিরো পয়েন্ট থেকে পুরো পৌরসভার রাস্তা ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৫২ ফুট করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে ডিভাইডার। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সংস্কারকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। উন্নয়নকাজে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সহযোগিতা করছেন।’

পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে মাস্টার প্লান গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কাজটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে পৌরবাসীকে ফিল্টার দিয়ে পানি সরবরাহ করার পদক্ষেপটি প্রক্রিয়াধীন আছে। পৌরসভার পক্ষ থেকেই বিগত রমজানে কানাইঘাট বাজারে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে। আশা করছি আগামী রমজানে ফিল্টার দিয়ে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ডিপ টিউবওয়েল দিয়ে বাজারে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।’

মেয়র মিজান বলেন, ‘ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া পৌরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬০ বছরের বেশি বয়সী লোকদের হেলথ স্মার্ট কার্ড প্রদান। মা ও শিশুর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে করণীয় সম্পর্কে ভাবা হচ্ছে।’ শিক্ষাকে উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার উল্লেখ করে মিজান বলেন, ‘কানাইঘাট পৌরসভার ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়া হবে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু করা হবে ডিজিটাল পদ্ধতি।’

মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণকালে পৌরসভায় কয়েক কোটি টাকা ঘাটতি ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তা অনেকটা কাটিয়ে উঠেছি। একসময় পৌর কর আদায়ের হার ছিল ১২-১৩ শতাংশ। বর্তমানে কর আদায়ের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ শতাংশে। অবহেলিত কানাইঘাট পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় উন্নীত করতে সব মহলের সহযোগিতা চাই।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন