রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের শেষ ধাপ কাল

সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে জাতীয়তাবাদী পরিষদের আহ্বান

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের ২৫ জন প্রতিনিধি নির্বাচনে ঢাকার বাইরের কয়েকটি কেন্দ্রে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী পরিষদ। আওয়ামী লীগ ও বাম সমর্থিত গণতান্ত্রিক ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রগুলোয় ভোটার ও সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে এবং হামলা করেছে বলেও অভিযোগ তাদের। আগামীকাল শনিবার শেষ ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান এ আহ্বান জানান। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, ঢাবির অধ্যাপক ও সিনেটের সাবেক সদস্য ড. মোর্শেদ হাসান খান, ঢাবি সাদা দলের শিক্ষক নেতা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তবে জাতীয়তাবাদী পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান উপস্থিত ছিলেন।

আগামীকাল শনিবার ঢাকার তিনটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলো হল- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন (১-১৮০০০ পর্যন্ত আজীবন সদস্য), ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (১৮০০১-৩৭২৩৩ পর্যন্ত আজীবন সদস্য) এবং শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র (৩৭২৩৪- ৪৩৯৯৭ পর্যন্ত এককালীন সদস্য)। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ৪৬(১৪) ধারা অনুযায়ী ভোটার আইডি কার্ড দেখিয়ে ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। ভোটদানপত্র গ্রহণ করার সময় ভোটার কার্ড পুলিং অফিসারের কাছে অর্পণ করতে হবে। আগামী ২১ জানুয়ারি রোববার সব কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

সাদা দলের লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক আখতার হোসেন খান বলেন, গত ৬, ১৩ ও ১৬ জানুয়ারি ঢাকার বাইরে মোট ৪২টি কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা অত্যন্ত দুঃখ, পরিতাপ এবং ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে আমরা নির্ভয়ে প্রচার কাজ করতে পারিনি। শুধু তাই নয়, কয়েকটি কেন্দ্রে আমাদের সমর্থকদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। পটুয়াখালী, ভোলা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ এবং ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ কেন্দ্রে নির্বাচনী প্যান্ডেল ভেঙে দিয়ে আমাদের সমর্থকদের ওপর লাঠি, রড ইত্যাদি দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে এবং নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাও নিতে হয়েছে।

আখতার হোসেন খানের অভিযোগ, এ কেন্দ্রগুলো ছাড়াও অনেক কেন্দ্রে আমাদের সমর্থকদের প্রচার কাজে বাধা দেয়া হয়েছে এমনকি কোথাও কোথাও ভোটারদেরও ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেয়া হয়েছে। আমরা এসব ঘটনার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে জানিয়েছি। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার পাদপীঠ এবং গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আগামীকালের নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বলেন, সবারই মনে রাখা উচিত- এ নির্বাচনে যারা ভোট দিতে আসেন তারা সবাই এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী। তাদের কাছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক তা কখনোই কাম্য হতে পারে না। ড. আখতার হোসেন খান বলেন, সারা জাতি আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরিবেশের ওপর প্রখর দৃষ্টি রাখছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ কেমন হবে তার একটা প্রমাণ পাওয়া যাবে এ নির্বাচনে। তাই জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য হলেও ঢাবির নির্বাচনী পরিবেশ কালিমামুক্ত রাখা অপরিহার্য। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী ঢাবির মান-সম্মান অক্ষুণœ রাখার স্বার্থে এ নির্বাচনের শেষ ধাপে এসব অনাকাক্সিক্ষত, অনভিপ্রেত এবং ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ঢাবি প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। নতুবা সব দায়-দায়িত্ব সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপরই বর্তাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সিনেটে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।