মাধবপুরে ২ সন্তান ও স্ত্রী হত্যায় মামলা

যৌতুক ও পরকীয়ার নেশায় পেয়ে বসেছিল মুজিবুরকে

  মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যৌতুক

যৌতুকের নেশায় পেয়ে বসেছিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের মুজিবুর রহমানকে। পরকীয়ায় আসক্তিও ছিল তার।

এসব নিয়ে সংসারে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত। প্রতিবেশী ও মুজিবুরের শ্বশুরের বক্তব্যেও তারই সুষ্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। শনিবার রাতে নিহত গৃহবধূ হাদিছার বাবা শামিম মিয়া বাদী হয়ে ৭ জনের নামে যে মামলা করেছেন, সেখানেও যৌতুক ও পরকীয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই মুজিবুর ও তার মাসহ আসামিরা গা-ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

হাদিছার স্বামী মুজিবুর রহমানই যে মূল ঘাতক, সে বিষয়ে প্রাথমিক প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। মুজিবুর ও তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার করতে পারলেই অনেক অজানা প্রশ্নের জবাব মিলবে। এদিকে ঘাতক মুজিবুর আত্মহত্যা করেছে বলে যে গুজব ছড়িয়ে রয়েছে, তারও সত্যতা পায়নি পুলিশ।

কথা বলে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য চাপাচাপি করতে থাকে জেলার মাধবপুর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান। এক দশক আগে বিয়ে হলেও এরই মধ্যে কয়েক দফায় তাকে বিপুল অঙ্কের অর্থও যৌতুক হিসেবে দেয়া হয়েছে।

পরনারীর প্রতিও তার ছিল নিরন্তর আসক্তি। এ নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকত। এসব নিয়ে সংসারে আশান্তি চলছিল। জানতে চাইলে নিহত হাদিছার বাবা শামিম মিয়া বলেছেন, যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে বাঁচতে দিল না সে। মেয়ের বিয়ের সময় আমি সাধ্য অনুযায়ী যৌতুক দেই। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের জন্য হাদিছাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এ নিয়ে ৭ দফা সালিশ বৈঠকও হয়েছে।

মেয়ের সুখ-শান্তির কথা চিন্তা করে একাধিকবার অর্থও দেয়া হয়েছে। সবশেষ ঘর তৈরি করার জন্য ইট, রড দেয়া হয়েছে। আরও চাই, আরও চাই নেশায় পেয়ে বসেছিল তাকে।

এ নিয়ে আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছিল। পরকীয়া নিয়ে আমার মেয়ের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। মেয়ে আমাকে কয়েকবার অভিযোগও করেছে। পুলিশ বলছে, ঘাতক প্রথমে হাদিছাকে খুন করে, পরে দুটি অবুঝ শিশুকেও নৃশংসভাবে হত্যা করে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ বলছে, ট্রিপল মার্ডারের হোতা মুজিবুর রহমান মজিদই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খুবই গুরুত্বের সঙ্গে মামলার তদন্ত কাজ চলছে। কয়েকটি বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হবে।

হাদিছার মা নীলরোজা খাতুন একমাত্র মেয়ে ও আদরের নাতি, নাতনির লাশ দেখে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। বুক চাপড়ে বারবার আল্লাহর কাছে বিচার চাইছিলেন। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা গা-ঢাকা দিয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, মুজিবুর রহমান সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে পারে।

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, মামলার তদন্ত ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কামরুজ্জামানকে দেয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার (এসপি) বিধান ত্রিপুরার নির্দেশে থানা পুলিশ, জেলার গোয়েন্দা শাখা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ঘটনার রাতেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দাসহ আনুষঙ্গিক আলামত জব্দ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসেনি। শিগগিরই ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেয়ে যাব বলে আশা করি।

শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে হাদিছার পরিবারের কাছে তিন ও সাত বছর বয়সী দুই সন্তানসহ তার লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। হাদিছার লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় বুধন্তি ইউনিয়নের কেনা গ্রামে নিয়ে গেলে এলাকার লোকজন ভিড় জমায়। স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সন্ধ্যায় তাদের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

শক্রবার রাতে মাধবপুর উপজেলার নিজনগর গ্রামের ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান মজিদের ঘর থেকে তার স্ত্রী হাদিছা বেগম (২৫), তার শিশুকন্যা মিম (৩) এবং ৭ মাসের শিশুপুত্র মোজাহিদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter