চলনবিলে নৌকাডুবি

বাকি দু’জনের লাশ উদ্ধার

১৭ জনের প্রাণ বাঁচালেন দু’জন, স্বীকৃতি পেলেন একজন!

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লাশ উদ্ধার

চলনবিলে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাকি দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকাল ৭টার দিকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে শুক্রবার নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচজনের লাশই উদ্ধার করা হল।

রোববার চলনবিলের সমাজ এলাকায় ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন গণির লাশ এবং হান্ডিয়ালের ভাঙ্গাজোলা এলাকায় ঈশ্বরদীর আমবাগান এলাকার ব্যবসায়ী স্বপন বিশ্বাসের লাশ ভেসে উঠে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাশ দুটি উদ্ধার করেন।

চাটমোহর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, সকাল ৭টার দিকে সমাজ এলাকা থেকে বিল্লাল গণির মরদেহ এবং সকাল ৮টার দিকে স্বপন বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল। লাশগুলো উপজেলা প্রশাসনের কাছে হন্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে চলনবিলের চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল পাইকপাড়া ঘাট এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

নৌকার ছইয়ের ওপর দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে সেলফি তোলার সময় ছই ভেঙে পড়লে নৌকাটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ১৭ জন বেঁচে গেলেও পাঁচজন নিখোঁজ হয়। নিখোঁজদের মধ্যে একজনের লাশ শুক্রবার, দু’জনের শনিবার এবং বাকি দু’জনের লাশ রোববার সকালে উদ্ধার করা হয়।

১৭ জনের প্রাণ বাঁচালেন দু’জন, স্বীকৃতি পেলেন একজন! : নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচজন প্রাণ হারালেও গৃহবধূ শাহনাজ পারভীন ও কিশোর সুমন হোসেনের বুদ্ধিমত্তায় ১৭ জন প্রাণে বেঁচে গেছেন।

সরেজমিন নৌকাডুবির পূর্ব মুহূর্তের অনেক কথা জানা গেছে। সন্ধ্যার আগে বিল থেকে ডিঙি নৌকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন পাইকপাড়া গ্রামের আবদুস সামাদের ছেলে সুমন।

আর নদীর তীরে দাঁড়িয়েছিলেন একই গ্রামের আশরাফ আলীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন। চিৎকার-চেঁচামেচি, বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনে নদীপাড়ে বেঁধে রাখা একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান শাহনাজ। সুমনও সেখানে এগিয়ে আসেন। দু’জন মিলে একে একে ১৭ জনকে উদ্ধার করেন।

ঘটনাটি জানার পর শনিবার সুমনকে ‘বীর’ হিসেবে আখ্যা দেন পাবনা জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন। বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য হান্ডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র সুমনকে শিক্ষা সহায়তা বাবদ নগদ পাঁচ হাজার টাকা দেন এবং শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করেন ডিসি।

তবে এই বীরত্বপূর্ণ কাজের কোনো স্বীকৃতি পাননি গৃহবধূ শাহনাজ! তবে স্বীকৃতি না মেলায় কোনো আক্ষেপ নেই গৃহবধূ শাহনাজের। শাহনাজ বলেন, ‘আমার কোনো পুরস্কার লাগবি লয়, মানুষের জীবন বাঁচিছে ইডাতই আমি খুশি।’ একজন নারী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এতোগুলো মানুষের প্রাণ বাঁচানোয় গ্রামবাসীরা শাহনাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

বেঁচে যাওয়া রফিকুল ইসলাম ও শফিউল বাশার যুগান্তরকে বলেন, ‘ওই মহিলা (শাহনাজ) ও ছোট্ট ছেলেটি (সুমন) না থাকলে আমরাও বাঁচতাম না। তারা হাত ধরে আমাদের নৌকায় তুলেছে। প্রাণে বাঁচিয়েছে। আমরা সবাই ওই দু’জনের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার যুগান্তরকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসক সুমনের শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। আর তাৎক্ষণিকভাবে শাহনাজ পারভীনের ব্যাপারে জানা যায়নি। অবশ্য পরে শুনেছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাহনাজকেও সহায়তা করা হবে জানান তিনি।

হান্ডিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ওই নারী (শাহনাজ) ও কিশোর সুমন ওই সময় এগিয়ে না গেলে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত। সুমনকে ডিসি পুরস্কৃত করেছেন। তবে শাহনাজের বিষয়টি অগোচরে থেকে গেছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter