খুলনায় শতকরা ৬৪ ভাগ গাড়ির ফিটনেস নেই

১৮ হাজার চালক অবৈধ

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাড়ি

খুলনায় ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। অদক্ষ চালকের হাতে এসব ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর ফলে দুর্ঘটনাও বাড়ছে।

বিশেষ করে রূপসা-বাগেরহাট বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির আওতাধীন প্রায় শতভাগ অচল গাড়িও চলাচলের অভিযোগ রয়েছে।

এমন অনেক যানবাহন এসব সমিতির আওতায় চলে- যেগুলোর দীর্ঘদিন ধরে কোনো ফিটনেস নেই। ক্ষমতাসীনদের প্রভাব, বিআরটিএ এবং পুলিশকে ম্যানেজ করেই কোস্টার রোসা ৬ স্যালেন্ডার, রোসা ৪ স্যালেন্ডার, টয়োটার মতো বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে।

এদিকে খুলনা বিআরটিএ’র আওতাধীন ৮২ হাজার ৬৯৬টি যানবাহন থাকলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ৬৪ হাজার ৪১৩ জন চালকের। ফলে অবৈধভাবে গাড়ি চালাচ্ছে ১৮ হাজার ২৮৩ জন।

অন্যদিকে ফিটনেসযোগ্য গাড়ির পরিমাণ ১৫ হাজার ৬০টি থাকলেও ফিটনেস নিয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৪৪৫টি যানবাহনের। ফলে ৬৪ ভাগ যানবাহনই ফিটনেসবিহীনভাবে চলছে।

এদিকে খুলনা বিআরটিএ থেকে ৬৭ হাজার ৬৩৬টি মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করা হলেও অধিকাংশ চালকই অবৈধভাবে গাড়ি চালাচ্ছে। বিশেষ করে খুলনা থেকে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করে জেলার তেরখাদা, দাকোপ, কয়রা এলাকায় অদক্ষ চালকরা প্রতিনিয়ত ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাচ্ছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ট্রাফিক বিভাগ নগরীর ২৯টি পয়েন্টে গেল ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে ১০ দিনে বিভিন্ন যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ৪ হাজার ৬৩১টি। জরিমানা আদায় করেছে ২০ লাখ ২ হাজার ৩০০ টাকা। ৫ আগস্ট থেকে টানা ১০ দিনের ট্রাফিক সপ্তাহ চলে। এরমধ্যে ট্যাক্স টোকেন না থাকা, ফিটনেস না থাকা, রুট পারমিট না থাকা, ইন্সুরেন্স না থাকা ইত্যাদি কারণে ১ হাজার ৪১৫টি এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, সিটবেল্ট ব্যবহার না করা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইলে কথা বলা, হেলমেট ব্যবহার না করা, মোটরসাইকেলে দুইয়ের অধিক আরোহী থাকা, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো, আদেশ অমান্য করা ইত্যাদি কারণে ৩ হাজার ২১৬ জন চালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কেএমপির ট্রাফিক বিভাগের এডিসি মো. কামরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ট্রাফিক সপ্তাহে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া গেছে। তবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে দুর্ঘটনা কমবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। কেএমপির ট্রাফিক বিভাগের জনবল সংকটের কারণে অভিযানে সমস্যা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

খুলনা বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, শতকরা ৮০ ভাগ ট্রাক ও ২০ ভাগ বাসের ফিটনেস নেই। ট্রাফিক সপ্তাহ ও রাস্তায় শিক্ষার্থীদের চেকিংয়ের কারণে অনেকেই ফিটনেস আপডেট শুরু করেছে। যেসব যানবাহন ১০ বছরেও ফিটনেস করা হয়নি তার সব ডাটা আপডেট বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, খুলনা বিআরটিএ’র আওতাধীন ৮২ হাজার ৬৯৬টি যানবাহন রেজিস্ট্রেশন নেয়া আছে। এর মধ্যে ফিটনেসযোগ্য গাড়ির পরিমাণ ১৫ হাজার ৬০টি থাকলেও ফিটনেস নিয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৪৪৫টি যানবাহনের। সর্বসাকুল্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়েছে মাত্র ৬৪ হাজার ৪১৩ জন চালক।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter