বখাটের ছুরিকাঘাত

স্কুলছাত্রী তুলি শঙ্কামুক্ত নয়, কেটে গেছে রক্তনালি

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

কলাপাড়ায় বখাটে মাদকসেবী নাঈমের ছুরিকাঘাতে মৃত্যুশঙ্কায় থাকা নবম শ্রেণীর ছাত্রী তুলির পেট থেকে ছুরি অপসারণ করা হয়েছে। শনিবার রাতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।

তার জীবন এখনও গভীর সংকটে। খাদ্যনালিতে ছিদ্র দেখা দিয়েছে। কাটা পড়েছে রক্তনালি। এজন্য বিশেষ পরিচর্যায় রয়েছে তুলি। সে কলাপাড়ার ধুলাসার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহিম চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, মেয়েটির খাদ্যনালিতে অনেক ছিদ্র হয়ে গেছে। কয়েকটি রক্তনালি কাটা পড়েছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগবে।

এদিকে অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান তুলির এখন চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন। কলাপাড়ার গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তুলির চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

শ্রমজীবী বাবার চার সন্তানের মধ্যে তুলি দ্বিতীয়। উচ্চশিক্ষা নিয়ে মা-বাবাসহ ভাইবোনের সংসারে সহায়তা করার ইচ্ছা তার। কিন্তু বখাটে নাঈম সেই স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। সে তুলিকে হত্যার চেষ্টা চালায়।

বখাটে রনি গ্রেফতার হয়নি : অপরদিকে বখাটে নাঈমের সহযোগী ধুলাসারের সোহাগ গাজীর ছেলে বখাটে রনি গাজী গ্রেফতার হয়নি। তুলির সহপাঠীরা ঘাতক নাঈমকে পাকড়াও করে পুলিশে দেয়ার ফাঁকে সহযোগী রনি গাজী মোটরসাইকেলসহ সটকে পড়ে।

শনিবার সকালে ছুরিকাঘাতের শিকার তুলিকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মহিপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মূল অভিযুক্ত বখাটে নাঈমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হত্যাচেষ্টার বেশকিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। সহযোগী রনি গাজীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওসি জানান, রোববার সকালে এ বিষয়ে ধুলাসার আলহাজ জালাল উদ্দিন কলেজ মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন, কলাপাড়া থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মহিপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান, কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলী আহম্মেদ, ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জলিল আকন প্রমুখ।