তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা

শহিদুল আলমকে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দেয়ার নির্দেশ

যুক্তরাজ্য সরকারের ভূমিকা জানতে চান এমপি রূপা

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে কারাগারে প্রথম শ্রেণীর বন্দির মর্যাদা দিতে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার স্বরাষ্ট্র সচিব ও কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি এই আদেশ দেয়া হয়। এদিকে শহিদুলের মুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাজ্য সরকারের ভূমিকা জানতে চেয়েছেন সে দেশের এমপি রূপা হক। মঙ্গলবার হাউস অব কমন্সের নিয়মিত অধিবেশনে তিনি এ ব্যাপারে জানতে চান।

ঢাকায় শহিদুল আলমের স্ত্রীর করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ শহিদুলকে কারাগারে প্রথম শ্রেণীর বন্দির মর্যাদা দিতে আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

আদালত থেকে বের হয়ে সারা হোসেন বলেন, শহিদুল আলমকে জেলখানায় ডিভিশন দেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সামাজিক অবস্থান ও শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে তাকে ডিভিশন দিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২৭ আগস্ট বিচারিক আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে ডিভিশন চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল।

কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ওই আদালতও একই আদেশ দেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাকে জামিনও দেয়া হয়নি। এই কারণে ডিভিশন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, শহিদুল আলমকে কারাগারে প্রথম শ্রেণীর বন্দির সুবিধা দিতে স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজি প্রিজনের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ‘উসকানিমূলক’ তথ্য প্রচারের অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় ৬ আগস্ট শহিদুল আলমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

এর আগের দিন রাতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে তাকে আটক করে ডিবি। সাত দিনের রিমান্ড শেষে ১২ আগস্ট শহিদুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন নিম্ন আদালত।

যুক্তরাজ্য সরকারের ভূমিকা জানতে চান এমপি রূপা হক : শহিদুল আলমের বন্দিদশা নিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির এমপি রূপা হক।

পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দফতরের প্রতিমন্ত্রী অ্যালান ডানকানকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কারাবন্দি ও নির্যাতনের শিকার আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তির জন্য যুক্তরাজ্য সরকার কী করছে? শহিদুল আলমের পক্ষে শ্যারন স্টোন ও ১০ জন নোবেল বিজয়ী কথা বলেছেন। অথচ তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী কি বন্ধুরাষ্ট্রটিকে এই বার্তা পৌঁছে দেবেন যে নির্মম এই আইন বাংলাদেশের একসময়কার সক্রিয় সুশীলসমাজকে শেষ করে দিচ্ছে? জবাবে প্রতিমন্ত্রী ডানকান বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগের (ডিএফআইডি) প্রতিমন্ত্রী অ্যালেস্টেয়া রবার্ট গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরকালে বিষয়টি সরাসরি তুলে ধরেছেন।

একইসঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সাধ্যমতো বিষয়টি নিয়ে জোরালো ভূমিকা রাখছেন।

লন্ডন শহরের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড একটন আসনের এমপি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রূপা হক ১৩ আগস্ট এক বিবৃতিতে শহিদুল আলমের মুক্তি দাবি করেছেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি। আলাদা বিবৃতিতে একই ধরনের আহ্বান জানান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরেক এমপি রুশনারা আলী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকও এক বিবৃতিতে অবিলম্বে শহিদুল আলমের মুক্তি দাবি করেছেন। টিউলিপ লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনের এমপি।