ইতিবাচক দেখছেন অর্থনীতিবিদরা

শেয়ারবাজারে দুদকের অভিযান

আইসিবি’র ১৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৩ মামলা * অবৈধ সম্পদের খোঁজে প্রতিদিনই ব্রোকারেজ হাউসে আসছে চিঠি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজার

শেয়ারবাজারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আতঙ্ক চলছে। সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনের (আইসিবি) ১৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও কয়েকটি মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। এসব মামলায় অদৃশ্য কারণে প্রভাবশালীদের কারও কারও নাম আসামির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও সম্পদের খোঁজে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিনই ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে চিঠি আসছে। এই তালিকায় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।

দুদকের এই অভিযানের বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি ইতিবাচক। কারণ বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্ত পদক্ষেপ দরকার। তবে যখন কারসাজি হয়, তখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নীরব থাকে। ওই সময়ে ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যেত।

জানা গেছে, মার্জিন ঋণের নীতিমালা লংঘন করে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গত কয়েক দিনে ১৩টি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর বেশির ভাগই আইসিবির কর্মকর্তা। প্রায় ৭০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।

এতে আসামিরা হলেন আইসিবির সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) টিপু সুলতান ফারাজি, তিন সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. এহিয়া মণ্ডল, মো. সামছুল আলম আকন্দ ও শরিকুল আনাম, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ধনঞ্জয় কুমার মজুমদার।

এ ছাড়াও রয়েছেন আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. আবদুস সামাদ ও তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার, তেজগাঁও স্টাফ কোয়ার্টারের এ কে এম রেজাউল হক ও তার স্ত্রী পাপিয়া সুলতানা, মোহাম্মদপুর খিলজী রোডের লাইলা নূর, তেজাগাঁও মণিপুরিপাড়ার এ কে এম আতিকুজ্জামান, গ্রিন রোডের কাজী মাহমুদুল হাসান, গুলশানের শেখ মেজবাহ উদ্দিন ও তার মেয়ে শিমা আক্তার এবং শ্যামলীবাগের বুলবুল আক্তার।

এর মধ্যে আইসিবির তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন টিপু সুলতান ফারাজি, মো. এহিয়া মণ্ডল ও মো. আবদুস সামাদ। এখনও এদের জামিন হয়নি।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে উল্লম্ফনের সময় কারসাজির ঘটনাগুলো ঘটে। ওই সময় বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ফলে আইন লংঘন করে সরকারি অর্থে অস্বাভাবিক ঋণ নিয়ে শেয়ার কেনেন।

পরে বাজারে দরপতন হলে সরকারের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়। আইসিবির সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানির (আইএসটিসিএল) কিছু কর্মকর্তা গ্রাহককে অনিয়মের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ করে দিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের শেষ দিকে এ-সংক্রান্ত অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দীর্ঘ অনুসন্ধানে আইসিবির বেশ কিছু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে মামলার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে মামলায় প্রভাবশালীদের আসামি করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই সময়ে আইসিবির শীর্ষ পদে যারা ছিলেন, মামলায় আসামির তালিকায় তাদের নাম নেই।

অন্যদিকে অবৈধ সম্পদের খোঁজে শেয়ারবাজারে দুদকের অনুসন্ধান চলছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের তথ্য চেয়ে প্রতিদিনই ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে চিঠি আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ব্যক্তির সম্পদের তথ্য চেয়ে চিঠি এসেছে এর মধ্যে রয়েছে ডা. মো. হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্য, সিভিল সার্জন ঢাকা অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মো. নাছির উদ্দিন, বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এএইচএম ফরহাদুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলামের সম্পদের তথ্য চেয়ে সবগুলো ব্রোকারেজ হাউসে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়াও শ্রীমঙ্গল পৌর সভার মেয়র মো. মহসিন মিয়া ওরফে মধুমিয়া ও তার পরিবারের চার সদস্য। রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে এভাবে অভিযান দাবি করে মধু মিয়া যুগান্তরকে বলেন, সৎভাবেই জীবনযাপন করে আসছি। এর কোনো ভিত্তি নেই।

এ ছাড়াও নড়াইলের সাবেক সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাব রেজিস্ট্রি অফিসের পিয়ন মো. তরিকুল ইসলামের শেয়ারের তথ্য চেয়ে দুদকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter