অস্থায়ী কর্মকর্তাদের জন্য আটকা স্থায়ীদের পদোন্নতি

কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরোধ প্রকাশ্যে

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড

তিন বছরের জন্য ডেপুটেশনে আনা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অস্থায়ী কর্মকর্তাদের জন্য আটকে আছে স্থায়ীদের পদোন্নতি।

দফায় দফায় পদোন্নতির পরও শিক্ষকতায় ফিরতে চান না অস্থায়ী কর্মকর্তরা। ডেপুটেশনে (প্রেষণে) এসব শিক্ষককে আনা হলেও ১৬ বছর ধরে ঘুরেফিরে শিক্ষা বোর্ডেই চাকরি করছেন এমন কর্মকর্তাও রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, অস্থায়ী শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম চলছে। অথচ নিয়মানুযায়ী ৩ বছর পর তাদের বদলি করার কথা থাকলেও এ ক্ষেত্রে নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না।

বিভিন্ন লবিং ও তদবির করে বছরের পর বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন পদ আঁকড়ে ধরে আছেন ডেপুটেশনে আসা এসব কর্মকর্তা। এ কারণে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতি হওয়ার সুযোগ মিলছে না।

এ নিয়েও অসন্তোষ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বর্তমানে স্থায়ী কর্মচারী আর অস্থায়ী কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে। অস্থায়ী কর্মকর্তারা বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত।

বিভিন্ন লবিংয়ের মাধ্যমে বোর্ডের শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার পর আর শিক্ষকতায় ফিরতে চান না তারা। ফলে মাঝে মধ্যে প্রকাশ্যে চলে আসে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরোধ।

শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রেষণে নিয়োজিত বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে ১১ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে ৪ কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা কয়েক দফায় পদোন্নতি পেয়েও ঘুরেফিরে শিক্ষা বোর্ডেই রয়ে গেছেন।

এর মধ্যে রেজা মো. এনামুল হক চৌধুরী ১৬ বছর ধরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে দায়িত্ব পালন করছেন। ২২ ডিসেম্বর ২০০২ সালে ইতিহাস বিভাগের লেকচারার থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ডেপুটেশনে যোগ দেন তিনি।

বোর্ডে থাকাকালীন প্রথমে সহকারী অধ্যাপক এবং পরে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি বোর্ডের উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপর তিন কর্মকর্তা রয়েছেন যারা সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। ২০ এপ্রিল ২০০৯ সাল থেকে আছেন আবুল কালাম মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। বর্তমানে তিনি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৪ মার্চ ২০১০ সাল থেকে আছেন মোহাম্মদ হালিম।

বর্তমানে উপকলেজ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত তিনি। একই বছরের ২৬ অক্টোবর যোগদান করেন মো. আবুল মনসুর ভূঞা। বর্তমানে উপবিদ্যালয় পরিদর্শকের দায়িত্বে আছেন তিনি। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কমিশনের আইন অনুযায়ী, একই পদে তিন বছরের বেশি কোনো কর্মকর্তার চাকরি করার বিধান নেই।

কিন্তু এই আইন মানা হচ্ছে না চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অস্থায়ী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে। অস্থায়ী কর্মকর্তারা একই পদে বছরের পর বছর চাকরি করছেন শিক্ষা বোর্ডে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের একজন স্থায়ী কর্মচারীর অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষকদের প্রেষণে বোর্ডের অস্থায়ী কর্মকর্তা হিসেবে আনা হয়।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরও তারা আর শিক্ষকতার পেশায় ফিরে যেতে চান না। লবিং-তদবির করে বছরের পর বছর তারা এসব পদ আঁকড়ে ধরে আছেন। ফলে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগ মিলছে না।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বোর্ডে দায়িত্বরত ৪ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় তাদের বদলি করেনি। এটা ঠিক যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে দায়িত্ব পালন করছেন। এটাও মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে। পদোন্নতি পেলেই যে চলে যেতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বোর্ডের অন্য একটি সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন থাকার কারণে অস্থায়ী কর্মকর্তারা বোর্ডের বিভিন্ন কাজে পারদর্শী এবং অভিজ্ঞ হয়েছেন। বোর্ডের স্বার্থেই তাদের অন্যত্র বদলিতে বাধ্য করা হয় না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter