রাজশাহীতে সিমের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

জনপ্রতিনিধি ও ইউএনও’র সিম ক্লোন করে প্রতারণা

  রাজশাহী ব্যুরো ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিম ক্লোন

রাজশাহীতে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল ফোনের সিম ক্লোন করে চলছে প্রতারণা। একাধিক চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না সাধারণ মানুষের সিমও। মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছে সংশ্লিষ্টরা বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এ ধরনের প্রতারণায় মোবাইল ফোন সিমের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজশাহীতে সিম ক্লোন চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এসি ল্যান্ড, থানার ওসি, সংসদ সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্য এবং মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা। রাজনৈতিক দলের নেতারাও তাদের হাত থেকে বাদ যাচ্ছেন না। ক্লোন করা সিম দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কৌশলে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

সোমবার তানোর ইউএনও’র নামে ক্লোন করা সিমের নম্বর দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। এটি জানার পর ইউএনও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ ঘটনার দু’দিন আগে শনিবার বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মোবাইল ফোন সিম ক্লোন করে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে টাকা দাবি করা হয়।

বিষয়টি জানাজানির পর ইউএনও জিডি করেন। এর আগে রাজশাহীর দুইজন ইউএনও’র সরকারি মোবাইল ফোন সিমও ক্লোন করে প্রতারণা করা হয়েছে। রোববার গোদাগাড়ী ইউএনও’র মোবাইল ফোন সিম ক্লোন করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়।

রাজশাহী সিটি নির্বাচনের সময় আরএমপির চন্দ্রিমা থানার ওসির মোবাইল ফোন সিম ক্লোন করে বিভিন্ন জনের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক যুগান্তরকে বলেন, মোবাইল ফোন সিম ক্লোন বলতে সিম হ্যাক করাকে বোঝানো হয়। ব্যালেন্স হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া অথবা সিমের একই নম্বর দু’জন ব্যবহার করলে বুঝতে হবে সিম ক্লোন হয়েছে।

কম্পিউটারের মাধ্যমে মূল সিম ছাড়াই মিসড কল থেকে সিম ক্লোন করা সম্ভব। প্রতারক চক্র তাই করছে। অপরিচিত ফোন থেকে পাওয়া মিসড কল ব্যাক করলে কোনো গ্রাহকের সিম ক্লোন হতে পারে।

অপরিচিত মিসড কল ব্যাক না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কয়েক বছর ধরে ক্লোন সিন্ডিকেট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন সিম ক্লোন করে প্রতারণা করে এলেও এই চক্রের একজনকেও এখন পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে তারা এখন প্রশাসনকেই ব্যবহার করছে।

জানা গেছে, ভিন্ন দুটি অপারেটরের কোড ছাড়া সিমের সব ডিজিট একই রকম হলে অন্য সিম থেকে ফোন করা হলে সিমের ব্যক্তির নাম দেখাবে। তবে কলগ্রহীতার মোবাইল ফোন সেটে ওই ব্যক্তির নাম সেভ করা থাকতে হবে। আর নাম সেভ না থাকলে কলগ্রহীতার কাছে নম্বর দেখাবে। তাই প্রতারকরা সব ডিজিট মিল রেখে শুধু ভিন্ন অপারেটরের সিম ব্যবহার করে প্রতারণা করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিকে টার্গেট করা হয়, যার মোবাইল ফোন নম্বর সেভ করে রাখার সম্ভাবনা থাকে।

বছরখানেক আগে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন এই প্রতারণার শিকার হন।

তিনি বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে কিছু টাকার দরকার’- তার মোবাইল ফোন নম্বর থেকে এমন ফোন পেয়ে তার দুই আত্মীয় ও কয়েকজন কর্মী একটি বিকাশ নম্বরে বেশ কয়েক হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। কণ্ঠস্বর যাচাই না করেই তারা টাকা পাঠান। বিষয়টি জানতে পেরে আয়েন উদ্দিন গ্রামীণফোনের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, শুধু টাকা চাওয়াই নয়, তার মোবাইল ফোন ক্লোন করে অন্য মানুষকে গালিগালাজও করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ভিসিও এই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন। প্রতারক চক্র সম্পর্কে আরএমপি মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। প্রতারকদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এরকম ক্ষেত্রে ফোন কেটে দিয়ে ওই নম্বরে আবার ‘কল’ করতে হবে। ওই নম্বরে ফোন না ঢুকলে বুঝতে হবে, এটা প্রতারকের কাজ। নম্বরটি নতুন করে ফোনে টাইপ করে অথবা সংরক্ষিত থাকলে সেখান থেকে ফোন দিলে প্রকৃত ব্যক্তির কাছে ফোন যাবে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায় অর্থ লেনদেনকারী বিকাশ নম্বর অনুসরণ করে প্রতারককে ধরা যেতে পারে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুর রাজ্জাক খান বলেন, ফোন ক্লোনকারী প্রতারকদের সরাসরি শনাক্ত করার প্রযুক্তি জেলা পর্যায়ের পুলিশ প্রশাসনে নেই। ক্লোনিংয়ের জিডিগুলো সদর দফতরে পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরদের খতিয়ে দেখা উচিত। বিষয়টি তাদেরও জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সেবা বিভাগের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter