চট্টগ্রামে কারাগারে বসেই ছিনতাই সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ

পৌঁছে যায় টাকার ভাগও

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম কারগার
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে কারাগারে বসেই ছিনতাইয়ের সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে হামকা গ্রুপের প্রধান নুর আলম। ছিনতাইকালে পাঁচলাইশ থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর এক বছর ধরে কারাবন্দি সে। তবে কারাগারে থাকলেও শিষ্যরা তার কাছে নিয়মিত ছিনতাইয়ের ভাগের টাকা পাঠাচ্ছে। কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা দিতে এসে সরাসরি কিংবা মোবাইল ফোনে শিষ্যদের দিচ্ছে দিকনির্দেশনাও।

কেউ তার কথা অমান্য করলে অনুগতদের দিয়ে ‘সিস্টেম’ করে তাকে বিপদেও ফেলে এই ছিনতাই সম্রাট। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত ৩৫টি মামলা রয়েছে।

সম্প্রতি নিজাম উদ্দিন নামে গ্রেফতার এক ছিনতাইকারী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য দিয়েছে। পুলিশ তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে হামকা গ্রুপের সদস্যরা ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

১৪ জুন সকালে পাঁচলাইশ এন মোহাম্মদ কনভেনশন সেন্টারের সামনে এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। নিজাম হামকা গ্রুপের প্রধান নুর আলমের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধেও ২০টি মামলা আছে বিভিন্ন থানায়।

৩১ জুলাই চট্টগ্রাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। এতে বলে, তার দলের সদস্য আমির হোসেন বহদ্দারহাট কাশবন হোটেলের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। এ সময় একজন যাত্রী তার গাড়িতে ওঠার জন্য সিগনাল দেয়। ওই যাত্রীর হাতে একটি ব্যাগ ও একটি ছাতা ছিল। যাত্রীকে নিয়ে আমির হোসেন মুরাদপুরের দিকে যায়। পেছন পেছন ইব্রাহিমের সিএনজি করে নিজাম, মিঠু, শহীদ ও মনির অনুসরণ করে।

কৌশল অনুসারে আমির হোসেন এন মোহাম্মদ কনভেনশন সেন্টারের সামনে নষ্ট হয়েছে বলে সিএনজি থামিয়ে দেয় এবং গাড়ির দরজা খুলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে নিজাম, মিঠু এবং শহীদ এসে ওই সিএনজিতে উঠে পড়ে। পরে চলন্ত সিএনজির ভেতরেই অস্ত্র ধরে তার কাছে থাকা টাকার ব্যাগ কেড়ে নেয়।

এরপর ওই যাত্রীকে হোটেল রেডিসন ব্লু’র পাশে জাদুঘরের গলিতে নামিয়ে দিয়ে টাকার ব্যাগটি নিয়ে সটকে পড়ে। ওই ব্যাগে ৫ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকার মধ্যে ড্রাইভার ইব্রাহিমকে ৩০ হাজার, আমির হোসেনকে ৩৫ হাজার, মনিরকে ২৭ হাজার, শহীদকে ৫০ হাজার, মিঠুকে ১ লাখ, নিজাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেয়। বাকি টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা জেলখানায় আটক নুর আলম ও জাহাঙ্গীরের জন্য পাঠানো হয়।

জবানবন্দিতে নিজাম উদ্দিন আরও বলে, নুর আলম ও জাহাঙ্গীর আমাদের গ্রুপের প্রধান। তারা কারাগারে থাকলেও চট্টগ্রামের ছিনতাইয়ের কাজকারবার নিয়ন্ত্রণ করে। নুর আলম আদালতে হাজিরা দিতে এলে ফোনে আমাদের সঙ্গে কথা বলে ও দিকনির্দেশনা দেয়। তাদের কথা অমান্য করলে তারা বিভিন্ন সিস্টেম করে আমাদের বিপদে ফেলে।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালী উদ্দিন আকবর যুগান্তরকে বলেন, হামকা গ্রুপের প্রধান নুর আলম কারাগার থেকে হাজিরা দিতে আদালতে এসেই তার অনুসারীদের ছিনতাই সম্পর্কে নানা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এমন তথ্য উঠে এসেছে হামকা গ্রুপের গ্রেফতার একাধিক সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে। শুধু তাই নয়, অনুসারীরা ছিনতাইকৃত টাকার ভাগও পাঠাচ্ছে কারাগারে। টাকার পাশাপাশি নতুন কাপড়ও তাদের জন্য পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter