‘তুই’ বলায় মেহেদী খুন, আদালতে ৩ জনের স্বীকারোক্তি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হত্যা

কিশোর গ্যাং দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে ‘তুই’ সম্বোধন করায় দক্ষিণখান চেয়ারম্যানবাড়ির নগরিয়া এলাকায় হত্যা করা হয় মেহেদী হাসান শুভকে। গত ৩১ আগস্ট তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি সাইফসহ ৮ জনকে গ্রেফতারের পর হত্যার কারণ সম্পর্কে জানা গেছে। ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতার অন্যরা হল মনির, আরাফাত, সাইফুল, মেহেরাব, আপেল, সিফাত ও সোহেল। ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর দক্ষিণখান ও উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

এ সময় প্রধান আসামি সাইফের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়। রোববার ৮ আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আসামিদের মধ্যে ৩ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও ৫ জনের সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আসামিদের মধ্যে সাইফ ঢাকা মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই এর আদালতে, আসামি আরাফাত ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাসের আদালতে ও আসামি সিফাত ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবীবের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর আসামি মনির হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মেহেরাব হোসেন ও সোহেল রানার ১ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ঢাকা মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরী রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এছাড়া অপর আসামি আপেল শিশু হওয়ায় তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মাসুদুর রহমান বলেন, দক্ষিণখানের চেয়ারম্যানপাড়ার নগরিয়াবাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে ‘শান্ত’ ও ‘আরাফাত’ গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই হাতাহাতি ও মারামারি হতো। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদী খুন হয়। দক্ষিণখানের চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় কিশোরদের বিভিন্ন গ্রুপ সক্রিয় আছে। এদের মধ্য জিম-জিয়াদ গ্রুপ, শান্ত গ্রুপ, আরাফাত গ্রুপ, কামাল গ্রুপ ও আনছার গ্রুপ অন্যতম।

এ গ্রুপগুলো এলাকায় চাঁদাবাজি, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, ছিনতাই, হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আরও বলেন, ঈদুল ফিতরের ১০-১৫ দিন আগে ‘আরাফাত’ গ্রুপের সদস্য কাউসার ওরফে ‘শান্ত’ গ্রুপের হুন্ডা মেহেদীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে। এ ঘটনার রেশ ধরে হুন্ডা মেহেদী ও মেহেদী হাসান শুভকে মারধর করে।

পরে ১৮ আগস্ট মেহেদী হাসান শুভসহ ‘শান্ত’ গ্রুপের সদস্যরা ‘আরাফাত’ গ্রুপের সাইফকে মারধর করে। ৩১ আগস্ট মেহেদী এবং নাজমুল ‘আরাফাত’ গ্রুপের তৌকিরের বাঁ হাতের কবজি ও বুকের বাঁ পাশে সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এরপর থেকে ‘আরাফাত’ গ্রুপের সদস্যরা মেহেদী ও নাজমুলকে মারার জন্য খুঁজতে থাকে।

ঘটনার দিন বিকালে কেসি কনভেনশন হলে একটি জনসভায় ‘শান্ত’ গ্রুপের লোকজন মিছিল নিয়ে আসার সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ‘আরাফাত’ গ্রুপের সদস্যরা মিছিলের ওপর আক্রমণ করে। ‘আরাফাত’ গ্রুপের সানি ও সোহেল মেহেদীকে জড়িয়ে ধরে।

সাইফ ছুরি দিয়ে মেহেদীর বাঁ কানের নিচে আঘাত করে এবং অন্যরা লাঠি দিয়ে মারধর করে। আহত অবস্থায় মেহেদীকে প্রথমে কেসি হাসপাতালে, পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। তার মৃত্যুর ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর নিহত মেহেদীর বাবা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় থানা-পুলিশের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করে ডিবি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×