সিলেটে রাজনীতির হালচাল

গ্রুপ ও উপগ্রুপে বিভক্ত তিন উপজেলা আ’লীগ

দূরত্ব বাড়ছে দ. সুরমা ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জে নেতাকর্মীদের মধ্যে

  আজমল খান, সিলেট ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট দক্ষিণের তিন উপজেলায় অন্তর্কোন্দলে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগ। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দ্বন্দ্ব ও কোন্দলে নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। এ আসনে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া গ্রুপগুলো আবার বিভিন্ন উপ-গ্রুপে বিভক্ত। ফলে দ্বন্দ্ব-কোন্দলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিলেট দক্ষিণের আওয়ামী লীগ।

বিভাগীয় নগরী সিলেটের প্রবেশ মুখের এ আসনটিতে এমন অবস্থা বিরাজ করলেও দায়িত্বশীল নেতাদের অনেকে এ ব্যাপারে উদাসীন। দল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে কেউ কেউ আবার দলীয় কর্মকাণ্ডের চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতে বেশি ব্যস্ত। জায়গা দখল, টেন্ডারবাজি, দালালিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ওলামা লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পরস্পরের বিরুদ্ধে তাদের বিষোদগার ও কাদা ছোড়াছুড়ি অনেকটা নিত্যদিনের ব্যাপার। এখানে আওয়ামী লীগ ত্রিধাবিভক্ত। প্রতিটি গ্রুপে আবার রয়েছে উপ-গ্রুপ।

এসব উপজেলায় তিন বলয়ের শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়াম্যান আবু জাহিদ ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব। আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা মনোনয়ন প্রত্যাশী।

মাহমুদ উস সামাদের বলয়ের নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহ ছমির উদ্দিন। তার সঙ্গে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ। জেলা পরিষদের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শাহ্ ছমির উদ্দিন পরাজিত হওয়ায় দলীয় কোন্দল আরও বেড়েছে। নগরীর কদমতলীতে বসে এমপি বলয়কে ছমির নিয়ন্ত্রণ করেন। এ বলয়ে আরও রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম, যুগ্ম-সম্পাদক রাজ্জাক হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সালাম মর্তু।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক হাবিব বলয়ের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রইছ আলী ও মোগলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম শায়েস্তা। এ বলয়ের সঙ্গে রয়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি বলয়। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদও মাঠে রয়েছেন। তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সুসম্পর্ক রয়েছে। সংগঠনে গ্রুপিংয়ের কথা স্বীকার করে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম বলেন, ব্যক্তিগত মান-অভিমান ও অভিলাষ থেকে এই গ্রুপ-উপগ্রুপ। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ দুটি ধারায় বিভক্ত। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাছিত টুটুল। অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের বলয়ের নেতা শওকত আলী। টুটুল বলেন, ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে এমপি সামাদ চৌধুরীর বিরোধিতার কারণে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে আমি পরাজিত হয়েছি। দলের আদর্শ পরিপন্থী কাজ করায় সামাদ চৌধুরীর সঙ্গে তার মতের অমিল হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মাহমুদ উস-সামাদ চৌধুরী এমপি বলেন, দ্বন্দ্ব গ্রুপিংয়ে বিশ্বাস করি না। একটি মহল অহেতুক ষড়যন্ত্র করছে, প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করিনি। তার দাবি, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকায় ও যোগ্য প্রার্থী না হওয়ায় টুটুল পরাজিত হয়েছেন। বালাগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বহুধা বিভক্ত। একদিকে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান মফুর, অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক আনহার মিয়া। আনহার মিয়া সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং মফুরের অনুসারী। মফুর-আনহার গ্রুপের মধ্যে আবার কয়েকটি উপ-গ্রুপ রয়েছে। আনহার মিয়ার আস্থাভাজন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক জুনেদ মিয়ার নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীদের নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি গ্রুপ রয়েছে। মফুরের কাছের মানুষ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তুহিন মনসুরের নেতৃত্বেও রয়েছে একটি গ্রুপ। বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মফুর বলেন, কর্মীবান্ধব নেতার অভাবে দল বিপর্যস্ত হচ্ছে। রাজনীতির ময়দান থেকে ত্যাগী রাজনীতিবিদরা হারিয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×