বাণিজ্য মেলায় বিক্রি বাড়ায় খুশি বিক্রেতারা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। সকালে জনসমাগম কিছুটা কম থাকলেও জুমার নামাজের পর মেলা মাঠে ভিড় বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার দিকে পুরো মেলা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অবস্থা এমন বেগতিক হয়ে পড়ে যে, মাঠে হাঁটাচলা করারও জায়গা ছিল না। এ কারণে বাচ্চা ও বয়স্কদের নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অন্যদিকে সারি সারি গাড়ি মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকায় সংসদ ভবন-আগারগাঁও এবং শ্যামলী রোডে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট কমাতে ট্রাফিক পুলিশদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সন্ধ্যায় মেলার পার্কিং কানায় কানায় পূর্ণ হওয়ার পর আগতদের সংযোগ সড়কে গাড়ি পার্কিং করতে দেখা গেছে। শুক্রবার মেলা ঘুরে দেখা গেছে, সকালে মেলা খোলার আগে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার মানুষজন টিকিট কেটে প্রবেশের জন্য লাইন ধরে আছেন। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি সপরিবারে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা ঘুরতে আসেন মেলায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপত্তি শুরু হয়। বিকালে মেলা অভিমুখে মানুষের ঢল নামে। মেট্রো রেলের কারণে আগারগাঁও অংশে সড়ক সংকুচিত হওয়ায় ধীরে ধীরে যান চলাচল করে। এছাড়া মেলায় আসা মানুষকে নামাতে বাসগুলোকে দাঁড়াতে হয়। এ দুই কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার দিকে মেলার পার্কিং পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেকে রোকেয়া সরণির রাস্তার ওপর পার্কিং করে। যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকে হেঁটে মেলায় প্রবেশ করেন। ভিড় ও যানজটে কষ্ট পেলেও দর্শনার্থীদের মুখে ছিল আনন্দের ছাপ। নিন্মবিত্ত থেকে বিত্তশালী- সব শ্রেণীর মানুষই পণ্য কিনেন সাধ্যমতো। বাড়ি ফিরতেও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আরেক দফা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকার কারণে মিরপুর, শ্যামলী, ফার্মগেট এলাকার মতো আশপাশের বাসিন্দারা হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান। তারপরও সবার চোখে-মুখে আনন্দের ছাপ স্পষ্ট ছিল।

কুমিল্লা থেকে মেলায় ঘুরতে আসা তানিয়া আহমেদ বলেন, নারায়ণগঞ্জে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম। এ সুযোগে মেলায় ঘুরতে এসেছি। এখানে আসার কারণ হচ্ছে সব গৃহস্থালি সামগ্রী এক জায়গায় পাওয়া যায়। আবার ছাড়ও দেয়।

বিক্রি ভালো হওয়ায় বিক্রেতাদের মধ্যেও ছিল খুশির ছাপ। মেলার ৯৬ বি স্টলে রুটিমেকার বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ স্টলের সামনে অপেক্ষা করে দেখা গেছে বিক্রেতারা দম ফেলানোর সময় পাচ্ছেন না। রিংগো রুটিমেকারের স্বত্বাধিকারী মনিরুজ্জামান জানান, মেলায় নিজেদের উদ্ভাবিত ব্যতিক্রমধর্মী কাঠের তৈরি এ মেকার বিক্রি করছেন। ৩টি দোকানে এ পণ্যটি বিক্রি করছেন। এটি দিয়ে অল্প সময়ে ঝামেলা ছাড়াই রুটি তৈরি সম্ভব। ৩ মডেলের রুটিমেকারের রেগুলার প্রাইস ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। কিন্তু মেলা উপলক্ষে ৫০০ টাকা ছাড় ও তার সঙ্গে সাড়ে ৫০০ টাকার গিফট ফ্রি দেয়া হচ্ছে। আরও বলেন, শুক্রবারের ক্রেতা-দর্শনার্থীর চাপে সন্ধ্যা পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া করতে পারিনি। বিক্রিও ভালো হয়েছে। শুক্রবার প্রায় সব স্টল-প্যাভিলিয়নে বিক্রি ভালো হয়েছে। বিক্রি আরও বাড়াতে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নানা ছাড় ও অফার দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। মেলা উপলক্ষে যমুনা প্যাভেলিয়ন পরিদর্শনে কেনাকাটায় নগদ ছাড়, ভাউচার কুপন ও গিফট কুপন দেয়া হচ্ছে। যমুনা ইলেকট্রুনিক্স প্যাভেলিয়নের ইনচার্জ রায়হান আহমেদ বলেন, দেশীয় ইলেট্রুনিক্স পণ্যের মধ্যে যমুনা ইলেট্রুনিক্স সর্বোচ্চ মানের পণ্য সর্বোচ্চ ছাড়ে বিক্রি করছে। প্রতিটি পণ্য কিনলেই ক্রেতাদের জন্য নিশ্চিত উপহার দেয়া হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় প্রচুর লোক সমাগম হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিক্রি আরও ভালো হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×