অর্ধশতকে চার হাজার পুকুর ভরাট

রাজশাহী মহানগরী : আবহাওয়া চরম ভাবাপন্ন * উদাসীন আরডিএ ও পরিবেশ অধিদফতর

  তানজিমুল হক, রাজশাহী ব্যুরো ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক সময় পুকুরের নগরী হিসেবে রাজশাহীর খ্যাতি ছিল। কিন্তু সে পুকুরগুলো আর নেই। গত অর্ধশতকে একে একে এগুলো ভরাট করে ফেলেছেন প্রভাবশালীরা। তবে গত একযুগে পুকুর ভরাট হয়েছে ঝড়ের গতিতে। গত অর্ধশতকে নগরীর ৪ হাজার পুকুর ভরাট করা হয়েছে। এখন অবশিষ্ট আছে মাত্র আড়াইশ’ পুকুর। অভিযোগ রয়েছে, পুকুর সংরক্ষণে তদারকি প্রতিষ্ঠান রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এবং পরিবেশ অধিদফতরের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ আইনে পুকুর ভরাট নিষিদ্ধ হলেও তা রক্ষায় তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রতিষ্ঠান দুটি। এতগুলো পুকুর ভরাট হলেও এর বিপরীতে আরডিএ মাত্র দুটি মামলা দায়ের করেছে।

আরডিএ এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দেয়া তথ্যমতে, ১৯৬১ সালে রাজশাহী নগরীতে ছোট-বড় পুকুর, দীঘি এবং জলাশয় ছিল ৪ হাজার ২৮৩টি। আর এখন এ সংখ্যা মাত্র ২১৪টি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুকুরগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে রাজশাহীর পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আবাহাওয়া হয়ে উঠেছে চরমভাবাপন্ন। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত এবং গরমকালে বেশি গরম অনুভব করছেন এখনাকার অধিবাসীরা।

জানা গেছে, হেরিটেজ রাজশাহী নামের একটি সংগঠনের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১৩ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত রাজশাহী নগরীর সব জলাশয়, পুকুর, ডোবা ও খাল ভরাটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এরপরও নগরীতে থেমে থাকেনি প্রভাবশালীদের পুকুর ভরাট। প্রভাবশালীরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য একের পর এক তা ভরাট করেছেন। আর সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তাব্যক্তিরা থেকেছেন চোখ বন্ধ করে।

হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী জানান, বর্তমানে এক বিঘা বা তার বেশি আয়তনের পুকুর টিকে আছে ১৬৫টি। এগুলোর প্রতিও রয়েছে শ্যেনদৃষ্টি। নানা কৌশলে ভরাটের প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু নিশ্চুপ ভূমিকায় রয়েছে আরডিএ এবং পরিবেশ অধিদফতর। কোথাও পুকুর ভরাট শুরু হলে সংস্থা দুটি একে অপরের কাঁধে দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে দায় এড়িয়ে যায়। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা পুকুরপাড়ে যাওয়ার আগেই তা ভরাট হয়ে যায়। যেমন- বর্তমানে নগরীর বালিয়াপুকুর এলাকার ছোট বটতলায় পুকুর ভরাট চলছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করলেও এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। এছাড়া নগরীর টিবি পুকুরটি অর্ধেক ভরাটের কাজ চলছে। এখানে নির্মাণ করা হবে শিশু হাসপাতাল।

মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রায় সব পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ায় রাজশাহীবাসী এখন বৈরী আবহাওয়ার কবলে। রাজশাহীকে এখন চরম ভাবাপন্ন গ্রীষ্ম এবং অনাবৃষ্টির অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর হওয়া দরকার।’

এদিকে আরডিএ নগরীর ২০টি পুকুর সংরক্ষণের ঘোষণা দিলেও পুকুরগুলো সংরক্ষণে এখনও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উল্টো সংস্থা দুটিই বড় বড় পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। কয়েক বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে আরডিএ মার্কেট। জলাশয় ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল। পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলছেন, ‘রাজশাহীতে হাতেগোনা যেসব পুকুর টিকে আছে সেগুলো রক্ষা করতে হলে এখনই সেগুলোকে সংরক্ষিত ঘোষণা করে সাইনবোর্ড ঝোলাতে হবে।’ তবে রাজশাহী পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, পুকুরগুলো রক্ষায় তাদের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা নিতে হয়। তিনি বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে পুকুর ভরাটকালে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো যায় না। তবে খবর পেলেই ভরাটকারীকে নোটিশ পাঠিয়ে তা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি।’ জানতে চাইলে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নগর পরিকল্পক আজমেরী আশরাফী বলেন, নগরীতে বর্তমানে সংরক্ষণযোগ্য পুকুর রয়েছে ২৫২টি। এগুলো যদি কেউ ভরাট করতে চায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×