ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর

কাঁচাবাজারে তদারকি কম

নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ-গোলাম রহমান * অভিযানে নতুন রোডম্যাপ -মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার

  ইয়াসিন রহমান ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাঁচাবাজার

ভোক্তা যাতে পণ্য কিনে প্রতারিত না হন, এজন্য দেশে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

সপ্তাহের পাঁচ দিন থেকে বাড়িয়ে এই তদারকি ছয় দিনে আনা হয়েছে। তবে সুপার শপ, রেস্টুরেন্ট ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে বেশি মনিটরিং করা হলেও তেমনভাবে তদারকি নেই কাঁচাবাজারে। সাধারণ ভোক্তারা বলছেন, অধিদফতরের মনিটরিং টিম ভোক্তার জন্য যথেষ্ট কাজ করছেন।

তবে সব ধরনের মানুষ সুপার শপ, রেস্টুরেন্ট ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে কেনাকাটা করে না। কাঁচাবাজার থেকে বেশির ভাগ মানুষ খাদ্যপণ্য কেনাকাটা করেন। আর প্রতিনিয়ত এখানে পণ্যের দাম বাড়ানো নিয়ে চলে ব্যবসায়ীদের কারসাজি। তাই ভোক্তা যাতে কাঁচাবাজার থেকে পণ্য কিনে না ঠকেন, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের আরও বেশি তদারকি করা দরকার।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ মাসে (১৫০ দিনে) কাঁচাবাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে মাত্র ১০ দিন। আর বাদবাকি সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, রেস্টুরেন্ট, খাবারের হোটেল, সুপার শপসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও বিদেশি কসমেটিক্স বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, ভোক্তা অধিকার যেসব জায়গায় ক্ষুণ্ণ হয় ওইসব জায়গায় মনিটরিং টিমের অভিযান করা উচিত। এছাড়া ভোক্তাদের প্রত্যাশা অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে যেমন অভিযান করা হয়, তেমনি সাধারণ কাঁচাবাজারেও বেশি করে তদারকি করা দরকার। তাই সুপার শপ ও রেস্টুরেন্টে অভিযানসহ কাঁচাবাজারে তাদের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। এতে কাঁচাবাজারে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবে না। আর ভোক্তারাও সঠিক মূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন।

রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, কাঁচাবাজারগুলোতে তাদের উপস্থিতি অনেক কম। কাঁচাবাজারে বিক্রেতারা প্রতি সপ্তাহে কারসাজি করে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। আবার সুযোগ বুঝে কমানো হচ্ছে।

এ বিষয়গুলো মনিটরিং সেলের বিশেষভাবে নজর দেয়া উচিত। মালিবাগ কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা গৃহিণী আসমা বেগম যুগান্তরকে বলেন, কাঁচাবাজারে অভিযান চালিয়ে মাংস ব্যবসায়ী ছাড়া অন্য দোষী ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতায় এনেছেন এটা আমার চোখে পড়েনি।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা সরকারি কর্মকর্তা ইকরামুল হাসান যুগান্তরকে অভিযোগ করেন, যে টাকা বেতন পাই তা দিয়ে নিত্যপণ্য কিনে সংসারের অন্যান্য খরচ বহন করতে কষ্ট হয়। কারণ বাজারে কিছুদিন পরপর একেক পণ্যের দাম বাড়ছে আবার কমছে।

এছাড়া কোনো ধর্মীয় উৎসব আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। আবার উৎসব শেষ হলে দাম কমাচ্ছে। মুনাফা করতে এটা তাদের এক ধরনের কারসাজি। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ওইসব অতিমুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে দেখছি না।

তাই ভোক্তার কথা চিন্তা করে এসব ব্যবসায়ীকে ভোক্তা আইনে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এজন্য বেশি করে কাঁচাবাজারে তদারকি করা দরকার। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে আমরা কাঁচাবাজার মনিটরিং শুরু করেছি।

আমি ও আমার আরও সদস্য ও আর্ম পুলিশ ব্যাটালিয়নকে সঙ্গে নিয়ে কাঁচাবাজারে অভিযান পরিচালনা করেছি। আমরা ভোক্তার ন্যায়ের জন্য কাজ করছি। তাই ভোক্তার কথা ভেবে কাঁচাবাজারে অভিযান বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার কাঁচাবাজারগুলোতে অধিদফতরের পক্ষ থেকে বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলছি। এমনকি বাজার কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছি।

যাতে করে তারা কারসাজি করে দাম না বাড়ায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা আলাদা মনিটরিং সেল গঠন করে বিশেষভাবে কাঁচাবাজার মনিটরিং করব। তখন কোনোভাবে ভোক্তাকে ঠকানোর প্রমাণ পেলে ভোক্তা আইনে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter