বেগম রোকেয়া ভার্সিটি

মধ্যরাতে ক্লাস নেন ভিসি!

  রাব্বী হাসান সবুজ, বেরোবি প্রতিনিধি ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্লাস

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ভিসি ঢাকা থেকে মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে আসেন।

আর নির্ধারিত কোর্সগুলোর নামকাওয়াস্তে ক্লাস নেন মধ্যরাতে। নিজ কার্যালয়, সিন্ডিকেট, কনফারেন্স রুম এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বাধ্যতামূলক উপস্থিত রেখে এসব ক্লাস নেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই।

ক্লাস নেন সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। ক্লাস শেষ করে আবাসিক হল, মেসে প্রবেশ করতে শিক্ষার্থীদের পোহাতে হয় ভোগান্তি। কখনও কখনও পড়তে হয় ছিনতাইকারীর কবলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েক শিক্ষক জানান, মধ্যরাতে ক্লাস নেয়া ও ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতির কারণে সমালোচিত হওয়ার পরেও বিতর্কিত কাজ করেই যাচ্ছেন ভিসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ায় যা ইচ্ছা তাই করছেন। তার কাজে বাহবা দেয়ার জন্য শিক্ষকদের একটি গ্রুপ তৈরি করেছেন তিনি।

রোববার সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন বাংলাদেশ’ কোর্সের ক্লাস নেয়ার কথা ছিল ভিসির। সেই ক্লাস শুরু হয় রাত ১১টা ৫ মিনিটে। শেষ হয় রাত ১২টার দিকে।

গভীর রাতে ভিসির ক্লাস করে মেসে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর হামলায় জখম হয় ফরহাদ হোসেন এলিট নামে এক শিক্ষার্থী। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শহীদ মুখতার ইলাহী হল থেকে শিক্ষার্থীরা নেমে এসে ভিসির বাংলোর সামনে বিক্ষোভ দেখান।

এ সময় বাংলো লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়েন তারা। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বিক্ষোভ চলে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভিসি বেশির ভাগ সময় ঢাকায় থাকেন। মাঝে মাঝে আসলে গভীর রাত পর্যন্ত ক্লাস নেন। এতে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। রুমে ফিরতে হয় অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে।

এটা মানা যায় না। বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া বলেন, ভিসি দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়ে যাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মেয়েদের ঝুঁকিটা বেশি। যদি কোনো শিক্ষার্থী কোনো দুর্ঘটনায় পড়েন এর দায়ভার কে নেবে?

আমরা চাই শিক্ষার্থীদের এ ধরনের হয়রানি বন্ধ করা হোক। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘ভিসি স্যার সব সময় সময়ের অজুহাত দেখান। সময় না পেলে ক্লাস নেয়ার কী দরকার।’ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখ যুগান্তরকে বলেন, ভিসি গভীর রাতে ক্লাস নেন তার প্রতিবাদে আমরা মাঠে নেমেছি।

আমরা চাই না রাতে ক্লাস নেয়ার কারণে নিরাপত্তাহীনতায় থাকুক শিক্ষার্থীরা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর দফতরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাইলেও পিএস আমিনুর ব্যবস্থা করেননি। তিনি জানান, স্যার সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেন না। এরপর জনসংযোগ দফতরের কর্মকর্তা আরিফুল হকের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ভিসির বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবু কালাম ফরিদ উল ইসলাম। তিনি জানান, এ রকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমি একজন শিক্ষক। চাইলে আমিও মধ্যরাতে ক্লাস নিতে পারব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি শিক্ষার্থীরা চাইলে ভিসি স্যার আর ক্লাস নেবেন না। এছাড়া আর কিছু জানি না।’ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘কোর্স শিক্ষক কখন ক্লাস নেবেন আর শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে ক্লাস করবেন কি না এটা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বিষয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter