রিমান্ডে ১২ শিক্ষার্থীর স্বীকারোক্তি

ছাত্র আন্দোলনকে উসকে দিতে ছদ্মবেশে ঢুকে পড়েছিল ওরা

সবাই শিবিরের সক্রিয় নেতাকর্মী- ডিবি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গুজবের মামলায় ২ দিনের রিমান্ডে ১২ ছাত্র চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। তারা জানিয়েছে, ছাত্র আন্দোলনকে উসকে দিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে সাধারণ ছাত্রের কাতারে ঢুকে পড়েছিল তারা। পুলিশের গাড়িতে মার্কার দিয়ে অশ্লীল ভাষায় লেখা, বিভিন্ন লোকজনের গাড়িতে অশ্লীল ভাষায় লেখাসহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল তারা। এসব কর্মকাণ্ডে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করলেই এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার উদ্দেশ্য ছিল। রিমান্ডের প্রথম দিনে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে এমন তথ্য ছাড়াও আরও বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে ওই ছাত্ররা। গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মশিউর রহমান যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মশিউর রহমান জানান, গ্রেফতার ১২ জনের সবাই শিবিরের সক্রিয় নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে তারেক আজিজ অনেক বড় মানের আইটি বিশেষজ্ঞ। সে পলিটেকনিক্যালের ছাত্র। আর জাহাঙ্গীর ঢাকা মহানগরীর তেজগাঁও আবাসিক ওয়ার্ডের সভাপতি। বোরহান ও রায়হানও শিবিরের সক্রিয় নেতা। রিমান্ডে তারেক আজিজ স্বীকার করেছে, সে মার্কার দিয়ে বিভিন্ন গাড়িতে অশ্লীল কথাবার্তা লিখেছে। এতে সে তার দলের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। আবার সে আন্দোলনরত সহকর্মীদের ভয় না পাওয়ার সাজেশন দিয়েছে। সে নিজে ফেসবুকে ঝিগাতলাসহ বিভিন্ন স্থানে তথ্য সংগ্রহ করে নানা ধরনের গুজব প্রচার করেছে। জাহাঙ্গীর আলম আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে যাওয়া শিবিরের লোকজনকে কম দামে খাবার খাওয়ানো এবং পোশাক সংগ্রহ করে দেয়ার কাজ করত। সে শিবিরের একটা শীর্ষ স্থানীয় পোস্টে রয়েছে। এরা হ্যান্ডমাইকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। শুধু তাই নয়, এদের কাছে হাতুড়ি-বাটালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিল। সুযোগ পেলেই এগুলো দিয়ে হামলা করার পরিকল্পনা ছিল ওদের। তিনি জানান, তারা যে প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচয় গোপন করে নটর ডেম কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, শাহীন কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের ইউনিফর্ম সংগ্রহ করে সেগুলো গায়ে দিয়ে তারা আন্দোলনে ঢুকে পড়ে। এদের অনেকেই শিবিরের নতুন কমিটির সদস্য। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের নিজেদের আরও সংঘটিত করার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে ওরা। রিমান্ডে যাওয়া শিক্ষার্থীরা হল- তারেক আজিজ, তারেক, জাহাঙ্গীর আলম, মোজাহিদুল ইসলাম, মো. আল আমিন, জহিরুল ইসলাম, মো. বোরহান উদ্দিন, ইফতেখার আলম, মেহেদী হাসান রাজিব, মো. মাহফুজ, সাইফুল্লাহ ও রায়হানুল আবেদিন। সোমবার দুপুরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা দুটি মামলায় ১২ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। পরে তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

এর আগে সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান গ্রেফতার ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, তারা ২৯ আগস্ট শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন উস্কানিমূলক লেখা, পোস্ট, ফটো ও ভিডিও’র মাধ্যমে গুজব ছড়ায়। এর আগে রোববার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে ১২ জন ছাত্রকে ৪ দিন ধরে অন্যায়ভাবে আটক রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। অথচ তাদের আটক বা গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার করা হচ্ছে না। এমনকি তাদের আদালতেও সোপর্দ করা হচ্ছে না। অভিভাবকরা বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তেজগাঁও-মহাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমাদের সন্তানসহ অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে ডিবি কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকজনকে ছেড়ে দেয়া হলেও আমাদের আরও ১২ সন্তানকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter