সাভারে সিটি ইউনিভার্সিটির ছাত্র হত্যা

মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট, সাভার

বহিরাগত সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সাভারের বিরুলিয়ায় সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন হত্যা মামলায় ১৬ জনকে আসামি করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। একমাত্র সন্তান সিফাত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। গত ২৮ জুলাই এ চাঞ্চল্যকর মামলার তৃতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক আবুল বাসার এ চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন। বুধবার আদালত এ চার্জশিট গ্রহণ করেছেন। এর আগে এ হত্যা মামলাটি সাভার মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করেছে।

এ মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ১৬ জনের নাম পুলিশের কাছে আসে। এদের মধ্যে ৬ জন গ্রেফতার হওয়ার পর ৫ জন জামিনে আছে। বাকি ১০ জন পলাতক রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে পুলিশ জানায়, ০৯-০৪-১৭ সালে সিটি ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শাহেদ তার বান্ধবী মাহির সঙ্গে বসে আনারস খাওয়ার সময় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মামুন, বাপ্পি ও শাওন সেখানে বসে থাকা শাহেদ ও মাহির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এ ব্যাপারে সিনিয়র ছাত্রদের মাধ্যমে বিষয়টি মিলমিশ হয়ে গেলে অসৌজন্যতার জন্য ছাত্রদের কান ধরে ওঠবস করানো হয়। এতে তারা

ভীষণভাবে অপমানিত বোধ করে এবং পরের দিন আসামি ছাত্র মামুন, বাপ্পি, জাহিদুল, এজানুর, আতিক হোসন বিটু তাদের বহিরাগত সহযোগী সোহেল মোর্শারফ, মো. অশ্রু, রিফাত, নাহিদ, সাঈদ বাবু, রাসেল, জুবায়ের, সালমান, আবু বকর সিদ্দিক ও মাসুম মোল্লার কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে ৬-৭টি মোটরসাইকেল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের মাঠে অবস্থান নেয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে বহিরাগতদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ধাওয়া দিলে কুসুম মোল্লা শাওন ও অশ্রু পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এ সময় কয়েক ছাত্রের হাতে-পায়ে গুলি লাগলেও দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্র সিফাত উল্লাহর বুকে একটি গুলি লাগে। এ সময় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে সহপাঠীরা তাকে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। এ সময় আহত ছাত্রদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তদন্তে এ মামলায় মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সিফাতের বাবা মাহফুজুর রহমান মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, অভিযোগপত্রটি বুধবার আদালত গ্রহণ করেছে। তার ছেলের হত্যা মামলার সব আসামিই চার্জশিটে এসেছে। মাত্র একজন জেলে থাকা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ১৬ জনের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করলেও তাদের ৫ জনই জামিনে আছেন।