আগামী সপ্তাহে শেষ হবে যুক্তিতর্ক

এরপর রায়ের দিন নির্ধারণ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট চালানো নারকীয় গ্রেনেড হামলা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন আগামী সপ্তাহে শেষ হবে। আর এরপরই আদালত রায় ও আদেশ ঘোষণার দিন নির্ধারণ করবেন।

বুধবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ল’ পয়েন্টের ওপর দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান আগামী সম্পাহের তিন কার্যদিবস এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন নির্ধারণে আদালতের প্রতি অনুরোধ জানান। জবাবে আদালত আগামী সপ্তাহে দুই কার্যদিবসের মধ্যে যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার কথা জানিয়ে ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্কের পরবর্তী দিন ধার্য করেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, এনএসআইয়ের (জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা) সাবেক দুই মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ কারাগারে থাকা ২৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষে ল’ পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবু আবদুল্লাহ ভূঞা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা চিরস্থায়ী করাই ছিল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। লস্কর-ই-তৈয়বা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সহায়তায় এ ন্যক্কারজনক হামলা করেছে। মামলাটি তদন্ত না করে জজ মিয়া নাটক সাজানো হয়। আসামি আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই অপর আসামি মাওলানা তাজউদ্দিনকে বাদল নামে পাসপোর্ট দিয়ে পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল ও আসামিদের ষড়যন্ত্র রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

দুপুর ১টা ৮ মিনিটের দিকে তিনি তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। এরপর ল’ পয়েন্টের ওপর রাষ্ট্রপক্ষের অপর কৌঁসুলি আকরাম উদ্দিন শ্যামল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে তিনি বলেন, অনুসারে ফারদার ইনভেস্টিগেশন সঠিক ছিল। এ ছাড়া মুফতি হান্নানের দেয়া দ্বিতীয় বারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। দুপুর ১টা ৫২ মিনিটের দিকে আকরাম উদ্দিন শ্যামল তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান ল’পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তিনি বলেন, এ মামলায় যে ফারদার ইনভেস্টিগেশন করা হয়েছে, তাতে সামান্যতম আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। মামলায় মুফতি হান্নান দুই বার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দির কিছু অংশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে।

দুপুর আড়াইটার দিকে সৈয়দ রেজাউর রহমান তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক বলেন, প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষের) বলার পর আসামিপক্ষের যদি কিছু বলার থাকে, তারপর এ যুক্তিতর্ক সমাপ্ত ঘোষণা করব। এরপর সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, আগামী সপ্তাহে প্রয়োজনে তিন কার্যদিবস যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করা যেতে পারে। জবাবে বিচারক বলেন, এত সময় লাগবে না। আপনারা (রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ) বক্তব্য গুছিয়ে নিয়ে আসবেন।

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও এরপর যদি আসামিপক্ষের কিছু বলার থাকে তাহলে তারা ১৮ সেপ্টেম্বর বলবেন। এরপর আসামিদের স্বজনেরা যারা আসামিদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন, তাদের প্রত্যেকের ২০ মিনিট করে আসামিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেন আদালত।

আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সৈয়দ রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আশা করেছিলাম আগস্ট মাসের মধ্যেই এ মামলার রায় ও আদেশ পাব। কিন্তু তা হল না। এখন আমরা শেষ প্রান্ত এসে গেছি। অচিরেই রায় ও আদেশের দিন পাব।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter