কর্মশালায় ইউপি চেয়ারম্যানদের অসন্তোষ

গ্রামে সমস্যার শেষ নেই

শহর ও গ্রামে সমান্তরাল উন্নয়ন হয়েছে : এলজিআরডি মন্ত্রী * নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ও বঞ্চনার অভিযোগ * অডিট ফার্ম বাতিলের আবেদন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রামে সমস্যা

কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিষয়ক ওয়ার্কশপে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও বঞ্চনার অভিযোগ তুলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত জনগণের জন্য কাজ করেন। বিভিন্ন দাওয়াত অনুষ্ঠান, অসহায় দুস্থদের সহযোগিতা এবং নানাবিধ সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা খরচ হয়। অথচ তাদের সম্মানী দেয়া হয় মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা।

আর সাড়ে চার হাজার টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। অথচ ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। এ অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সরকার ব্যবসা করার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। তাহলে কীভাবে চলবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের জীবন।

এসব কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা কোনোভাবে টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছেন, তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা করছেন। সত্যিকারের রাজনৈতিক নেতা বা জনসেবা করার ইচ্ছা যাদের আছে, তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সময় তারা স্থানীয় সরকার বিভাগের অডিট ফার্মের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দুর্নীতিবাজ অডিট ফার্মকে বাতিল করার আবেদন জানান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ইউনিয়ন ও উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ওয়ার্কশপে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ড. জাফর আহমদ খান।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ৪ নম্বর নাসিরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী লাবলু বলেন, আপনারা এসি রুমে বসে পলিসি মেকিং করেন। এসব পলিসি দিয়ে জনগণের কোনো উপকার হচ্ছে না। কেননা আপনারা মাঠের অবস্থা জানেন না। মাত্র সাড়ে ৪ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দেন। এটা দিয়ে কিছুই হয় না আমাদের। দাওয়াত খেতে ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিতে এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা করা হচ্ছে। কোনো ইউনিয়নে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ৫ লাখ টাকা। আবার কোনো ইউনিয়নে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ৪০ লাখ টাকা। ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতার কারণে এমন হচ্ছে বলা হলেও এটা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত হতে পারে না। এখানে স্বেচ্ছাচারিতা করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. হাবিবুল বাশার বলেন, এলাকার কেউ বিষ খেলে, সাপে কামড়ালে আমাদের ঘটনাস্থলে ছুটে যেতে হয়। অথচ আমাদের কোনো যানবাহন নেই। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের যানবাহন সুবিধা দিতে হবে।

তিনি বলেন, ইউনিয়নগুলোতে সরকার ভিজিএফের ২০-৩০ টন খাদ্য দিলেও সেসব পরিবহনের কোনো টাকা দেয়া হয় না। তাহলে এসব কীভাবে আনা-নেয়া ও বিতরণ করা হবে। সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের ব্যবহার করে সরকার নানাবিধ উন্নয়ন কাজ ও সার্ভে করে থাকে।

অথচ আমাদের উন্নয়নে সরকারের কোনো পরিকল্পনা দেখছি না। আমি সরকারকে এই বলে আশ্বস্ত করতে পারি যে, সরকার যদি আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে দেন, তাহলে উন্নয়ন দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমান বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমকম পাস করে দু’বার বিসিএস ভাইভা দিয়ে চাকরি না পাওয়ায় ব্যবসা শুরু করি।

পরবর্তীকালে জনসেবার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছি। আরও বলেন, আমার পেশা ব্যবসা হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানী না হলেও আমার চলে।

আমি প্রতি মাসে ব্যক্তিগত খাত থেকে ইউনিয়ন পরিষদের কাজে ব্যয় করি অন্তত ৫০ হাজার টাকা। আপনারা যারা ওপরে বসে আছেন, তারা মনে করছেন, দেশ অনেক উন্নত হয়ে গেছে।

আসলে তা নয়, গ্রামে আসুন, দেখবেন মানুষের সমস্যার কোনো শেষ নেই। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার দেশের স্থানীয় সরকার বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে শহর ও গ্রামে সমান্তরাল উন্নয়ন হয়েছে।

এখন দেশের যে কোনো শহর থেকে যে কোনো গ্রামে ৩০ মিনিটে অনায়াসে চলে যাওয়া যায়। তিনি বলেন, দেশে ৪ হাজার ৫৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বাকিগুলোতে পর্যায়ক্রমে এ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলায় (৪৯২টি) ৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম-মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, দেশের স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরকে (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন) শক্তিশালী করতে সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দেশের প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জি, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসারে ডেপুটি হেড অব মিশন বিয়াতে এলসেসার, ডেনমার্ক দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন রেফিকা হায়তাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং এনজিও প্রতিনিধিরা।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter