টাঙ্গাইল থেকে সিলেটে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন

  বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রেমের প্রলোভন

সিলেটের বিশ্বনাথে উদ্ধার হওয়া কিশোরীর লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে টাঙ্গাইল থেকে সিলেটের বিশ্বনাথে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

খুন হওয়া ওই কিশোরী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নগরভাত আউটপাড়া গ্রামের আতাউর রহমানের মেয়ে রুমি আক্তার। সে স্থানীয় মৈশামুড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। ওই ছাত্রীকে শফিক মিয়া টাঙ্গাইল কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে।

এ ঘটনায় পুলিশ মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চারজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন, বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের ওয়াব উল্লাহর ছেলে শফিক মিয়া, তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হ্যাপী, তার দুই ভাবি দিপা বেগম ও লাভলী বেগম। শফিক মিয়াকে মির্জাপুরে নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

শফিক ওই ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন। তাদের গ্রেফতারের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে বুধবার থানা কম্পাউন্ডে প্রেস ব্রিফিং করে থানা পুলিশ। এ সময় ওসি শামছুদ্দোহা বলেন, শফিকের শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে পড়লে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে।

একই ওয়ার্ডে অসুস্থ রুমি আক্তারকে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। এতে স্কুলছাত্রী রুমির সঙ্গে পরিচয় হয় শফিক মিয়ার। ৯ সেপ্টেম্বর রুমিকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথের রামচন্দ্রপুর নিজ গ্রামে নিয়ে যায় শফিক।

সেখানে ধর্ষণের পর একটি খালের পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে তার লাশ পাশের পাঠাকইন গ্রামের তবারক আলীর বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে রাখে। হত্যার পরই টাঙ্গাইলে পালিয়ে যায় ঘাতক শফিক মিয়া। পরে লাশটি অজ্ঞাতনামা কিশোরীর হিসেবে উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

লাশ উদ্ধারের পর থেকে শফিকের স্ত্রী অতি আগ্রহী হয়ে আসামিদের ধরতে বারবার পুলিশকে ফোন করেন। এতে পুলিশের সন্দেহ হলে প্রথমে তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হ্যাপীকে গ্রেফতার করে। এতে বেরিয়ে আসে ঘাতক শফিকের নাম।

ঘটনার প্রায় আট দিন পর ওই লাশের পরিচয় এবং ঘাতকদের গ্রেফতার করে পুলিশ। আর রুমিকে হত্যার ঘটনা দেখে পুলিশকে অবগত না করায় শফিকের দুই ভাবিকে গ্রেফতার করা হয়। শফিক মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীকে ধর্ষণের পর একাই হত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

রুমির বড় ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, ৪ সেপ্টেম্বর তার বোন অসুস্থ হলে ওই হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখান থেকে তার বোনকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথে নিয়ে খুন করা হয়েছে। তিনি তার পরিবারের পক্ষ থেকে এর বিচার দাবি করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×