সিলেটে রাজনীতির হালচাল

তিন উপজেলায় বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না

  আজমল খান, সিলেট ব্যুরো ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট দক্ষিণের তিন উপজেলায় বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। সাংগঠনিক অবকাঠামো থাকলেও কোন্দল ও বিভক্তিতে হতাশ নেতাকর্মীরা। এমন অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই টেনশন বাড়ছে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের। দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। এখানে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য থাকলেও বিএনপির জনসমর্থন বেশি বলে দাবি দলীয় নেতাকর্মীদের।

এই তিন উপজেলায় বিএনপি তিনটি বলয়ে বিভক্ত। এখানে নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এমএ সালাম। তারা তিনজন এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

শফি চৌধুরী বলয়ের নেতৃত্বে আছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাব উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত হয়েছেন আলী আহমদ। পরাজয়ের জন্য দলীয় কোন্দলই প্রধান কারণ বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। কাইয়ুম চৌধুরীর বলয়ের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি কোহিনুর আহমদ। এছাড়া এই বলয়ের সঙ্গে রয়েছে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি বড় অংশ। ব্যারিস্টার এমএ সালাম যুক্তরাজ্যে থাকলেও তার ভাই হাবিবুর রহমান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থার জন্য বর্তমান কমিটিকে দায়ী করে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজরুল ইসলাম তাজুল বলেন, একপেশে কমিটি হওয়ায় ত্যাগী নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঝিমিয়ে পড়ার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, সময়মতো বিএনপি ফের জেগে উঠবে। দক্ষিণ সুরমা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বলেন, কেন্দ্র ঘোষিত সব কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে বিএনপি। ঘরে বসে রাজনীতি করার দিন শেষ। দলীয় কোন্দলের জন্য বর্তমান কমিটিকে দায়ী করে কোহিনুর আহমদ বলেন, রাজনীতির জন্য পরীক্ষিত নেতাকর্মী প্রয়োজন। এভাবে দল চলতে পারে না। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের পর কর্তৃত্বহীন বিএনপিতে গ্রুপিং রাজনীতি চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার ও সাধারণ সম্পাদক এম মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। গ্রুপিংয়ের জেরে গত বছরের ২৯ আগস্ট উপজেলার দেওয়ানবাজারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এমনকি ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পালন করা হয়। বালাগঞ্জে তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপ হামলা করে। কামরুল হুদা বলেন, বর্তমান সরকারের দমন-পীড়নের কারণে রাজনীতি কঠিন সময় পার করছে। আমি দ্বন্দ্ব-কোন্দল নয়, জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী।

ফেঞ্চুগঞ্জে উপজেলা বিএনপি দুটি ধারায় বিভক্ত। বিএনপির সভাপতি সুফিয়ানুল করিম চৌধুরী ও দলের সাধারণ সম্পাদক তছলিম আহমদ পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। যুবদল ও ছাত্রদলও বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সুফিয়ানুলের সঙ্গে রয়েছে দলের একটি বড় অংশ। তছলিমের সঙ্গেও রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও যুবদলের একটি অংশ।

সুফিয়ানুল বলেন, মামলা-হামলা ও নিপীড়নের শিকার নেতাকর্মীরা এবং এগুলো মোকাবেলা করতেই তারা ব্যস্ত থাকেন। ফেঞ্চুগঞ্জে বিএনপিতে কোনো দ্বন্দ্ব নেই বলে তার দাবি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×